শিক্ষার্থীকে ফাঁসাতে গিয়ে গণধোলাইয়ের শিকার দুই পুলিশ

প্রকাশ : ০৩ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  ভৈরব প্রতিনিধি

ভৈরবে শিক্ষার্থীকে মাদক দিয়ে ফাঁসাতে গিয়ে গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছেন ভৈরব থানা পুলিশের দুই এসআই। এরা হলেন আবুল খায়ের ও আজিজুল হক। শিক্ষার্থীর নাম সজীব আহমেদ এবং তার বাবার নাম সাব মিয়া। বাড়ি উপজেলার সম্ভুপুর এলাকায়। তার বাবা পেশায় কাঠমিস্ত্রি। শিক্ষার্থী সজীব সম্ভুপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্র। শনিবার রাত সাড়ে ৮টায় ভৈরবের সম্ভুপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে ভৈরব থানার অন্য পুলিশ অফিসাররা দুই অফিসারকে জনতার হাত থেকে উদ্ধার করেন। এ সময় পুলিশ সজীবের বাবাসহ ৬ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। শিক্ষার্থীর পরিবারের দাবি, মদের বোতল দিয়ে শিক্ষার্থীকে ফাঁসানোর চেষ্টা করে দুই পুলিশ অফিসার। তবে দুই পুলিশ অফিসার গণধোলাইয়ের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

সজীবের পরিবারের লোকজন ও এলাকাবাসী জানান, মোটরসাইকেলে সজীব দুই বন্ধুকে নিয়ে শনিবার সন্ধ্যার পর ভৈরব বাজারে ঈদের কেনাকাটা করতে যায়। বাসায় ফেরার পথে শহরের চান্দ ভাণ্ডারের কাছে পৌঁছলে পোশাকবিহীন দুই পুলিশ অফিসার খায়ের ও আজিজুল তাদের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে। এ সময় তাদের শরীরে পুলিশের পোশাক ছিল না বলে জানায় সজীব। এরপর দুই পুলিশ তাদের বলে, তোদের কাছে মদ আছে। পুলিশের কথায় ভয় পেয়ে সজীবের দুই বন্ধু একটি মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে গেলেও সজীব আটকে যায়। এ সময় এসআই খায়ের সজীবকে বলেন, তোর থানায় যেতে হবে এবং সজীবের মোটরসাইকেলে এসআই আজিজুলকে পেছনে তুলে দেন। এ সময় সজীব এসআই আজিজুলকে নিয়ে দ্রুত তার বাড়ি সম্ভুপুরের দিকে যেতে থাকে। এসআই খায়ের ঘটনা দেখে তার মোটরসাইকেল নিয়ে সজীবের পেছনে ছুটতে থাকে। সম্ভুপুর এলাকায় পৌঁছে সজীব তার মোটরসাইকেল ফেলে দৌড়ে বাসায় গিয়ে ঘটনা খুলে বলে। তার বাবা ঘটনা শুনে ঘটনাস্থলে এসে লোকজনকে ঘটনাটি অবহিত করলে জনতা দুই পুলিশকে ধরে গণধোলাই দিতে থাকেন। এ সময় এলাকার কিছু মুরব্বি জনতার হাত থেকে দুই পুলিশকে উদ্ধার করে আটকে রাখেন। ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোখলেছুর রহমান জানান, সজীবের হাতে মদ থাকায় পুলিশ তাদের আটক করে থানায় নিয়ে আসার সময় সজীবসহ তিন বন্ধু পালিয়ে যায়। এ সময় সজীব এসআই আজিজুলকে মোটরসাইকেলে নিয়েই পালিয়ে যেতে চাইলে খায়ের পেছনে ছুটে যায়। পুলিশ গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছে তা তিনি অস্বীকার করেন।