ভোলায় আরও গ্যাস ক্ষেত্র পাওয়ার সম্ভাবনা
jugantor
যুগান্তরকে জেলা প্রশাসক
ভোলায় আরও গ্যাস ক্ষেত্র পাওয়ার সম্ভাবনা
সিসমিক জরিপ প্রয়োজন

  অমিতাভ অপু, ভোলা  

০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ভোলায় পরীক্ষামূলক আরও কয়েকটি গ্যাসকূপ খনন করার দাবি জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহা. সেলিম উদ্দিন। সোমবার যুগান্তরকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, বিশেষজ্ঞদের মতে দ্বীপজেলা ভোলা গ্যাসের ওপর ভাসছে। এখানে চান ট্রিলিয়ন ঘনফুটের বেশি মজুদ গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

জেলায় বর্তমানে তিনটি গ্যাসক্ষেত্রে ছয়টি কূপ খনন করা হয়। তাতে গ্যাসের মজদ রয়েছে ১ দশমিক ৭৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট। দু’বছর আগের সিসমিক থ্রিডি জরিপের ফলে আবিষ্কার হয় দুটি গ্যাসক্ষেত্র শাহবাজপুর ইস্ট-১ ও ভোলা নর্থ-১ । এ দুটি ক্ষেত্রে দুটি কূপ খনন করা হয়েছে। গত মাসে শাহবাজপুর ইস্ট-১ কূপের মজুদ পাওয়ো গেছে ৭০০ বিলিয়ন ঘনফুট। সর্বশেষ চলতি সপ্তাহে আবিষ্কৃত ভোলা নর্থ-১ কূপে গ্যাসের মজুদ রয়েছে ৬০০ বিলিয়ন থেকে ৭০০ বিলিয়ন ঘনফুট। জেলা প্রশাসক বাপেক্সের বরাত দিয়ে জানান, এখানে আরও গ্যাসের মজুদ রয়েছে, যা খুঁজে বের করতে অনুসন্ধান কূপ খনন করা প্রয়োজন।

ভোলা নর্থ-১ কূপ থেকে পরীক্ষামূলক গ্যাস উত্তোলন শুরু করার পর বাপেক্স ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নওশাদ ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ভোলা নর্থ-১ দেশের ২৭তম গ্যাসক্ষেত্র। ভোলায় আরও গ্যাসক্ষেত্র পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের জন্য সুখবর হচ্ছে ভোলার মজুদ। বর্তমানে ভোলায় যে পরিমাণ মজুদ রয়েছে। তা ব্যবহারের ক্ষেত্র তৈরি হয়নি।

তিনি জানান, তারা উত্তোলন করা গ্যাস সরবরাহ করতে প্রস্তুত রয়েছেন। যারা বিতরণ করবেন তাদের পরিকল্পনা পেলেই ওই বিতরণ শুরু হবে। বর্তমানে মাত্র চারটি কূপ শাহবাজপুর-১, শাহবাজপুর-২, শাহবাজপুর-৩ ও শাহবাজপুর-৪ থেকে বাণিজ্যিকভাবে গ্যাস উত্তোলনের জন্য কূপ প্রস্তুত রয়েছে। একটি ক্ষেত্রের চারটি কূপে প্রায় এক ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মজুদ রয়েছে। প্রতিদিন ৮৫ এমএমসিএফ গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব।

বাপেক্স সূত্র জানায় শাহবাজপুর-১ থেকে দৈনিক পাওয়া যায় ১৫ এমএমসিএফ গ্রাস। শাহবাজপুর-২ কূপ থেকে দৈনিক ২৫ এমএমসিএফ, শাহগবাজপুর-৩ থেকে ২০ এএমসিএফ, শাহবাজপুর-৪ কূপ থেকে ২৫ এমএমসিএফ গ্যাস উত্তোলন ও সরবরাহ সম্ভব। বর্তমানে ভোলায় উত্তোলন করা গ্যাসের মধ্যে ব্যয় হচ্ছে মাত্র ৪৫ এমএসসিএফ গ্যাস। জিউলজি অ্যান্ড জিওফিজিক্স লিমিটেডের প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, ভোলায় গ্যাস আছে এমন প্রতিবেদন প্রথম প্রকাশ পায় ১৯৫২ সালে। ১৯৫২ সাল থেকে ১৯৫৯ সাল পর্যন্ত জরিপ, গ্যাসক্ষেত্র হিসেবে শাহবাজপুর চিহ্নিত করা হয়। পাকিস্তান সেল অয়েল কোম্পানি সিঙ্গেল কনডাকটেড ২ডি সিসমিক জরিপ করে। পরে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৪-৭৫ সালে ফেইস-২ প্রকৃত সিসমিক জরিপ করা হয়। ফেইস-৩ এ ১৯৮৭ সালে বিওজিএমসি ফের সিসমিক জরিপ করে। ওই জরিপ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ১৯৯৪ সালে শাহবাজপুর-১ গ্যাসক্ষেত্রে খনন শুরু হয়। ১৯৯৫ সালে উত্তোলন করা গ্যাসে আগুন প্রজ্বালন করা হয়।

২৭ বছর পর বর্তমান সকারের আমলে উদ্যোগ নেয়া হয় ফেইস-৪ হিসেবে নতুন গ্যাস ক্ষেত্র খুঁজে বের করার । ২০১৪-১৫ সালে বাপেক্সের তত্ত্বাবধানে ৬০০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় থ্রিডি সিসমিক জরিপ করে দুটি আলাদা গ্যাসক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়। এ দুটিই হচ্ছে ইস্ট-১ ও নর্থ-১ । একই জরিপ অব্যাহত থাকলে আরও গ্যাসক্ষেত্র পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান বিশেষজ্ঞরা।

ভোলার জেলা প্রশাসক দ্রুত ফের সিসমিক জরিপ চালানোর দাবি জানান। ভোলার ভেলুমিয়া তেঁতুলিয়া নদী এলাকা, ইলিশা মেঘনার পাড় এলাকায় পকেট গ্যাস পাওয়া গেছে বলেও জানান জেলা প্রশাসক।

যুগান্তরকে জেলা প্রশাসক

ভোলায় আরও গ্যাস ক্ষেত্র পাওয়ার সম্ভাবনা

সিসমিক জরিপ প্রয়োজন
 অমিতাভ অপু, ভোলা  
০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ভোলায় পরীক্ষামূলক আরও কয়েকটি গ্যাসকূপ খনন করার দাবি জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহা. সেলিম উদ্দিন। সোমবার যুগান্তরকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, বিশেষজ্ঞদের মতে দ্বীপজেলা ভোলা গ্যাসের ওপর ভাসছে। এখানে চান ট্রিলিয়ন ঘনফুটের বেশি মজুদ গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

জেলায় বর্তমানে তিনটি গ্যাসক্ষেত্রে ছয়টি কূপ খনন করা হয়। তাতে গ্যাসের মজদ রয়েছে ১ দশমিক ৭৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট। দু’বছর আগের সিসমিক থ্রিডি জরিপের ফলে আবিষ্কার হয় দুটি গ্যাসক্ষেত্র শাহবাজপুর ইস্ট-১ ও ভোলা নর্থ-১ । এ দুটি ক্ষেত্রে দুটি কূপ খনন করা হয়েছে। গত মাসে শাহবাজপুর ইস্ট-১ কূপের মজুদ পাওয়ো গেছে ৭০০ বিলিয়ন ঘনফুট। সর্বশেষ চলতি সপ্তাহে আবিষ্কৃত ভোলা নর্থ-১ কূপে গ্যাসের মজুদ রয়েছে ৬০০ বিলিয়ন থেকে ৭০০ বিলিয়ন ঘনফুট। জেলা প্রশাসক বাপেক্সের বরাত দিয়ে জানান, এখানে আরও গ্যাসের মজুদ রয়েছে, যা খুঁজে বের করতে অনুসন্ধান কূপ খনন করা প্রয়োজন।

ভোলা নর্থ-১ কূপ থেকে পরীক্ষামূলক গ্যাস উত্তোলন শুরু করার পর বাপেক্স ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নওশাদ ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ভোলা নর্থ-১ দেশের ২৭তম গ্যাসক্ষেত্র। ভোলায় আরও গ্যাসক্ষেত্র পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের জন্য সুখবর হচ্ছে ভোলার মজুদ। বর্তমানে ভোলায় যে পরিমাণ মজুদ রয়েছে। তা ব্যবহারের ক্ষেত্র তৈরি হয়নি।

তিনি জানান, তারা উত্তোলন করা গ্যাস সরবরাহ করতে প্রস্তুত রয়েছেন। যারা বিতরণ করবেন তাদের পরিকল্পনা পেলেই ওই বিতরণ শুরু হবে। বর্তমানে মাত্র চারটি কূপ শাহবাজপুর-১, শাহবাজপুর-২, শাহবাজপুর-৩ ও শাহবাজপুর-৪ থেকে বাণিজ্যিকভাবে গ্যাস উত্তোলনের জন্য কূপ প্রস্তুত রয়েছে। একটি ক্ষেত্রের চারটি কূপে প্রায় এক ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মজুদ রয়েছে। প্রতিদিন ৮৫ এমএমসিএফ গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব।

বাপেক্স সূত্র জানায় শাহবাজপুর-১ থেকে দৈনিক পাওয়া যায় ১৫ এমএমসিএফ গ্রাস। শাহবাজপুর-২ কূপ থেকে দৈনিক ২৫ এমএমসিএফ, শাহগবাজপুর-৩ থেকে ২০ এএমসিএফ, শাহবাজপুর-৪ কূপ থেকে ২৫ এমএমসিএফ গ্যাস উত্তোলন ও সরবরাহ সম্ভব। বর্তমানে ভোলায় উত্তোলন করা গ্যাসের মধ্যে ব্যয় হচ্ছে মাত্র ৪৫ এমএসসিএফ গ্যাস। জিউলজি অ্যান্ড জিওফিজিক্স লিমিটেডের প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, ভোলায় গ্যাস আছে এমন প্রতিবেদন প্রথম প্রকাশ পায় ১৯৫২ সালে। ১৯৫২ সাল থেকে ১৯৫৯ সাল পর্যন্ত জরিপ, গ্যাসক্ষেত্র হিসেবে শাহবাজপুর চিহ্নিত করা হয়। পাকিস্তান সেল অয়েল কোম্পানি সিঙ্গেল কনডাকটেড ২ডি সিসমিক জরিপ করে। পরে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৪-৭৫ সালে ফেইস-২ প্রকৃত সিসমিক জরিপ করা হয়। ফেইস-৩ এ ১৯৮৭ সালে বিওজিএমসি ফের সিসমিক জরিপ করে। ওই জরিপ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ১৯৯৪ সালে শাহবাজপুর-১ গ্যাসক্ষেত্রে খনন শুরু হয়। ১৯৯৫ সালে উত্তোলন করা গ্যাসে আগুন প্রজ্বালন করা হয়।

২৭ বছর পর বর্তমান সকারের আমলে উদ্যোগ নেয়া হয় ফেইস-৪ হিসেবে নতুন গ্যাস ক্ষেত্র খুঁজে বের করার । ২০১৪-১৫ সালে বাপেক্সের তত্ত্বাবধানে ৬০০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় থ্রিডি সিসমিক জরিপ করে দুটি আলাদা গ্যাসক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়। এ দুটিই হচ্ছে ইস্ট-১ ও নর্থ-১ । একই জরিপ অব্যাহত থাকলে আরও গ্যাসক্ষেত্র পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান বিশেষজ্ঞরা।

ভোলার জেলা প্রশাসক দ্রুত ফের সিসমিক জরিপ চালানোর দাবি জানান। ভোলার ভেলুমিয়া তেঁতুলিয়া নদী এলাকা, ইলিশা মেঘনার পাড় এলাকায় পকেট গ্যাস পাওয়া গেছে বলেও জানান জেলা প্রশাসক।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন