আ’লীগের সেমিনারে বক্তারা

সবাই মিলে চেষ্টা করলে পরিবেশ সুরক্ষিত হবে

  যুগান্তর রিপোর্ট ০২ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পরিবেশ সুরক্ষায় জনসচেতনতা সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করে বক্তারা বলেছেন, পরিবেশ সুরক্ষা সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়। কেবল আইনের প্রয়োগে এটি সম্ভব না। দেশের মানুষ সচেতন হলে এবং সবাই মিলে চেষ্টা করলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পরিবেশ সুরক্ষিত হবে। বৃক্ষরোপণ ও সচেতনা বৃদ্ধি পেলে পরিবেশ বিপর্যয় থেকে বাংলাদেশ রক্ষা পাবে। শনিবার দুপুরে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ উপ-কমিটি আয়োজিত ‘বায়ু দূষণ, করণীয় ও পদক্ষেপ’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এ কথা বলেন।

আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক উপ-কমিটির চেয়ারম্যান খন্দকার বজলুল হকের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক হাফিজা খাতুন, ডিবিসি নিউজের সিইও সাংবাদিক মঞ্জুরুল ইসলাম, স্থপতি ইকবাল হাবীব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন, অ্যাডভোকেট মঞ্জিল মোর্শেদ। আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।

মতিয়া চৌধুরী বলেন, সেমিনারে প্রায় সব বক্তাই বলেছেন ইটভাটার কারণে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। এটা আমাদের বাতাস দূষণের জন্য একটা ফ্যাক্টর। কিন্তু একই সঙ্গে আমরা চিন্তা করতে হবে ইটের মাধ্যমে বিল্ডিং তৈরি হচ্ছে, এটা আমাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতার প্রমাণ। অন্যদিকে আমাদের দেশে রকি এরিয়ার মতো পাথর পাওয়া যায় না। তবে এখানে আশার কথা হলো আমাদের হাউস বিল্ডিং ফ্যাইন্যান্স কর্পোরেশন ইটের বিকল্প একটি পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন যা আমরা অনেকেই জানি না। যা বালু, মাটি এবং সিমেন্ট মিশিয়ে করা হয়। যার নাম হর ব্লক, যা ইটের বিকল্প ব্যবহার হচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের দেশের তাপমাত্রা কমানোর জন্য অনেকগুলো গাছ রয়েছে। কিন্তু আমরা সেগুলো রোপণ করি না। আমরা আম গাছ, নিম গাছ নিধন করে ইউক্যালিপটাস, আকাশি গাছ রোপণ করি। যে গাছে পাখি পর্যন্ত বসে না। নগরবিদ এবং পরিবেশবিদরা এ নিয়ে কোনো কথা লিখছেন বা বলছেন কিনা সেটা আমার মনে পড়ে না।

অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত বলেন, আগে এক সময় গ্রামাঞ্চলের রাস্তার দু’পাশে বিভিন্ন ফলমূলের গাছ ছিল। যেখানে বিভিন্ন পশু-পাখি এসে বসত। সেই ফলমূল খেতে পারত। এখন সেই গাছগুলো রিপ্লেস হয়ে গেল। যেগুলো লাগানো হয় সেগুলো পাতাবাহারের, ওখান থেকে কতটুকু কার্বন ডাইঅক্সাইড অ্যাবজর্ভ হচ্ছে, কতটুকু অক্সিজেন নিঃসরণ হচ্ছে সেটা আমাদের দেশে মাপা হচ্ছে না। অধ্যাপক দ্বীজেন শর্মা যখন বেঁচে ছিলেন তখন এই বিষয়ে অনেক গবেষণা পেতাম।

তিনি বলেন, বায়ু দূষণ রোধ করতে মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। বিধিমালা করে সরকারের একার পক্ষে বায়ু দূষণ রোধ করতে পারবে না। এবারের পরিবেশ দিবসের মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে বায়ু দূষণ। এর বাইরে শব্দ দূষণ এবং পানি দূষণ নাগরিক জীবনের জন্য হুমকি। শব্দ দূষণের জন্য গত দুই বছর পরিবেশ অধিদফতর প্রতিটি বিভাগে চালকদের প্রশিক্ষণ এবং মানুষকে সচেতন করতে কাজ করছে। আমাদের জন্য এলার্মি বিষয়টা হল ২০০৬ সালে ১২৫তম এখন আমরা ১৭৯ স্থানে নেমে এসেছি। প্রত্যেকটি নাগরিক যদি সচেতন হয় তাহলে এর থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব। সাবেক এই ভিসি বলেন, এখন যে শিশুদের ডায়েরিয়া, কাশি বেড়ে যাচ্ছে, আমরা কতটুকু ফাস্টফুড খাচ্ছি, সেটা নিয়ে গবেষণা দরকার। মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য বায়ু দূষণ দায়ী নয়, বরং আমাদের লাইফস্টাইল যে আমরা পরিবর্তন করেছি সেটা অনেকাংশে দায়ী। বায়ু দূষণের জন্য আমাদের আরামপ্রিয়তার দায় আছে। আমরা রাত ৯টায় এসি চালিয়ে দেই, সেটা সকাল ৯টা পর্যন্ত চলে।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. খন্দকার বজলুল হক বলেন, আওয়ামী লীগ দেশকে স্বাধীন করেছে। দেশ ও মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অগ্রগতি এনে দিয়েছে। কেবল এ দলটিই দেশ ও পরিবেশ সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×