শাবি ছাত্র প্রতীকের আত্মহত্যা

ঢাবির মানববন্ধনে প্ররোচনাদানকারী শিক্ষকদের শাস্তি দাবি

  ঢাবি প্রতিনিধি ২৩ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শাস্তি

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও বায়োটেকনোলজি বিভাগের ছাত্র তাইফুর রহমান প্রতীকের আত্মহত্যার প্ররোচনাদানকারী শিক্ষকদের বিচারের দাবি জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে এ দাবি জানান তারা। ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ব্যানারে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ বৈকল্য বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. হাকিম আরিফের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন বাংলা বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক অধ্যাপক ড. আবুল কাশেম ফজলুল হক, সিন্ডিকেট সদস্য ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ হুমাযুন কবির, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক ড. অধ্যাপক তাজিন আজিজ চৌধুরী, স্যার এএফ রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কেএম সাইফুল ইসলাম খান, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, ভাষাবিজ্ঞানের চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. সালমা নাসরীন, উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের সাবেক চেয়ারপারসন ড. সৈয়দ শাইখ ইমতিয়াজসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শতাধিক শিক্ষার্থী।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা আত্মহত্যার প্ররোচনাকারীদের শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। যাতে লেখা ছিল- ‘প্রতীকের মৃত্যু আত্মহত্যা না হত্যা?’, ‘আত্মহত্যা বন্ধ হোক’, ‘প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হওয়ার সত্ত্বেও প্রতীক কেন থিসিস করার সুযোগ পেল না?’, ‘আত্মহত্যা প্ররোচনাদানকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই’, ‘শিক্ষাঙ্গনে ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক স্বাভাবিক হোক’ ইত্যাদি। এ সময় তাইফুর রহমান প্রতিকের আত্মহত্যার কারণ দ্রুত খুঁজে বের করার আহ্বান জানান। আত্মহত্যায় প্ররোচনাদানকারী হিসেবে শাবিপ্রবির অধ্যাপক আজাদসহ জড়িত অন্য শিক্ষকদের বিচার দাবি করেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মেধাবী শিক্ষার্থী যারা প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় হয় তাদের মধ্য থেকে শিক্ষক নিয়োগ দেয়ারও দাবি জানান।

মানববন্ধনে অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক বলেন, কিছু শিক্ষক আছে যারা ছাত্রদের বিরুদ্ধে স্বার্থবাদী কাজ করেন। এর ফলে আমাদের শিক্ষকদের মাথা নিচু হয়ে যায়। সম্প্রতি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনায় খোঁজ নিয়ে অনেক কিছু জানতে পেরেছি।

এ জন্য তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ শিক্ষার্থীরা কেন আত্মহত্যা করে- তা খোঁজ নিয়ে তার সমাধান হওয়া চাই। অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, ভালো শিক্ষকের গুণ পড়ানো, বক্তৃতা দেয়া, রাজনীতি করা নয়। ভালো শিক্ষকের গুণ শিক্ষার্থীদের ভালোবাসা। সেই বিচারে শাবির এইসব শিক্ষক আমার কাছে শূন্য নম্বর পেয়েছেন। তারা ক্লাসে ভালো পড়াতে পারে, রাজনীতি করতে পারে, কিন্তু ছাত্রদের ভালোবাসতে পারে না।

অধ্যাপক ড. কেএম সাইফুল ইসলাম খান, নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটির মাধ্যমে এ ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন প্রয়োজন। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে এ ধরনের ঘটনার বিষয়ে বারবার অভিযোগ ওঠে। ব্যক্তিস্বার্থবাদী, রাজনৈতিক প্রভাবশালী শিক্ষকদের চক্রান্তে মেধাবী শিক্ষার্থীরা বলি হয়। তিনি এ ঘটনাকে আত্মহত্যা নয় হত্যা বলে অভিযোগ করেছেন।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×