সোনারগাঁয়ে দরিদ্রদের কর্মসংস্থান কর্মসূচির অর্থ আত্মসাৎ

  যুগান্তর রিপোর্ট, সোনারগাঁ ০৩ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নে অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থান কর্মসূচিতে (ইজিপিপি) ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ প্রকল্পের আওতায় উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে ৩৫টি ছোট বড় মাটির রাস্তা নির্মাণের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতর থেকে ১ কোটি ৬৬ লাখ ১৬ হাজার টাকা অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়। প্রতিটি প্রকল্পে উপকারভোগীর সংখ্যা উল্লেখ করে দেয়া হলেও প্রকল্পগুলোতে উল্লিখিত উপকারভোগীর চেয়ে কম সংখ্যক জনবলকে কাজে লাগিয়ে পুরো উপকারভোগীর অর্থ তুলে নেয়া হচ্ছে। এসব অর্থ ব্যাংক থেকে উপকারভোগীরা নিজে তুলে নেয়ার কথা থাকলেও এ অর্থ তুলে নিচ্ছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি।

উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নে ১টি, পিরোজপুর ইউনিয়নে ৫টি, মোগরাপাড়া ইউনিয়নে ২টি, শম্ভুপুরা ইউনিয়নে ৮টি, কাঁচপুর ইউনিয়নে ৪টি, সাদিপুর ইউনিয়নে ৫টি, নোয়াগাঁও ইউনিয়নে ২টি, বারদী ইউনিয়নে ৫টি, সনমান্দি ইউনিয়নে ১টি ও জামপুর ইউনিয়নে ৫টি প্রকল্প বরাদ্দ দেয়া হয়। বরাদ্দ পাওয়ার পর ২৭ এপ্রিল থেকে বিভিন্ন ইউনিয়নে অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থান কর্মসূচির কাজ শুরু করা হয়। কর্মসূচি শেষ হবে ১৫ জুন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নে দুটি মাটির রাস্তা নির্মাণের জন্য ১২ লাখ ১৬ হাজার টাকা অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়। ইউনিয়নের নয়ানগর মসজিদ হতে জয়নাল আবেদনের বাড়ি পর্যন্ত মাটির রাস্তা নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৭ লাখ বিশ হাজার টাকা। এ প্রকল্পে উপকারভোগীর সংখ্যা ৯০ জন। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায় ওই রাস্তায় ৯০ জনের পরিবর্তে কাজ করছে মাত্র ১৬ জন উপকারভোগী। কাজ না করিয়েই বাকি ৭৪ জন উপকারভোগীর অর্থ তুলে নেয়া হচ্ছে। একই চিত্র দেখা গেছে এ ইউনিয়নের পেকির চর মেইন রাস্তা থেকে তোফাজ্জল মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ কাজে। এ রাস্তা নির্মাণ ৪ লাখ ৯৬ হাজার টাকা অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এ উপকারভোগীর সংখ্যা ৬২ জন। অথচ সরেজমিন গিয়ে প্রকল্পের কাজে পাওয়া গেছে মাত্র ১১ জন। বাকি ৫১ জনকে উপকারভোগীকে কাজ না করিয়েই তাদের অর্থ আত্মসাৎ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই চিত্র দেখা গেছে উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নের প্রকল্পেও।

নোয়াগাঁও ইউনিয়নের দুটি প্রকল্পের অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে ১৩ মে দুর্যোগ ও ব্যবস্থাপনা ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বরাবর এলাকাবাসী একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

নোয়াগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউসুফ দেওয়ান বলেন, প্রকল্পে কতজন কাজ করছে সেটা বিষয় না। কাজ হচ্ছে কিনা সেটাই দেখার বিষয়। শুধু আমি না, এ প্রকল্পে সব জনপ্রতিনিধিই সোনারগাঁয়ে এভাবেই কাজ করাচ্ছেন।

সোনারগাঁ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম জানান, প্রকল্পে উল্লিখিত উপকারভোগীদেরকে দিয়েই কাজ শেষ করতে হবে। উপকারভোগী কমবেশি হলে হবে না। যদি কম লোকবল দিয়ে কাজ করিয়ে থাকে তার প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রতিটি প্রকল্পের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ বাজেট রয়েছে। সেই বাজেট ঘাটতি হওয়ার সুযোগ নেই।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×