অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৯

ভাষার ভালোবাসায় জনস্রোত

  হক ফারুক আহমেদ ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

চারদিকে শুধু মানুষ আর মানুষ। এতবড় পরিসর নিয়ে মেলা- তবুও হাঁটা যায় না! আবালবৃদ্ধবনিতা, শিশু, কিশোর, তরুণ-তরুণী সব বয়সী মানুষ এলেন। বই কিনলেন। মহান একুশের দিনে ভাষার প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শনে অনেকেই এলেন বর্ণমালা খচিত পোশাকে। তবে মেলায় বইয়ের বিকিকিনির পাশাপাশি সবার মুখে মুখে ছিল চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডের মর্মান্তিক ঘটনা।

শহীদ মিনারের বেদিতে ফুলেল শ্রদ্ধা জানিয়ে সবাই পরিবার পরিজন নিয়ে ছুটে আসেন বইমেলায়। এদিন মেলার দ্বার খুলে যায় সকাল ৮টায়, মেলা চলে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত। সারা দিনই মেলায় ছিল বইপ্রেমীদের আনাগোনা। তবে সন্ধ্যায় তিল ধারণের জায়গা ছিল না সোহরাওয়ার্দী ও বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে। অন্যান্যবার একুশে ফেব্রুয়ারির দিন মেলায় মানুষের তুলনায় বিক্রি কম হয়। সেদিক থেকে এবারের দিনটি ছিল একেবারেই উল্টো। মেলায় মানুষের সমাগমের সঙ্গে সঙ্গে বিক্রিও ছিল বেশ।

গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে সকাল সাড়ে ৭টায় অনুষ্ঠিত হয় স্বরচিত কবিতা পাঠের আসর। এতে দেড় শতাধিক নবীন-প্রবীণ কবি কবিতা পাঠে অংশ নেন। সভাপতিত্ব করেন কবি অসীম সাহা। বিকেলে গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় অমর একুশে বক্তৃতা। বাংলা ভাষার অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ শীর্ষক একুশে বক্তৃতা প্রদান করেন ভাষাসংগ্রামী জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ প্রদান করেন একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী। সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। অনুষ্ঠানের শুরুতে পুরান ঢাকার চকবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বলেন, বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ইতিহাস বহু অবদান ও পরম্পরায় ঋদ্ধ। এ নিয়ে কোনো সরলীকরণের সুযোগ নেই। এই ভাষা ও সাহিত্য যেমন প্রাচীন চর্যার ধারাবাহিকতায় পুষ্ট তেমনি মধ্যযুগের মুসলিম অবদানেও সমৃদ্ধ।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, স্বাধীনতার পরপর বাংলা ভাষার ব্যবহারে আমরা ব্যাপক উৎসাহ দেখালেও এখনও সুচারুরূপে বাংলার ব্যবহারে পূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করতে পারিনি।

স্বাগত ভাষণে হাবীবুল্লাহ সিরাজী বলেন, আমাদের একুশ আজ সারা বিশ্বের। সালাম, বরকত, রফিক, শফিক, জব্বারের রক্তে লাল হওয়া ঢাকার রাজপথ বিশ্বকে মাতৃভাষাপ্রীতির যে ইতিহাস উপহার দিয়েছিল, সেই পথ লক্ষ্য করে এখন সময় এসেছে সর্বস্তরে মাতৃভাষা বাংলার প্রচলন নিশ্চিত করা।

লেখক বলছি মঞ্চে এদিন অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন প্রকাশিত গ্রন্থ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেন খালেদ হোসাইন, শাহাদুজ্জামান, ফারুক ওয়াসিফ, রাহেল রাজিব এবং তপন পালিত। কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ করেন কবি নির্মলেন্দু গুণ, হাসান হাফিজ, কাজল বন্দ্যোপাধ্যায়, জাফর আহমদ রাশেদ, আলফ্রেড খোকন এবং সোহেল হাসান গালিব। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী ইকবাল বাহার চৌধুরী, আহ্কাম উল্লাহ এবং তামান্না সারোয়ার। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ছিল ফকির সিরাজের পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠী’র পরিবেশনা। সঙ্গীত পরিবেশন করবেন শিল্পী ফকির আলমগীর, প্রমীলা চক্রবর্তী, মহাদেব ঘোষ, লাইসা আহমদ লিসা, বুলবুল ইসলাম, জান্নাত-ই-ফেরদৌসী এবং নীলোৎপল সাধ্য।

সাড়ে তিন হাজার নতুন বই : বাংলা একাডেমির সমন্বয় ও জনসংযোগ উপবিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, মেলার প্রথম ২১ দিনে সব মিলিয়ে তিন হাজার ৩৬৩টি নতুন বই প্রকাশিত হয়েছে।

নতুন বই : একাডেমির জনসংযোগ উপবিভাগ জানায়, গতকাল একুশের মেলায় নতুন ৩৯৬টি বই প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে গল্পগ্রন্থ ৫২টি, উপন্যাস ৫২টি, প্রবন্ধ ২৭টি, কবিতা ১৪৫টি, গবেষণা আটটি, ছড়া আটটি, শিশুসাহিত্য ৯টি, জীবনী ১৩টি, রচনাবলি দুটি, মুক্তিযুদ্ধ ১০টি, নাটক ৯টি, বিজ্ঞান আটটি, ভ্রমণ সাতটি, ইতিহাস ছয়টি, রাজনীতি দুটি, স্বাস্থ্য একটি, অনুবাদ পাঁচটি, সায়েন্স ফিকশন চারটি এবং অন্যান্য বিষয়ে ওপর আরও ২৮টি বই এসেছে।

আজকের আয়োজন : আজ শুক্রবার মেলা চলবে বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। এর মধ্যে বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত মেলায় শিশুপ্রহর ঘোষণা করা হয়েছে।

--
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×