সেই পালঙ্ক প্রত্নতত্ত্ব বিভাগে হস্তান্তর

  মাগুরা প্রতিনিধি ০৪ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মাগুরার প্রত্নতত্ত্ব নিদর্শনের অন্যতম স্মৃতিচিহ্ন রাজা সীতারাম রায়ের আলোচিত সেই পালঙ্কটি দাফতরিকভাবে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সোমবার খুলনার আঞ্চলিক পরিচালকের প্রতিনিধি দল মাগুরা জেলা প্রশাসকের বাংলো থেকে পালঙ্কটি নিয়ে যায়।

ভূষণার রাজা সীতারাম রায়ের ব্যবহৃত সুনিপুণ কারুকার্যখচিত পালঙ্কটি ২ ফেব্রুয়ারি মাগুরা জেলা প্রশাসনের রেকর্ডরুম থেকে হারিয়ে যায়। মাগুরা জেলা প্রশাসনের এনডিসি রাজিব চৌধুরীর মাধ্যমে প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্যের এই নির্দশনটি গোপনে নিয়ে যাওয়া হয় জেলা প্রশাসকের বাংলোতে। সেখানে মিস্ত্রি ডেকে পালঙ্কটি রং পলিশ করে মাগুরার বর্তমান জেলা প্রশাসক আলি আকবর এতদিন নিজের শয়নকক্ষে ব্যবহার করছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। ৩০ মে যুগান্তর অনলাইনে এ বিষয়ে ‘রাজার পালঙ্কে ঘুমাচ্ছেন মাগুরার ডিসি’ শিরোণামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাপক তোপের মুখে পড়েন জেলা প্রশাসক আলি আকবর। এ ঘটনার পর সোমবার প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতর খুলনার উপপরিচালক কার্যালয় থেকে প্রতিনিধি পাঠিয়ে মাগুরা জেলা প্রশাসকের বাংলো থেকে পালঙ্কটি নিয়ে যাওয়া হয়। এ বিষয়ে জানতে মাগুরা জেলা প্রশাসক আলি আকবর, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আকতারুন্নাহার, এনডিসি রাজিব চৌধুরী কারও মোবাইল ফোনেই যোগাযোগ করে পাওয়া যায়নি। তবে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ খুলনার আঞ্চলিক পরিচালক আফরোজা খানম মিতা বলেন, প্রত্নতত্ত্ব অধিদফতরের প্রতিনিধি দল মাগুরা থেকে পালঙ্কটি নিয়ে এসেছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য থাকলে এটি সংরক্ষণ করা হবে।

সীতারাম রাজার ব্যবহৃত পালঙ্ক একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন। আর এটি হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা এই প্রথম নয়। তার মৃত্যুর পর দীর্ঘদিন পালঙ্কটি মধুমতির ওপারে বোয়ালমারি এলাকার শত্রুজিত রায়ের বাড়িতে ছিল বলে জানা যায়। ষাটের দশকে সেটি উদ্ধার করে মাগুরা মহকুমা প্রশাসকের কার্যালয়ে রাখা হয়। তারপর থেকে এতদিন মাগুরা জেলা প্রশাসনের ট্রেজারি ও রেকর্ড রুমে ছিল। কিন্তু ২০১৪ সালে শিপন শেখ নামে প্রশাসন সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি এটি চুরি করে নিয়ে যান। সে সময়ে মাগুরায় দায়িত্বরত জেলা প্রশাসক মাহবুবর রহমান পালঙ্কটি উদ্ধার করে মাগুরা রেকর্ড রুমে রেখে দেন। পালঙ্ক চুরির বিষয়ে মাগুরার সাবেক জেলা প্রশাসক মাহবুবর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এর সত্যতাও স্বীকার করেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×