ভোলায় ভূত তাড়ানোর চিকিৎসা

দগ্ধ গৃহবধূ ঢামেক বার্ন ইউনিটে

  ভোলা প্রতিনিধি ২১ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

চিকিৎসা

শরীরে কেরোসিন ঢেলে ধূপ দিয়ে জিন-ভূত তাড়াতে গিয়ে সৃষ্ট আগুনে মারাত্মক দগ্ধ হয়েছেন ভোলার এক গৃহবধূ। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গৃহবধূ জোছনা বেগমের ভূত তাড়াতে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে ধূপ দেয় ওঝা অষ্টম শ্রেণীর মাদ্রাসাছাত্রী রুনা বেগম। এ সময় আগুনে জোছনার শরীর পুড়ে যায়। আগুন নিভিয়ে তাকে তাৎক্ষণিক ভোলা সদর হাসপাতালে নেয়া হয়।

এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে শনিবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনার পর ওঝা রুনার নানা ও নানিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আদালতের মাধ্যমে তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। তবে রুনা ও তার বাবা-মা পালিয়ে গেছে। এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা হয়েছে।

ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের সিভিল সার্জন ডা. রথীন্দ্রনাথ মজুমদার জানান, জোছনা বেগমের শরীরের ৪৫ ভাগ পুড়ে ঝলসে গেছে। তার মাথা, হাত ও মুখমণ্ডল দগ্ধ হয়েছে। তার উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। ভোলার পশ্চিম ইলিশায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ ওঝা রুনার নানা বেলায়েত হোসেন (৬০) ও নানি অহিদা বেগম লাইলীকে (৫৫) আটক করেছে। নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা হলে তাদের শনিবার বিকালে আদালতে হাজির করা হয়। বিচারক তাদের জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।

রুনার নানি লাইলী জানান, নানার বাড়ি থেকে রুনা পড়ালেখা করে। ৭-৮ বছর আগে রুনাকে জিনে ভর করে। ২-৩ বছর হল জিন ধরার পর রুনা অনেক ধরনের কথা বলত। তার ঝাড়ফুঁকে অনেকের সমস্যার সমাধান হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকে মানুষ তার কাছে চিকিৎসা নিতে আসতে শুরু করে। মানুষ হাদিয়া হিসেবে ১০ টাকা থেকে ৫০ টাকা তাকে দিত।

এভাবে বাড়িতেই রুনার ঝাড়ফুঁক জমে ওঠে। অগ্নিদগ্ধ জোছনার মেয়ে রুনার সহপাঠী। লাইলী আরও জানান, সহপাঠীর অনুরোধে রুনা একই এলাকার ৮নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা জোছনা বেগমের (৪০) চিকিৎসা শুরু করে। জোছনার বাড়িতে গিয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তার শরীরে কেরোসিন ঢেলে দেয় রুনা। এরপর ধূপকাঠি দিয়ে ছ্যাঁকা দেয়ার পর ধূপ ছিটিয়ে দেয়া মাত্রই আগুন লেগে যায় এবং মুহূর্তের মধ্যেই তা ছড়িয়ে পড়ে। তাৎক্ষণিক তার শরীরে পানি ঢেলে আগুন নেভানো হয়। এরপর তাকে দ্রুত ভোলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

জোছনাকে চিকিৎসা করার সময় রুনাকে সহযোগিতা করেছেন বলে যুগান্তরের কাছে স্বীকার করেছেন লাইলী। তিনি বলেন, আগুন নেভানোর ফাঁকেই তিনি রুনাকে নিয়ে পালিয়ে আসেন। এরপর রাতেই জেলার শহরতলী আলগী এলাকায় রিকশাচালক বাবা আবুল হাসেমের বাড়িতে তাকে পাঠিয়ে দেন। স্থানীয়রা জানান, ছয় মাস ধরে রুনার কাছে দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আসতে শুরু করেন। জিন দিয়ে তার চিকিৎসা পদ্ধতি রমরমা হয়ে উঠে।

ভোলার সিভিল সার্জন জানান, জিন-ভূত বলতে কিছু নেই। রুনাকে দিয়ে তার নানা-নানি চিকিৎসার নামে প্রতারণা করেছে। ভোলা থানার ওসি মো. ছবির হোসেন জানান, রুনা ও তার বাবা-মা পালিয়ে গেছে। তাদের খুঁজে বের করতে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×