কিশোরগঞ্জ আদালতে মাহিনের স্বীকারোক্তি

মুক্তিপণের পরিকল্পনা টের পাওয়ায় বন্ধুকে গলা কেটে হত্যা

আরও দুইজন গ্রেফতার

  ভৈরব প্রতিনিধি ০২ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ফারদিন আলম রূপককে (১৬) হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে তার বন্ধু রেজুয়ান কবির খান মাহিন। শনিবার আদালতে মাহিন জানায়, ধনী বাবার সন্তান রূপককে অপহরণ করে তারা কয়েকজন মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু এ পরিকল্পনা রূপক টের পেয়ে যাওয়ায় গলা কেটে তাকে আমরা হত্যা করেছি। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আমজাদ হোসেন জানান, সকালে কিশোরগঞ্জ আদালতে প্রধান আসামি মাহিনসহ তিনজনকে হাজির করা হয়। রূপককে হত্যার কথা স্বীকার করে বিকালে মাহিন আদালতে জবানবন্দি দেয়। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আশিকুর রহমানের আদালতে তিন বন্ধুর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়।

এদিকে শনিবার সকালে ভৈরবপুর দক্ষিণপাড়া এলাকা থেকে বাসার মালিক আবুবকর সিদ্দিকের ছেলে শাহ সুফিয়ান (৩১) এবং ভাড়াটিয়া শাহজাহান পাটোয়ারীর ছেলে ইয়ারফাত পাটোয়ারীকে (৩২) র‌্যাব সদস্যরা আটক করে। পরে তাদের থানায় সোপর্দ করা হয়।

১৬৪ ধারায় দেয়া জবানবন্দিতে মাহিন জানায়, রূপক আমাদের বন্ধু ছিল। তার বাবার অনেক টাকা আছে ভেবে তাকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা করেছিলাম আমি, রবিউল আওয়াল রাব্বি ও আরাফাত পাটোয়ারী পিয়াল। পরিকল্পনা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে আমি তাকে মোবাইল ফোনে রাব্বিদের বাসায় আসতে বলি। রূপক এলে আমরা তাকে বাসার ছাদে নিয়ে যাই। কিন্তু রূপক পরিকল্পনা টের পাওয়ায় তার গলায় দড়ি দিয়ে প্যাঁচ দেই। এতে সে অজ্ঞান হয়ে যায়। তখন আমরা তিন বন্ধু ভয় পেয়ে যাই। এ ঘটনা তার বাবা জানলে আমাদের কঠোর শাস্তি দিতে পারেন ভেবে আমি ছুরি দিয়ে তার গলা কেটে ফেলি। এ সময় রাব্বি ও পিয়াল তাকে ধরে রাখে। এরপর তার মৃত্যু নিশ্চিত করে তার লাশ একটি বস্তায় ভরে ছাদে ফেলে রাখি। এরপর আমরা যার যার মতো বাসায় চলে যাই।

মাহিন আরও জানায়, শুক্রবার সকালে রূপকের বাবা জিজ্ঞাসা করলে বলি তার খবর জানি না। কিন্তু রাব্বিকে তার চাচা পিটুনি দিলে সে হত্যার ঘটনা বলে দেয়। তখন আমি জানতাম না রাব্বি সব ঘটনা বলে দিয়েছে। রাব্বি আমাকে ফোন দিয়ে তার বাসায় যাওয়ার কথা বলে। বাসায় গেলে পুলিশ আমাদের তিনজনকে আটক করে। ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে রাব্বি ও পিয়াল। জবানবন্দিতে তারাও একই কথা বলেছে।

এ ঘটনার পর পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ আটজনের বিরুদ্ধে রূপকের বাবা ভৈরব থানায় হত্যা মামলা করেন। ময়নাতদন্তের পর রূপকের লাশ শনিবার ভৈরবের বাসায় আনা হয়। মাগরিবের নামাজের পর জানাজা শেষে নরসিংদীর রায়পুরা থানার গৌরীপুর গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে লাশ দাফন করা হয়। ভৈরব বাজার টিনপট্টির বাসিন্দা রড ও সিমেন্ট ব্যবসায়ী নূরে আলম বিপ্লবের ছেলে রূপক ভৈরব কেবি হাইস্কুল থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে। এদিকে রূপক হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে শনিবার বিকালে ব্যবসায়ীরা ভৈরব বাজারের টিনপট্টিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ মিছিল করেন।

এতে দুই শতাধিক ব্যবসায়ী অংশ নেন। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের তারা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×