সিলেটে এসআইয়ের ঝুলন্ত লাশ

পুলিশ বলছে আত্মহত্যা পরিবারের দাবি হত্যা

  ইয়াহ্ইয়া মারুফ, সিলেট ব্যুরো ০৪ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সিলেটের গোয়াইনঘাট পুলিশ কোয়ার্টার থেকে উদ্ধার করা উপপরিদর্শক (এসআই) সুদীপ বড়ুয়ার (৪৫) ঝুলন্ত লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সোমবার দুপুর ১টায় সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে স্ত্রী-সন্তানসহ নিকট-আত্মীয়দের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মাহবুবুল আলম সুদিপের মেয়ে ও স্ত্রীকে তাদের অভিযোগ খতিয়ে দেখাসহ সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন। পরে নগরীর আখালিয়া এলাকার বৌদ্ধ বিহারে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে বেলা আড়াইটায় তারা মরদেহ নিয়ে গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া থানার সোনাইচড়ির উদ্দেশে রওনা হন। সুদিপ বড়ুয়া সোনাইচড়ির গ্রামের বরেন্দ্র লালের ছেলে।

পুলিশ বলছে, সুদিপ আত্মহত্যা করেছেন। আর সুদিপের পরিবারের অভিযোগ, ওই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাকে সব সময় মানসিক চাপে রাখতেন বলে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তবে পুলিশ ও সুদিপের নিকট-আত্মীয়দের সঙ্গে কথা বলে তার আত্মহত্যার সম্ভাব্য আরও কিছু কারণ বেরিয়ে আসছে। সুদীপ বড়ুয়া চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া থানার সোনাইচড়ি গ্রামের বরেন্দ্র লালের ছেলে। রোববার দুপুর আড়াইটার দিকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ ও সুদীপের পরিবারের সদস্যরা জানান, ২৮ বছর পুলিশে চাকরি করছেন সুদীপ। এ বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারিতে তিনি গোয়াইনঘাট থানায় বদলি হয়ে আসেন। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক। ছেলে নৌবাহিনীর স্কুলে আর মেয়ে মেডিকেল কলেজে পড়ালেখা করছে। অন্যদিকে পুলিশের একটি সূত্র দাবি করেছে, ঘটনার পরপরই পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় সুদীপের মোবাইলে তার স্ত্রীর ৩৬টি মিস কল লক্ষ্য করেন এবং এর ১৫ মিনিট আগে স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলারও প্রমাণ পাওয়া যায়। সেই কলে স্ত্রীর সঙ্গে কি কথা হয়েছে তাও খতিয়ে দেখছেন কর্মকর্তারা। এ বিষয়ে সোমবার দুপুরে সিলেট পুলিশ লাইনে সুদীপের স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি কোনো কথা বলেননি। তবে সুদীপের মেয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী শতাব্দী বড়ুয়া অভিযোগ করে বলেন, বাবা আত্মহত্যা করার মতো লোক নন। উনাকে ভালো করে জানি। হয়তো তাকে মেরে ঝুলিয়ে দিয়েছে। কয়েকদিন আগেও থানায় এক অফিসারের ঝামেলা হয়েছিল বাবার সঙ্গে। শতাব্দী জানান, তার বাবা প্রায়ই ফোনে বলতেন, গোয়াইনঘাট থানার ওসি তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। দিনরাত চাপের মধ্যে রাখেন। শনিবারও সুদীপ বলেছেন, এ থানায় তিনি আর থাকতে চান না। ঘটনার দিনও তিনি ফোনে মাকে বলেছিলেন, তাকে কোনো অবসর দিচ্ছেন না ওসি। তিনি টানা দু’দিন ডিউটি অফিসারের দায়িত্ব পালন করছেন। এজন্য বাসায় ফোন দেয়ারও সময় পাচ্ছেন না। এভাবে তিনি আর পারছেন না। গোয়াইনঘাট থানার ওসিই তার বাবার আত্মহত্যার কারণ উল্লেখ করে ওসির শাস্তি দাবি করেন শতাব্দী। তিনি বলেন, বাবা একটু পরপরই আমাদের সঙ্গে ফোনে কথা বলতেন। রোববার দুপুরে বাবার হতাশার কথা শোনে মা তাকে ১০-১৫ মিনিট পর আবার সান্ত্বনা দেয়ার জন্য ফোন করেছিলেন। তিনি ফোন রিসিভ না করায় একাধিকবার কল দিয়েছিলেন। এরপর থানার কম্পিউটার অপারেটর অজয়কে ফোন দেন তিনি। অজয় মোবাইল ফোন নিয়ে থানা কোয়ার্টারের দোতলায় এসআই সুদীপের কক্ষে গেলে তিনি সেখানে সুদীপকে জানালার গ্রিলের সঙ্গে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় দেখতে পান। অথচ থানা থেকে কেউ আমাদের খবরটিও জানায়নি। আমাদের আর্থিক কোনো সংকট নেই। বাবার এ রকম কোনো চাপও ছিল না।

এদিকে গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা

(ওসি) আবদুল জলিল যুগান্তরকে বলেন, সুদীপের কাজের চাপ তেমনটা ছিল না। এ ঘটনায় সুদীপের পরিবারের করা অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, এসব বিষয় নিয়ে তিনি কথা বলতে চান না। তার পরিবার এখন শোকসন্তপ্ত। তবে তিনি জানান, টানা দু’দিন ডিউটি করেননি সুদীপ। থানায় ডিউটি রেজিস্টার আছে। তবে আত্মহত্যার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তদন্ত করছেন তাই এই মুহূর্তে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×