বিবিএসের জরিপের প্রাথমিক ফল

সাবেক ছিটমহলের জনসংখ্যা ৪৫৪৭১

আর্থ-সামাজিক অনেক সূচকেই পিছিয়ে * বিদ্যুৎ, নিরাপদ পানি ব্যবহারে এগিয়ে

  হামিদ-উজ-জামান ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতের সাবেক ১১১ ছিটমহলে বাস করছেন ৪৫ হাজার ৪৭১ জন। আর্থ-সামাজিক বিভিন্ন সূচকে পিছিয়ে আছে এসব ছিটমহলের মানুষ। সাবেক ছিটের মাত্র ১৭ দশমিক ৯০ শতাংশ মানুষ স্যানিটারি পায়খানা ব্যবহারের সুযোগ পায়। জাতীয় পর্যায়ে স্যানিটারি পায়খানা ব্যবহারের হার ৭৫ শতাংশ। ছিটমহলের ৫৮ দশমিক ৯০ শতাংশ মানুষ কাঁচা পায়খানা ব্যবহার করে। উন্মুক্ত স্থানে মলমূত্র ত্যাগ করে প্রায় ৭ শতাংশ মানুষ। তবে নিরাপদ পানি ও বিদ্যুতের ব্যবহারে ছিটমহলের অধিবাসীরা যথেষ্ট এগিয়ে আছে। সাবেক ছিটমহল নিয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) শুমারির প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

‘বাংলাদেশের পূর্বতন ছিটমহলের অধিবাসী শুমারি ২০১৭’ শীর্ষক প্রকল্পের প্রাথমিক প্রতিবেদন তৈরি করেছে বিবিএস। শুমারি-পরবর্তী যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। শুমারির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১১১ সাবেক ছিটমহলে ১০ হাজার ৪৬৭ পরিবার বাস করছে। এসব পরিবারে মোট সদস্য রয়েছেন ৪৫ হাজার ৪৭১ জন। প্রতি পরিবারে সদস্য সংখ্যা গড়ে ৪ দশমিক ৩৪ জন। শুমারি চলাকালীন দায়িত্বে থাকা পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সাবেক সচিব কেএম মোজাম্মেল হক যুগান্তরকে বলেন, বর্তমান সরকার টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে কাজ করছে। এসডিজির মূল কথাই হল সবাইকে নিয়ে, সবার জন্য উন্নয়ন। সরকার সাবেক ছিটমহলবাসীর উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প ও উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এভাবে এসডিজিতে ছিটমহলবাসীকে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। আমি মনে করি, উন্নয়নের ক্ষেত্রে আগামী ১০ বছরের মধ্যেই তারা সমতায় পৌঁছতে পারবে। সরকারের এ উন্নয়ন কার্যক্রম যথাযথভাবে বাস্তবায়নে ছিটমহলবাসীর আর্থ-সামাজিক পরিসংখ্যান প্রয়োজন। এ শুমারি এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ছিটমহলের ৯৩ দশমিক ৬০ শতাংশ পরিবারের বসতঘর কাঁচা। ইট ও সিমেন্টের মেঝে রয়েছে ৫ দশমিক ৯০ শতাংশ পরিবারে। সারা দেশের ২৩ দশমিক ২০ শতাংশ পরিবারের বসতঘর ইট-সিমেন্টের তৈরি। সারা দেশের ২৬ দশমিক ১০ শতাংশ পরিবার ইট-সিমেন্টে তৈরি দেয়ালের ঘরে থাকলেও ছিটমহলে এর হার মাত্র ৭ দশমিক ৩০ শতাংশ। ছিটমহলে পাকা ছাদের ঘরে থাকার সুযোগ পায় ১ শতাংশের কম মানুষ। সারা দেশে এর হার ১০ দশমিক ৭০ শতাংশ। ছিটমহলে শিক্ষার অভাবের বিষয়টিও ফুটে উঠেছে প্রতিবেদনে। এতে বলা হয়েছে, সাত বছরের বেশি বয়সী মানুষের শিক্ষার হার ছিটমহল এলাকায় ৫৪ দশমিক ৯০ শতাংশ। পরিসংখ্যান ব্যুরোর এরভিআরএস প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৬ সালে সারা দেশে এর হার ৭১ শতাংশ। তিন বছরের বেশি বয়সী ৬৭ দশমিক ৬০ শতাংশ পুরুষ শিক্ষার বাইরে আছে। নারীদের ক্ষেত্রে এর হার ৬৯ দশমিক ১০ শতাংশ।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ছিটমহল এলাকায় বাল্যবিয়ের প্রকোপ ভয়াবহ পর্যায়ে রয়েছে। ছিটমহল এলাকায় নারীদের প্রথম বিয়ের গড় বয়স ১৬ দশমিক ৪০ বছর। আর ছিট এলাকায় প্রথম বিয়েতে পুরুষের গড় বয়স ২১ দশমিক ১০ বছর। জাতীয় পর্যায়ে নারীদের গড়ে ১৮ দশমিক ৪০ বছর ও পুরুষের গড়ে ২৫ দশমিক ২০ বছরে বিয়ে হয়ে থাকে। তবে আলোর উৎস হিসেবে ছিটমহলের ৯৩ দশমিক ১০ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে প্রতিবেদনে। সারা দেশে বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছেন ৮১ দশমিক ২০ শতাংশ মানুষ। সারা দেশে আলোর উৎস হিসেবে ১৩ শতাংশ মানুষ কেরোসিন তেল ব্যবহারে বাধ্য হলেও ছিটমহলে এর হার ৪ দশমিক ৯০ শতাংশ। বিদ্যুৎ ব্যবহারে সারা দেশের তুলনায় ছিটমহলের মানুষ বেশ ভালো অবস্থানে আছেন। তা ছাড়া ছিটমহলের ৯৯ শতাংশ মানুষ নলকূপের পানি ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছেন। জাতীয় পর্যায়ে এর হার আরও অনেক কম।

বিবিএস সূত্র জানায়, সাবেক ছিটমহলগুলোর বাসিন্দাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থা নিরূপণে পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) গত বছরের ৫ থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত সব ছিটমহলে এ শুমারির পরিচালনা করে। তার আগে ছিলটমহলগুলোতে বিভিন্ন সময়ে চাহিদা অনুযায়ী জরিপ পরিচালিত হয়েছে। এবারই প্রথম পূর্ণাঙ্গ শুমারি পরিচালিত হয়। এর মাধ্যমে ছিটমহলে অবস্থিত জনসংখ্যা, খানার (পরিবারের) সংখ্যা ও ধরনসহ বাসিন্দাদের বিস্তারিত জনতাত্ত্বিক তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। দেশের অভ্যন্তরে পঞ্চগড়, নীলফামারী, লালমনিরহাট এবং কুড়িগ্রাম জেলায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া ছিটমহলের সংখ্যা ১১১টি। সর্বশেষ এর আগের জরিপ অনুযায়ী এসব ছিটের লোকসংখ্যা প্রায় ৩৭ হাজার ৫৩৫ জন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৮৪১৯২১১-৫, রিপোর্টিং : ৮৪১৯২২৮, বিজ্ঞাপন : ৮৪১৯২১৬, ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৭, সার্কুলেশন : ৮৪১৯২২৯। ফ্যাক্স : ৮৪১৯২১৮, ৮৪১৯২১৯, ৮৪১৯২২০

E-mail: [email protected], [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter