ফাঁদে ফেলে নারী যাত্রীকে ধর্ষণই ওদের কাজ

র‌্যাবের হাতে তিন ‘ধর্ষক’ গ্রেফতার

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৫ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

গ্রেফতার

এক নারী যাত্রীকে বাসে তুলে শ্লীলতাহানি এবং অপহরণের সময় তিন যুবককে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। শনিবার রাতে সাভারের আশুলিয়ার বাইপাইল থেকে এক নারীকে কৌশলে বাসে তুলে অপহরণের চেষ্টা করে তারা।

রাজধানীর আবদুল্লাহপুরের কাছে নির্জন স্থানে ওই বাস থেকে সব যাত্রীকে নামিয়ে দিলেও ওই নারীকে টেনে-হিঁচড়ে আবারও বাসে তোলার চেষ্টা করছিল তিন যুবক।

বিষয়টি র‌্যাবের টহল টিমের নজরে এলে ওই নারীকে উদ্ধারের পাশাপাশি তিনজনকে আটক করা হয়। গ্রেফতার তিনজন হল- বাসচালক খলিল মিয়া, সুপারভাইজার মেহেদী হাসান বাবু এবং হেলপার রাকিব হোসেন। ‘আশুলিয়া ক্লাসিক’ নামের বাসটি জব্দ করা হয়।

তিন যুবককে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর র‌্যাব বলছে, গ্রেফতার ব্যক্তিরা গ্রাম থেকে আসা কম বয়সী নারী যাত্রীদের বাসে তোলার পর অন্যদের কৌশলে নামিয়ে দেয়। তারপর বাস নির্জন স্থানে নিয়ে ওই নারীকে ধর্ষণ করে। এমনকি ঘটনার ভিডিও এবং স্থিরচিত্র ধারণ করে ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়ার হুমকি দিত তারা। এ কারণে ভুক্তভোগীরা ঘটনা সম্পর্কে কাউকে জানাত না। এমনকি ভুক্তভোগীর কাছ থেকে স্বর্ণালংকারসহ সবকিছু ছিনিয়ে নিত তারা। এভাবে অনেক নারী এই চক্রের হাতে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। তারা বিকৃত মানসিকতার ‘ভয়ংকর ধর্ষক’।

এ বিষয়ে রোববার সকালে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে র‌্যাব। এ সময় র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল সারওয়ার-বিন-কাশেম বলেন, ভুক্তভোগী নারী দুই মাস আগে ঢাকায় এসেছেন। গ্রামের বাড়ি নওগাঁ। রাতে আশুলিয়ার নবীনগর যাওয়ার জন্য বাইপাইল বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষা করছিলেন তিনি। এ সময় ‘আশুলিয়া ক্লাসিক’ নামক বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর-মহাখালী রুটের একটি বাস থামিয়ে হেলপার তার গন্তব্য জানতে চায়। ভুক্তভোগী নারী নবীনগর যাওয়ার কথা জানায়। হেলপার তাকে নবীনগর নামিয়ে দেয়ার কথা বলে গাড়িতে তুলে নেয়। ঢাকায় নতুন আসার কারণে ভুক্তভোগী রাস্তা সম্পর্কে জানেন না।

এ কারণেই তিনি সহজেই বাসে উঠেন। বাসটি আবদুল্লাহপুরের কাছাকাছি এসে সামনে যাবে না বলে সব যাত্রী নামিয়ে দেয় হেলপার। এ সময় ওই নারী অন্য যাত্রীদের সঙ্গে বাস থেকে নেমে যান। এলাকা অপরিচিত হওয়ায় কিছুদূর যাওয়ার পর তিনি দাঁড়িয়ে যান। এ সময় বাসের চালক, হেলপার ও সুপারভাইজার ওই নারীকে নবীনগর নিয়ে যাওয়ার কথা বলে জোর করে বাসে তোলার চেষ্টা করে। তখন ওই নারী চিৎকার দিলে পাশেই র‌্যাব-১ এর একটি দল ওই তিনজনকে গ্রেফতার করে।

আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে সারওয়ার-বিন-কাশেম বলেন, তিন যুবক ভুক্তভোগী ওই নারীকে বাসে উঠানোর সময় বুঝতে পারে, গন্তব্যে যাওয়ার রাস্তা সম্পর্কে ভুক্তভোগীর কোনো ধারণা নেই। তাই তারা ওই নারীকে কৌশলে ভুল পথে নিয়ে যায়। গ্রেফতার খলিল মিয়া পেশায় গাড়িচালক। সে এক বছর ধরে ‘আশুলিয়া ক্লাসিক’ গাড়ির চালক হিসেবে নিয়োজিত। তার ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। এমনকি ওই বাসের বৈধ কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। হেলপার মেহেদী হাসান বাবু ছয় বছর ধরে ‘আশুলিয়া ক্লাসিক’ গাড়ির সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত। চার বছর ধরে আবদুল্লাহপুর-আশুলিয়া রুটে লেগুনা ও বাসের হেলপার হিসেবে কাজ করছে।

টার্গেট দেখিয়ে ইশারা করলে সে যাত্রীর কাছ থেকে ভাড়া নিত না। এ সময় সে ভুক্তভোগীর সঙ্গে গল্প শুরু করে। হেলপার রাকিব এক বছর ধরে ‘আশুলিয়া ক্লাসিক’ বাসে কর্মরত। এর আগে সে বিভিন্ন চায়ের দোকানে কাজ করত বলে জানায়। সে বাসে যাত্রী ওঠানোর সময় কম বয়সী নারী যাত্রীদের টার্গেট করে এবং অপর দুইজনের সঙ্গে ইশারায় জানিয়ে দেয়। এক্ষেত্রে তারা পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী কিছু দূর যাওয়ার পর সুযোগ বুঝে বাসের অন্য যাত্রীদের নামিয়ে দেয়। পরে বাসে করে ওই নারীকে নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×