রানার উপস্থিতিতে বাদীর সাক্ষ্য

ফারুকের শঙ্কা ছিল এমপি রানা তাকে খুন করতে পারে

  টাঙ্গাইল প্রতিনিধি ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় অবশেষে রোববার আদালতে হাজির করা হয়েছে টাঙ্গাইল-৩ আসনের এমপি আমানুর রহমান খান রানাকে। আওয়ামী লীগের এ এমপির উপস্থিতিতেই মামলার বাদী নাহার আহমেদের সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে চাঞ্চল্যকর এ মামলার কার্যক্রম পর্ব। এর আগে চারবার সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আদালত দিন ধার্য করলেও অসুস্থতার কারণে রানাকে হাজির না করায় সাক্ষ্যগ্রহণ পিছিয়ে যায়।

বেলা ১১টায় বিচারক আবুল মনসুর মিয়া নাহার আহমেদের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু করেন। এ সময় নাহার আহমেদ আদালতকে জানান, মৃত্যুর আগে ফারুক আহমেদ তাকে মাঝে মাঝেই বলতেন এমপি রানা ও তার ভাইয়েরা তাকে মেরে ফেলতে পারেন। তিনি বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হওয়ার কারণেই ফারুককে খুন করে রানা ও তার ভাইয়েরা। এ সময় কাঠগড়ায় উপস্থিত এমপি রানাসহ অন্য আসামিদের নাহার আহমেদ শনাক্ত করেন। নাহার আহমেদের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামি এমপি রানার আইনজীবী আবদুল বাকী মিয়া তাকে জেরা শুরু করেন। পরে আংশিক জেরা হওয়ার পর আদালত ২০ মার্চ পুনরায় জেরা ও অন্য সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেন। এ সময় আদালতের অনুমতি নিয়ে এমপি রানা বলেন, আদালতে নিরাপত্তার ঘাটতি আছে। নিরাপত্তা যথাযথ না হলে তার আদালতে আসা সমস্যা। এ সময় অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি জানান, এমপি রানা রাষ্ট্রীয় হেফাজতে রয়েছেন। তার নিরাপত্তার দায়িত্ব রাষ্ট্রের।

এর আগে টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন এ মামলার প্রধান আসামি এমপি রানাকে রোববার সকাল পৌনে ১০টায় অ্যাম্বুলেন্সে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। টাঙ্গাইল কারাগারে আটক অপর আসামি আনিসুল ইসলাম রাজা, মোহাম্মদ আলী, মো. সমির এবং জামিনে থাকা আসামি নাসির উদ্দিন নুরু, মাসুদুর রহমান ও ফরিদ আহমেদ আদালতে হাজির হন।

এদিকে রাষ্ট্রপক্ষে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি মনিরুল ইসলাম খান, মামলার বাদী নিহত ফারুক আহমেদের স্ত্রী নাহার আহমেদ, ছেলে আহমেদ মজিদ সুমন ও মেয়ে ফারজানা আহমেদ মিথুন সাক্ষী হিসেবে উপস্থিতি ছিলেন। সাক্ষী প্রদান শেষে বাদী নাহার আহমেদ জানান, এ মামলার আসামি রানা অসুস্থতার অজুহাতে বিচার কার্য বিলম্বিত করেছেন। তিনি যাতে আর কোনো অজুহাতে বিচার কাজ বিলম্বিত করতে না পারেন সেজন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ফারুক আহমেদের গুলিবিদ্ধ লাশ তার কলেজপাড়া এলাকার বাসার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনার তিন দিন পর তার স্ত্রী নাহার আহমেদ বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

 

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.