সুস্থ থাকুন

মলত্যাগে অতৃপ্তিকর অনুভূতি

  অধ্যাপক ডা. রাকিবুল মোহাম্মদ আনোয়ার ১৮ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মলত্যাগে অতৃপ্তিকর অনুভূতি

‘অবস্ট্রাক্টেড ডেফিকেশন সিন্ড্রম’

অবস্ট্রাক্টেড ডেফিকেশন সিন্ড্রম বিশেষ ধরনের কোষ্ঠকঠিন্য যা সাধারণত মহিলাদের রোগাগ্রস্থ করে। এ রোগে আক্রান্ত রোগীকে অনেক চাপ দ্বারা মলত্যাগ করতে হয়, মলত্যাগের পর মলাশয়ে আংশিক শূন্য হওয়ার অনুভূতি বোধ হয়, মনে হয় মল মলাশয়ে রয়ে গেছে, আরও হয়তো বের করার প্রয়োজন আছে, মলত্যাগে তৃপ্তি হয় না। কমোডে বসে থাকলে অথবা চাপ প্রয়োগ করলেও মল বেরিয়ে আসে না।

মলত্যাগ প্রক্রিয়া : মলত্যাগের অনুভূতি হলে পেটে চাপ প্রয়োগে মলাশয় সোজা হয় যাতে করে মল মলাশয়ের নিচের অংশে নেমে আসতে পারে এবং পরিস্থিতি যদি মলত্যাগের অনুকূলে থাকে (শৌচাগার) তাহলে পায়ুপথের মাংসপেশি শিথিল হয় এবং মল বেরিয়ে আসে।

অবস্ট্রাক্টেড ডেফিকেশন সিন্ড্রমে মলত্যাগ প্রক্রিয়ার প্রথমাংশে চাপ দিলে মল মলাশয়ের নিচের অংশে নেমে আসে কিন্তু এরপর বেশি চাপ দিলে মল বেরিয়ে আসার পরিবর্তে মাংসপেশির শক্তি হ্রাসের কারণে সামনের গহ্বরে আটকে যায়।

মহিলাদের অধিক গর্ভধারণের পর অথবা বার্ধক্যে দেহের নিুদেশের পেশিসমূহের দুর্বলতার কারণে মলাশয়ের সম্মুখ দেয়াল পায়ুপথের ওপরে এবং সামনে ঝুলে পড়ে গহ্বরের সৃষ্টি করে। চাপ দিলে মল এ গহ্বরে এসে জমা হয়। এ অবস্থায় বেশি চাপে মল বেরিয়ে না এসে ওই গহ্বরে আরও বেশি করে আটকে যায়।

তখন আঙ্গুল দ্বারা পায়ুপথের সামনের দিকে অথবা যোনিদ্বারে চাপ দিলে গহ্বর সোজা করে নিলে মল অপেক্ষাকৃত সহজে পায়ুপথ হয়ে বেরিয়ে আসে। গর্তটা যদি গভীর হয় তাহলে অনেক সময় আঙ্গুল চামচাকৃতি বাঁকা করে মল বের করা ছাড়া কোনো উপায় থাকে না।

শুধু যে মলশক্ত হলেই উপসর্গ হয় তা নয়, উপসর্গ সৃষ্টির যে কারণ অর্থাৎ পেশিসমূহের দুর্বলতার কারণে মলাশয়ের সম্মুখ দেয়াল পায়ুপথের ওপরে এবং সমনে ঝুলে পড়ে গহ্বরের সৃষ্টি করার জন্য মল নরম হলেও উপসর্গ হতে পারে।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অপারেশন ছাড়াই অবস্ট্রাক্টেড ডেফিকেশন সিন্ড্রমের চিকিৎসা করা হয়ে থাকে। উপসর্গ যদি মারাÍক হয় অথবা যদি এ রোগের সঙ্গে অন্য রোগের উপসর্গ থাকে যেমন- এনাল ফিশার অথবা পাইলস তা হলে অপারেশন করার যৌক্তিকতা থাকতে পারে। ২০% অবস্ট্রাক্টেড ডেফিকেশন সিন্ড্রম রোগীর জন্য অপারেশন প্রযোজ্য।

পরিপাকতন্ত্রের অন্যান্য রোগের ন্যায় অবস্ট্রাক্টেড ডেফিকেশন সিন্ড্রম নিরাময়ের ক্ষেত্রেও খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনধারা পরিবর্তন/পরিবর্ধনে অবদান রাখতে পারে। প্রচুর আশজাতীয় খাবার, শাক-সবজি, ফল-মূল, মাছ, নিয়মিত যথেষ্ট পরিমাণে পানি পান, হাঁটাচলা, ব্যায়াম, যোগব্যায়াম, প্রয়োজন হলে মল নরম করার জন্য ওষুধ সেবন রোগের প্রকোপ কমাতে সাহায্য করে। অন্যদিকে চর্বিজাতীয় খাবার, গরু, খাসির মাংস, পানি কম পান, ধূমপান ইত্যাদি এ রোগের উপসর্গ বাড়িয়ে দেয়।

বায়োফিডব্যাক থেরাপি এক ধরনের বিনা ওষুধে চিকিৎসা যা রোগীদের অনৈচ্ছিক শারীরিক প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ শিখতে সাহায্য করে। যেমন পেশি চাপ, রক্তচাপ অথবা হৃদকম্পনের হার নিয়ন্ত্রণ। এ প্রক্রিয়াসমূহের নিয়ন্ত্রণ সাধারণত আমাদের ইচ্ছাশক্তির বাইরে।

অধ্যাপক ডা. রাকিবুল মোহাম্মদ আনোয়ার

কলোরেক্টাল সার্জন, আর এ হাসপাতাল, গুলশান, ঢাকা

মোবাইল ফোন : ০১৭৮৭৬৯৪৫০৮

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×