টেকনাফে ৩ ইয়াবা কারবারির প্রাসাদ ও জমি ক্রোক

প্রকাশ : ০২ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

কক্সবাজারের টেকনাফে আদালতের নির্দেশে শীর্ষ তিন ইয়াবা কারবারির দোতলা তিনটি ‘রাজপ্রাসাদ’সহ জমি ক্রোক করা হয়েছে। এখন এ সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণ করবে পুলিশ। ক্রোক করা সম্পদের দাম ৩০ কোটি টাকার বেশি হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। যে তিন ইয়াবা কারবারির সম্পদ ক্রোক করা হয়েছে, তারা হলেন টেকনাফের নাজিরপাড়ার এজাহার মিয়া ও তার দুই ছেলে নুরুল হক ভুট্টো ও নূর মোহাম্মদ ওরফে মংগ্রী। এর মধ্যে নুরুল হক ভুট্টো ইয়াবা ব্যবসায়ীদের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন। তবে এর মধ্যে ২ মাস আগে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নূর মোহাম্মদ নিহত হয়েছেন। টেকনাফ মডেল থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাসের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল শনিবার সকাল থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত টেকনাফের নাজিরপাড়া এলাকায় ইয়াবা ব্যবসায়ীদের রাজপ্রাসাদের মতো বাড়িগুলোতে অভিযান চালায়। এ সময় ওই তিন ইয়াবা ব্যবসায়ীর দোতলা তিনটি বাড়ি ক্রোক করে পুলিশ। এ সময় বাড়িতে থাকা লোকজনকে বের করে দিয়ে বাড়িগুলো পুলিশ নিজেদের জিম্মায় নেয়। টেকনাফ মডেল থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাস বলেন, এ প্রথম আদালতের নির্দেশে শনিবার তিন ইয়াবা কারবাড়ির বাড়ি ক্রোক করা হয়েছে। বাড়িগুলো এখন পুলিশের হেফাজতে থাকবে। আদালতের নির্দেশে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে। যেসব বাড়ি ক্রোক করা হয়েছে সেগুলোর মালিক একসময় রিকশা ও ভ্যানচালক ছিলেন। এখন তারা সবাই কোটি টাকার মালিক। তিনি বলেন, সীমান্তে লবণ চাষি, দিনমজুর, রিকশা ও ভ্যানচালকরা মরণনেশা ইয়াবা বেচাকেনা করে টেকনাফে আলিশান সব বাড়ি বানিয়েছেন। সারা দেশে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হলে এসব বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ীরা। আবার অনেকে গ্রেফতার ও বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। ইয়াবার টাকায় যারা অবৈধ সম্পদের মালিক বনেছেন, পর্যায়ক্রমে তাদেরও একই পরিণতি হবে। ওসি আরও জানান, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডির করা মামলায় এ আদেশ দেন আদালত। ২৩ মে এ রায় দেন কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ খোন্দকার হাসান মো. ফিরোজ। এ প্রথম মাদক সংক্রান্ত ঘটনায় মানি লন্ডারিং আইনে করা মামলায় আদালত এ ধরনের আদেশ দেন। অভিযান পরিচালনাকারী দলে থাকা ওসি (তদন্ত) এমএস দোহা বলেন, ইয়াবার টাকায় টেকনাফে অনেকে রাজপ্রাসাদের মতো বাড়ি বানিয়েছেন। তার মধ্যে ইয়াবা ব্যবসায়ী ওই তিন ব্যবসায়ীর বাড়ি দেখলে মনে হয় এটা যেন কোনো রাজার বাড়ি।