চট্টগ্রামে চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক মামলা

ঝিমিয়ে পড়েছে মনিটরিং কমিটির তদারকি

  চট্টগ্রাম ব্যুরো ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

গত পাঁচ বছরে চট্টগ্রামে একটিমাত্র চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক মামলা চিহ্নিত করেছে সংশ্লিষ্ট কমিটি। যদিও এ সময়ে অসংখ্য খুন, অপহরণ, ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক মামলা মনিটরিং কমিটির মামলা তদারকি কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়েছে। নিয়মিত সভা করতে পারছে না এ কমিটি। ফলে আড়ালেই থেকে যাচ্ছে চাঞ্চল্যকর মামলাগুলো। এদিকে দীর্ঘদিন ধরে চাঞ্চল্যকর মামলা চিহ্নিত না হওয়ায় ২০০৩ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত সময়ে চিহ্নিত ১৩টি চাঞ্চল্যকর মামলার বিচার চলছে সংশ্লিষ্ট আদালতে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানা গেছে, জেলা ও নগরীতে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর মামলাগুলো চিহ্নিত করতে রয়েছে একটি মনিটরিং কমিটি। পদাধিকারবলে জেলা প্রশাসক এ কমিটির প্রধান। সর্বশেষ ২০১৬ সালের ৩০ মে এ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে পটিয়া উপজেলার এক প্রতিবন্ধী কিশোরীকে গণধর্ষণের অভিযোগে করা বিচারাধীন মামলাটি চাঞ্চল্যকর হিসেবে অন্তর্ভুক্তির সুপারিশ করা হয়। এরপর কমিটির আর সভা হয়নি। চিহ্নিত হয়নি চাঞ্চল্যকর কোনো মামলা। জানা গেছে, ২০১৩ সাল থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত এই একটিমাত্র মামলাই চাঞ্চল্যকর হিসেবে চিহ্নিত করেছে মনিটরিং কমিটি। তবে এ পাঁচ বছরে জেলা ও নগরী মিলে খুনের মামলা হয়েছে প্রায় ৯০০টি, অপহরণের ঘটনা ঘটেছে ৬০০টি এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় সাড়ে তিন হাজার মামলা হয়েছে। গত পাঁচ বছরে একটি মামলা চিহ্নিত হলেও তার আগের ১০ বছরে ১৩টি মামলাকে চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক বলে চিহ্নিত করা হয়েছিল। ওই তালিকায় প্রথমেই আছে জেলার বাঁশখালীতে ১১ জনকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় করা মামলাটি। ২০০৩ সালের ১৮ নভেম্বর রাতে বাঁশখালীর সাধনপুর গ্রামের শীলপাড়ায় তেজেন্দ্রলাল শীলের বাড়িতে একই পরিবারের ১১ জনকে পুড়িয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় বিমল কান্তি শীল বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন। এ মামলায় আসামির সংখ্যা ৩৮ জন। সাক্ষী হিসেবে রয়েছে ৫৭ জন, এর মধ্যে মাত্র ৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। মামলার বাদী বিমল কান্তি শীল যুগান্তরকে জানান, এ মামলার কোনো অগ্রগতি নেই। ১৪ বছর ধরে এ মামলার পেছনে পড়ে আছি। কিন্তু ক্ষমতাবান আসামিদের কারণে বারবার এ মামলার কার্যক্রম স্তিমিত হচ্ছে।

এ ছাড়া চাঞ্চল্যকর মামলা হিসেবে চিহ্নিত আগের ১৩ মামলার মধ্যে আছে- পটিয়া থানার একটি মামলা, বোয়ালখালী থানার তিনটি, ফটিকছড়ি থানার একটি, হাটহাজারী থানার তিনটি, নগরীর পাহাড়তলী থানার একটি, বায়েজিদ বোস্তামী থানার একটি, রাঙ্গুনিয়া থানার একটি, পাঁচলাইশ থানার একটি ও বাকলিয়া থানার একটি মামলা।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) সূত্র জানায়, গত পাঁচ বছরে (২০১৩ থেকে ২০১৭) খুনের শিকার হয়েছেন ৪৮১ জন, অপহরণের শিকার হয়েছেন ৩৭৮ জন ও এক হাজার ৯০৯ জন নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৭ সালে নগরীতে খুন হয়েছে ৭০ জন, অপহরণ ৭১ জন ও ৩৫০ জন নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। ২০১৬ সালে খুন হয়েছে ৯০ জন, অপহরণ ৭৫ জন ও ৩৬০ জন নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। ২০১৫ সালে ১০৫ জন খুন, ৬১ জন অপহরণ, ৩৫৭ জন নারী ও শিশু নির্যাতন; ২০১৪ সালে ১২০ জন খুন, ৬৩ জন অপহরণ, ৩৮৭ জন নারী ও শিশু নির্যাতন; ২০১৩ সালে ৯৬ জন খুন, ১০৮ জন অপহরণ ও ৪৫৫ জন নারী ও শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। একই অবস্থা জেলার ১৪টি উপজেলার ১৬টি থানায়। এ প্রসঙ্গে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি রতন রায় যুগান্তরকে বলেন, ‘চাঞ্চল্যকর মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করার মতো গত পাঁচ বছরে চট্টগ্রামে অসংখ্য মামলা হয়েছে। এসব মামলা নথিভুক্ত করা হলে বিচার কার্যক্রম দ্রুত হতো।’

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কোর্ট পরিদর্শক এএইচএম মশিউর রহমান যুগান্তরকে বলেন, অতি গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলোকে চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক হিসেবে চিহ্নিত করে তা দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে এ সংক্রান্ত কমিটি কাজ করছে। কমিটির মিটিং হয় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কক্ষে। তবে গত এক-দেড় বছরে এ বিষয়ে কোনো সভা হয়েছে কিনা, তা আমার জানা নেই। তবে তালিকায় ১৪টি মামলা আছে। এগুলো অনেক আগের। তবে এ চাঞ্চল্যকর ও লোমহর্ষক মামলার বিষয়ে কিছুই জানেন না অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মশহুদুল কবির। আমি আসার পর থেকে এ সংক্রান্ত কোনো মিটিং হয়নি। তবে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে। মশহুদুল কবির অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে গত বছরের ২৩ অক্টোবর যোগ দেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×