ঈদের ছুটিতে ডাক্তার সংকটের শঙ্কা

শেবাচিম হাসপাতাল ছাড়ছে রোগীরা

  তন্ময় তপু, বরিশাল ব্যুরো ০৩ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঈদের ছুটিতে ডাক্তার সংকটের শঙ্কায় দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ চিকিৎসা কেন্দ্র শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ছাড়তে শুরু করেছে রোগীরা। অনেকের অভিযোগ, জোর করেও রোগীদের ছাড়পত্র দেয়া হচ্ছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, ঈদের ছুটিতে চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীদের নিয়ে বিশেষ রোস্টার করা হয়েছে। চিকিৎসা সেবায় কোনো সমস্যা হবে না। আর যারা হাসপাতাল ছাড়ছেন হয়তো তাদের চিকিৎসা শেষ তাই ছেড়ে দিচ্ছেন। কোনো রোগীকে জোর করে ছাড়পত্র দেয়া হচ্ছে না। সুস্থ হওয়ায় এবং রোগীদের ইচ্ছায় ছাড়পত্র দেয়া হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শেবাচিম হাসপাতালে একটি ব্যাচের ইন্টার্নি শেষের পথে আর একটির শুরু হয়েছে। তাই এবার ইন্টার্ন চিকিৎসকের সংখ্যা হাসপাতালে দ্বিগুণ। মোট ৩২৬ জন ইন্টার্নের মধ্যে ৫০ জনের অধিক ভিন্ন ধর্মাবলম্বী, এছাড়া ১৫০ জনের এর বেশি রয়েছেন, যাদের দূরের জেলায় বাড়ি। তাই সব মিলিয়ে শতাধিক ইন্টার্ন চিকিৎসক ঈদের ছুটিতে হাসপাতালে রোগীর সেবায় দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া হাসপাতালে মিডলেভেল (রেজিস্ট্রার, সহকারী রেজিস্ট্রার, আইএমও, আরএমওসহ বিভিন্ন পদ) চিকিৎসকের ২২৪টি পদে ১০৬ জন চিকিৎসক রয়েছেন। যার মধ্যে মাত্র ১৭ জন ভিন্ন ধর্মাবলম্বী। তবে আশপাশে যাদের বাড়ি তারাসহ অন্তত অর্ধশতাধিক মিডলেভেলের চিকিৎসক ঈদের ছুটিতে দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া ৮০৬টি পদের অনুকূলে ৭৬৮ জন নার্সিং কর্মকর্তার মধ্যে ৩২০ জনের একটি ঈদ স্পেশাল রোস্টার চূড়ান্ত করা হয়েছে।

এদিকে ঈদকে ঘিরে কয়েকদিন ধরে ছাড়পত্র নিয়ে রোগীদের চলে যাওয়ার সংখ্যা বেড়েছে। হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে যেখানে রোগীর উপচে পড়া ভিড় ছিল, সেখানে এরই মধ্যে বেড ফাঁকা হয়ে গেছে। বেশ কয়েকজন রোগীর স্বজন অভিযোগ করেন, জোর করে তাদের হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। তবে আবার অনেকে বলেছেন, ঈদে হাসপাতালে ভোগান্তির মধ্যে থাকতে হয়। চিকিৎসক পাওয়া যায় না। তাই রোগীদের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

হাসপাতালের প্রশাসনিক দফতর থেকে জানা গেছে, ২৯ মে হাসপাতালে ১ হাজার ২শ’ জনের ওপর রোগী ছিল। পরদিন ৩০ মে ৪শ’ জনের মতো রোগী চিকিৎসকের কাছ থেকে ছাড়পত্র নিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন আর ৭৭ জন স্বইচ্ছায় কাউকে না জানিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন। তবে ওইদিন ৩৪২ জন রোগী নতুন করে ভর্তিও হয়েছেন। একইভাবে ৩১ মে ১৭৭ জন রোগী চিকিৎসকের কাছ থেকে ছাড়পত্র নিয়েছেন এবং ৮৯ জন স্বইচ্ছায় কাউকে না জানিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন। আর ওইদিন নতুন করে ৩শ’ জনের মতো রোগী ভর্তি হয়েছেন। ১ জুন ৩৫৯ জন রোগী চিকিৎসকের কাছ থেকে ছাড়পত্র নিয়েছেন এবং ৮৮ জন স্বইচ্ছায় হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন। আর ওইদিন নতুন করে সাড়ে ৩শ’ জনের মতো রোগী ভর্তি হয়েছেন।

স্বাধীনতা নার্সেস পরিষদের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান জানান, মূলত হাসপাতালের বহির্বিভাগ ঈদের দিন বন্ধ থাকবে। এছাড়া আন্তঃবিভাগে ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসাসেবা দেয়া হবে। আমরা ঈদে সর্বোচ্চ ৫ দিনের ছুটি কাটাতে পারি। তবে নার্সিং দফতরের পক্ষ থেকে হিন্দুসহ ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের নিয়ে একটি বিশেষ রোস্টার করা হয়েছে। এতে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবেই চলবে।

শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ডা. বাকির হোসেন বলেন, ঈদের সময়টাতে রোগীরা একটু সুস্থ বোধ করলে স্বইচ্ছায় অনেকেই কিছু না বলে চলে যান, আবার অনেকে চিকিৎসকের কাছে যান বাড়িতে কিভাবে ওষুধ সেবন করবেন তা জানতে।

তাদেরই ছাড়পত্র দিয়ে দেয়া হয়। কোনো চিকিৎসক কোনো অসুস্থ রোগীর নাম কাটেন না, রোগীর কন্ডিশন বুঝে সুস্থ যারা তাদেরই ছাড়পত্র দেয়া হয়। তিনি আরও বলেন, ঈদের ছুটি বলতে শুধু ঈদের দিন হাসপাতালের বহির্বিভাগ বন্ধ থাকবে। এছাড়া ঈদের আগের দিন ও পরের দুই দিন থেকে স্বল্প পরিসরে বহির্বিভাগ চালু রাখা হবে। এরপর স্বাভাবিক নিয়মে হাসপাতাল চলবে। ঈদের সময়টাতে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে দায়িত্ব পালনকারী চিকিৎসকদের জন্য খাবারের ব্যবস্থাও হাসপাতাল থেকে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×