সৈয়দপুর ও চরফ্যাশন

দুই ইউপি সদস্যের বাড়ি থেকে ৫৯ বস্তা সরকারি চাল উদ্ধার

  যুগান্তর ডেস্ক ০৩ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ভোলার চরফ্যাশন ও নীলফামারীর সৈয়দপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্যের বাড়ি থেকে ৫৯ বস্তা সরকারি চাল উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার চরফ্যাশনে ৪২ বস্তা এবং সৈয়দপুর থেকে ১৭ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়। এছাড়া একই দিন কাগজপত্র না থাকায় কুড়িগ্রামের উলিপুরে ৮৪০ বস্তা চাল আটক করে পুলিশ। এ সম্পর্কে প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

চরফ্যাশন (ভোলা) : চরফ্যাশনের চরকলমী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জলিল ফরাজীর বসত ঘর থেকে চালের বস্তাগুলো উদ্ধার করা হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রুহুল আমিন অভিযান চালিয়ে ৪২ বস্তা চাল উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা রমেন্দ্রনাথ বিশ্বাস বাদী হয়ে জলিল ফরাজীর বিরুদ্ধে শশীভূষণ থানায় মামলা করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউপি চেয়ারম্যান কাউসার আহাম্মেদের সঙ্গে আঁতাত করে ভিজিডি চাল কালোবাজারে বিক্রির জন্য মজুদ করা হয়েছিল।

ইউপি চেয়ারম্যান কাউসার আহমেদ জানান, কীভাবে ভিজিডির চাল ইউপি সদ্যসের বাড়িতে গেছে তা তার জানা নেই। তিনি বলেন, ভিজিডি চাল পরিষদ থেকে বণ্টন করা হয়েছে। অভিযুক্ত ইউপি সদস্য জলিল ফরাজীর মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা রমেন্দ্রনাথ জানান, ভিজিডি চাল কালোবাজারে বিক্রির জন্য ইউপি সদস্যের বাড়িতে রাখা হয়েছে- এমন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ৪২ বস্তা (১২৬৮ কেজি) চাল উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় শশীভূষণ থানায় মামলা করা হয়েছে। চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রুহুল আমিন জানান, ইউপি সদস্যের বাড়ি থেকে চাল উদ্ধার করা হয়েছে। শশীভূষণ থানার ওসি মনিরুল ইসলাম জানান, ভিজিডি চাল মজুদ রাখার অপরাধে মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত ইউপি সদস্যকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

সৈয়দপুর (নীলফামারী) : সৈয়দপুরের বাঙালিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী আসনের ইউপি সদস্যের বাড়ি থেকে ১৭ বস্তা (৫১০ কেজি ) ভিজিএফ চাল উদ্ধার করা হয়েছে। দুপুরে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম গোলাম কিবরিয়ার নেতৃত্বে ভিজিলেন্স টিম চোরাই চাল উদ্ধার করে। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে উপজেলার বাঙালিপুর ইউনিয়নে হতদরিদ্রদের মাঝে চাল বিতরণ চলছিল। গোপন সংবাদে খবর মেলে ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত সদস্য রশিদা বেগম চাল আত্মসাৎ করেছেন। এ অবস্থায় ভিজিলেন্স টিম লক্ষ্মণপুর এলাকায় রশিদার বাড়ি তল্লাশি করে সেখান থেকে ১৭ বস্তা চোরাই ভিজিএফ চাল উদ্ধার করে।

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) : কুড়িগ্রাম-চিলমারী সড়কের উলিপুর বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন পেট্রল পাম্প এলাকায় থেকে ৮৪০ বস্তা সরকারি চাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় তিনজনকে আটক করা হয়। উলিপুর সরকারি খাদ্য গুদাম থেকে ৮৪০ বস্তা চাল নিয়ে একটি ট্রাক ও একটি ট্রলি বের হলে টহলরত পুলিশ টিমের সন্দেহ হয়। এরপর গাড়ি দুটিকে আটক করা হয়। এ সময় গাড়ি দুটির ড্রাইভার-হেলপার জানায়, ঈদ উপলক্ষে ভিজিএফ’র চাল দুর্গাপুর ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যাচ্ছে। গাড়ি ভর্তি চাল সরকারি গুদাম থেকে বের হওয়ার কাগজপত্র পুলিশ দেখতে চাইলে তারা দেখাতে ব্যর্থ হয়। তাদের আচরণ সন্দেহজনক হলে পুলিশ তাদের আটক করে। আটকরা হল- কুড়িগ্রাম সদর থানার প্রতাপ কাঁঠালবাড়ী গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে নজরুল ইসলাম (৩৫), বানচার ভিটাগ্রামের তমিজ উদ্দিনের ছেলে আব্দুস সালাম (৫৫) ও উলিপুর থানার দুর্গাপুর বাজারের মোজাফফর হোসেনের ছেলে সাহাদৎ হোসেন সুমন (২২)।

উলিপুর সরকারি খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনোয়ারুল ইসলাম জানান, চাল বোঝাই গাড়ি দুটির মধ্যে ট্রাক ও ট্রলি ছিল। এরমধ্যে ট্রাকের চালগুলো উলিপুর খাদ্য গুদাম থেকে কুড়িগ্রাম সরকারি গুদামে প্রোগ্রামের আওতায় যাচ্ছিল। ট্রলির চালগুলো ধরনীবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের ভিজিএফের ছিল। পুলিশ গাড়ি দুটি আটক করেছে। প্রোগ্রামের ঠিকাদারসহ থানায় গিয়ে ইনভয়েস (চালান) দেখানো হলেও পুলিশ চালের গাড়িগুলো ছাড়ছে না। গাড়িতে চাল পাঠানোর কাগজপত্র ছিল না কেন- জানতে চাইলে তিনি বলেন, ১৩৫ টনের প্রোগ্রাম হয়েছে। ইনভয়েসগুলো ঠিকাদাররা শেষে নিয়ে যান। এ কারণে গাড়িতে কাগজপত্র ছিল না। থানার অফিসার ইনচার্জ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, সরকারি গুদাম থেকে চাল বের হলেই গেট পাসসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকার কথা। ভিজিএফ’র চাল হলে ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধি গাড়ির সঙ্গে থাকার কথা। চালক-হেলপাররা কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। অসৎ উদ্দেশ্য ছিল বলেই গাড়ি দুটিতে কাগজপত্র বা প্রতিনিধি ছিল না। তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল কাদের জানান, চাল আটকের ঘটনা শুনে খাদ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলেছি। এছাড়া ধরনীবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, ট্রলির চাল ভিজিএফ’র ছিল। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য বলা হয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×