খুলনায় কৃষিঋণ আদায়ে ব্যর্থ ব্যাংকগুলো

ঝুলছে ১ হাজার ৮৫৪টি মামলা

  নূর ইসলাম রকি, খুলনা ব্যুরো ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

খুলনায় কৃষকদের কাছ থেকে ঋণ আদায়ে ব্যর্থ হচ্ছে ব্যাংকগুলো- যার কারণে মামলার পরিমাণ বাড়ছে। উপজেলা ও জেনারেল সার্টিফিকেট আদালতে অনিষ্পন্ন মামলা হিসেবে ঝুলে রয়েছে ১ হাজার ৮৫৪টি মামলা। সরকারি ও বেসরকারি ১০টি ব্যাংকের মাধ্যমে বিভিন্ন সময় কৃষি খাতে বিতরণকৃত ১০ কোটি ৫৮ লাখ ৮৪ হাজার টাকা ঋণ আদায়ে দায়ের করা মামলার নিষ্পত্তি না হওয়ায় তা আদায় হচ্ছে না- ফলে ব্যাংকগুলোয় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তবে কর্তৃপক্ষের দাবি বন্যা, দুর্যোগ ও ব্যাংকগুলোয় জনবল কম থাকায় সময়মতো ঋণ আদায় সম্ভব হচ্ছে না।

এদিকে খুলনাঞ্চলের ৪৭টি ব্যাংকের মধ্যে গত বছরের নভেম্বরে ১৪টি ব্যাংক কৃষিঋণ আদায়ে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। খুলনা জেলা কৃষিঋণ কমিটির সভায় সম্প্রতি এ বিষয়গুলো উঠে এসেছে। এদিকে সর্বশেষ অনুষ্ঠিত জেলা কৃষিঋণ কমিটির সভায় ১৫টি বেসরকারি ব্যাংকের প্রতিনিধি উপস্থিত না থাকায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। পরে এ ব্যাংকগুলোকে জেলা কৃষিঋণ কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মো. আমিন উল আহসানের মাধ্যমে সতর্কতামূলক চিঠি দেয়া হবে বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরের তুলনায় ২০১৭-১৮ অর্থবছরের নভেম্বর পর্যন্ত ঋণ আদায়ে ব্যর্থ ব্যাংকগুলো হল সোনালী ব্যাংক লিমিটেড (নিজস্ব), সোনালী ব্যাংক (বিআরডিবি), অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড (দক্ষিণ), জনতা ব্যাংক লিমিটেড, রূপালী ব্যাংক লিমিটেড, উত্তরা ব্যাংক লিমিটেড, এক্সিম ব্যাংক লিমিটেড, দ্য সিটি ব্যাংক লিমিটেড, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড, এবি ব্যাংক লিমিটেড, পূবালী ব্যাংক লিমিটেড, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক লিমিটেড, ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড এবং ডাচ্-বাংলা ব্যাংক লিমিটেড। সূত্র জানায়, দক্ষিণাঞ্চলের কৃষকের জন্য চিংড়ি, পশুসম্পদ ও শস্যসহ বিভিন্ন খাতে ঋণ দেয়া হয়। সম্প্রতি অতিবৃষ্টি, ফসলে পোকামাকড়, বন্যা এবং কৃষকের সঙ্গে ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগাযোগ তেমন না থাকায় প্রদেয় ঋণ আদায়ে সাফল্য কমছে- ফলে মামলার পরিমাণ বাড়ছে। সঙ্গে বাড়ছে ঋণের বকেয়া আদায়ের পরিমাণও। নির্ভরযোগ্য একটি সূত্রের মাধ্যমে জানা যায়, উপজেলা ও জেনারেল সার্টিফিকেট আদালতে ১৩টি ব্যাংকের ১ হাজার ৮৫৪টি মামলা ঝুলে আছে। ১০ কোটি ৫৮ লাখ ৮৪ হাজার টাকা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে এসব মামলা দায়ের হয়।

এগুলোর মধ্যে অনিষ্পন্ন রয়েছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ৭৬৯টি মামলায় ৭ কোটি ২৮ লাখ ১৮ হাজার টাকা, অগ্রণী ব্যাংকের ২৫০টি মামলায় ৩৭ লাখ ৮৪ হাজার, সোনালী ব্যাংকের ১১৪টি মামলায় ৩৮ লাখ ৬১ হাজার, জনতা ব্যাংকের ১৯২টি মামলায় ১ কোটি ৩ লাখ ৯৮ হাজার, রূপালী ব্যাংকের ৬৯টি মামলায় ১৮ লাখ ৩২ হাজার, বিআরডিবিতে ৩৬৫টি মামলায় ৩৭ লাখ ৯৪ হাজার, কর্মসংস্থান ব্যাংকের ৪৫টি মামলায় ৩২ লাখ ৯৮ হাজার, শিল্প ব্যাংকের ২টি মামলায় ৩০ লাখ ২০ হাজার, সমবায় জমি বন্ধকি ব্যাংকের ৪৬টি মামলায় ২৫ লাখ ৮৪ হাজার এবং সমবায় ব্যাংকের দুটি মামলায় ৩ লাখ ১ হাজার টাকা।

জেলা কৃষিঋণ কমিটির সর্বশেষ সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক মো. মুজিবুর রহমান উল্লেখ করেন, রবি মৌসুমের ২ মাস অতিবাহিত হলে ডাল, মসলা, তৈলবীজ ও ভুট্টা খাতে দেয়া ঋণ আদায়ে ব্যাংকগুলোর অর্জন সন্তোষজনক নয়। জেলা কৃষি ঋণ কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মো. আমিন উল আহসান অসন্তোষ প্রকাশ করে প্রত্যেক ব্যাংকের প্রতিনিধিদের কৃষিঋণ কমিটির সভায় উপস্থিত থাকার জন্য গুরুত্বারোপ করেন।

এ বিষয়ে বিকেবির মুখ্য আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক ও জেলা কৃষিঋণ কমিটির সদস্য সচিব মো. টিপু সুলতান যুগান্তরকে বলেন, যেসব ব্যাংকের দায়িত্বশীলরা আসেননি তাদের চিঠি পাঠানো হবে। কৃষককে বাঁচাতে কৃষিঋণ দেয়া হয়। সম্প্রতি অতিবৃষ্টি, বন্যা, পোকামাকড়ের কারণে ফসল নষ্ট হওয়ায় কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এছাড়া ব্যাংকগুলোয় জনবল কম থাকায় ঋণ প্রদান ও আদায় কার্যক্রম শতভাগ সফলভাবে করা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি দাবি করেন, কৃষিঋণ আদায় ও বিতরণ সন্তোষজনক।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter