বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উদযাপন শুরু

  সাংস্কৃতিক রিপোর্টার ১৮ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

জন্মদিন

জাতির জনকের জন্মদিনে অন্যরকম এক আয়োজন। রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বছরব্যাপী বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উদযাপনের যাত্রা শুরু করল সাংস্কৃতিক সংগঠন মুক্তির গান।

বর্ণিল উৎসবে তুলে ধরা হয় ‘বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের পথে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে নানা পরিবেশনা।

উৎসবের এ দিনকে আরও রঙিন করে তুলল শিশুরা। তাদের কণ্ঠে উচ্চারিত হল ৭ মার্চের অবিনাশী ভাষণ। সঙ্গীত পরিবেশনার সঙ্গে ছিল নূপুরের ঝঙ্কার। আতশবাজির ঝলকানি শেষে ব্যান্ডদলের পরিবেশনা। রোববার বিকালে অনুষ্ঠানের শুরুতেই জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেন ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা।

অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ নিয়ে ‘সেই অবিনাশী উচ্চারণ’ প্রতিযোগিতা নিয়ে কথা বলেন প্রতিযোগিতার সার্বিক সমন্বয়ক শিবলী হাসান। এর পর এ প্রতিযোগিতার শীর্ষ ৫০ জন শিশুর ভাষণের ভিডিও কোলাজ প্রদর্শিত হয় বড় পর্দায়। এরপর সাংস্কৃতিক সংগঠন বাতিঘরের শিশুশিল্পীদের পরিবেশনায় ছিল নৃত্য-গীতিনাট্য ‘কখন আসবে কবি’।

অনুষ্ঠানে সারা দেশের প্রতিযোগীর মধ্যে প্রথম সাতজন প্রতিযোগী পরিবেশন করেন ৭ মার্চের ভাষণ। ভাষণ পরিবেশন করেন আবদুলাহ আল হাসান, সাদমান সাকিব নাবিল, আল-হাসনাত মাসুম শিহাব, সানজিদা আহমেদ তমা, আরাফাত আশিক নিহাল, ইফতেখারুল ইসলাম অপূর্ব ও ফারহান সাদিক সামি।

এর পর ছিল সংক্ষিপ্ত আলোচনা পর্ব। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য সাদেক খান, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব কবির বিন আনোয়ার, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমাম ও লায়লা হাসান, সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এ আরাফাত, শহীদ পরিবারের সন্তান শাওন মাহমুদ, মুক্তির গানের উপদেষ্টা সেলিম রেজা ও ফারজানা রূপা, মুক্তির গানের সম্পাদক শাকিল আহমেদ এবং সমন্বয়ক নবেন্দু নির্মল সাহা জয়। অতিথিরা ওই সাত শিশুর পাশাপাশি সেরা তিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ময়মনসিংহের নান্দাইলের দরিলা-গয়েশপুর আঃ হামিদ জুনিয়র হাই স্কুল, ঢাকার বশির উদ্দিন আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং মোহাম্মদাবাদ ইসলামীয়া আলিম মাদ্রাসাকে পুরস্কৃত করা হয়।

আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, বঙ্গবন্ধু হৃদয়ে যা ধারণ করতেন, সেটিই তিনি বলেছিলেন ৭ মার্চের ভাষণে। যেসব শিশু ৭ মার্চের ভাষণের এ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন, তারাও ভাষণকে হৃদয়ে ধারণ করেছেন। এই শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। যাদের জন্য বঙ্গবন্ধুকন্যা নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।

বক্তব্য ও পুরস্কার প্রদান পর্ব শেষ জাদুশিল্পী লিটন শিশুদের জন্য পরিবেশন করেন জাদু। এর পর কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের উপন্যাস ‘সাতই মার্চের বিকেল’ অবলম্বনে নৃত্যনাট্য পরিবেশন করেন ‘নৃত্যম’র নৃত্যশিল্পীরা। যার পরিচালনায় ছিলেন নৃত্যশিল্পী তামান্না রহমান। অনুষ্ঠানে দলীয় পরিবেশনায় অংশ নেয় বহ্নিশিখা। দলটির শিল্পীরা সম্মেলক কণ্ঠে গেয়ে শোনান ‘ঐ মহামানব আসে’, ‘শোন একটি মুজিবরের থেকে’সহ বেশ কয়েকটি গান।

সন্ধ্যায় ছিল বর্ণিল আতশবাজি। ছিল তিন ব্যান্ডদলের পরিবেশনায় কনসার্ট। এতে গান পরিবেশন করে ব্যান্ডদল গানপোকা, অবসকিওর ও আর্টসেল। শুরুতেই মঞ্চে আসে গানপোকা। এর পর মঞ্চে আসেন অবসকিওর। দলটি শুরুতেই বঙ্গবন্ধুকে উৎসর্গ করে গেয়ে শোনায় ‘পিতা’ গানটি। এর পর একে একে তারা পরিবেশন করে ‘মাঝরাতে চাঁদ’, ‘ছাইড়া গেলাম মাটির পৃথিবী’, ‘আজাদ’, ‘শেষ বিকেলে আলো’। এর পর প্রয়াত ব্যান্ডতারকা আইয়ুব বাচ্চুকে উৎসর্গ করে গেয়ে শোনায় ‘তোমার স্মৃতি নিয়ে’ গানটি। ‘ভণ্ড বাবা’ গানটি পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় তাদের পরিবেশনা। সবশেষে মঞ্চে আসে ব্যান্ডদল আর্টসেল। তারা পরিবেশন করে ‘এই বিদায়’, ‘অন্যসময়’, ‘পথচলা’, ‘ঘুমন্ত শহরে’, ‘কাণ্ডারি’, ‘চিলেকোঠার সেপাই’, ‘দুঃখবিলাস’ ও ‘ধূসর সময়’ গানগুলো।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×