আদালতে মামলা চলমান, লিজ জেলা পরিষদের

কুষ্টিয়ায় দোতলা মার্কেট গুঁড়িয়ে দিলেন শিল্পপতি

  কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ১২ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কুষ্টিয়ায় পৌর এলাকার বটতৈলে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে থাকা একটি দোতলা মার্কেট গুঁড়িয়ে দিয়েছেন এক শিল্পপতি। অভিযোগ রয়েছে, নিজের প্রতিষ্ঠানের সামনের ওই জমি দখলে নিতে এর আগে জেলা প্রশাসনকে দিয়ে মামলাও করিয়েছেন তিনি। সেই মামলা আদালতে চলমান। এর মধ্যেই জেলা প্রশাসন লিজ দেয় জমিটি। হঠাৎ সোমবার বিকালে বুলডোজার দিয়ে মার্কেটটি গুঁড়িয়ে দেন ওই শিল্পপতি।

শিল্পপতির নাম কামরুজ্জামান নাসির। তিনি কেএনবি অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রির মালিক। ‘প্রামাণিক সুপার মার্কেট’ নামের ওই ভবনে ২২টি দোকান ছিল। সর্বস্ব হারিয়ে এসব দোকানি এখন পথে।

জমিটির মালিক রাকিবুল ইসলাম। তিনি ও মার্কেটের দোকান মালিকরা উল্লিখিত অভিযোগ করেন। রাকিবুল ইসলাম বলেন, বটতৈল মৌজায় ৩ নম্বর খতিয়ানে (এসএ) (আরএস ৯৯৮) ২৪২৬ দাগে (এসএ) (আরএস ২০২৮) ১০ শতাংশ জমিটি আমি ১৯৯৫ সালে কিনি। এর ওপর নির্মাণ করি দোতলা মার্কেট। এতদিন দোকানিরা স্বচ্ছন্দেই ব্যবসা করে আসছিলেন। কয়েক বছর আগে জমিটি নজরে পড়ে কামরুজ্জামান নাসিরের। জমিটির পেছনেই তার কারখানা। তিনি জমিটি কেনার জন্য নানাভাবে প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। রাজি না হলে নানা অত্যাচার করেন। তাতেও কাজ না হলে ২০১৬ সালে ‘জমিটি জেলা পরিষদ’-এর দাবি করে জেলা পরিষদকে দিয়ে মামলাও করান। পরে জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে তার নামে জমিটি লিজও করিয়ে দেন। আর সোমবার আচমকা সবার সামনেই মার্কেটটি গুঁড়িয়ে দিলেন নাসির। দোকানিদের আর্তি তার কানে পৌঁছায়নি।

জানা গেছে, ২০১৬ সালে জমিটির স্বত্ব দখলের জন্য জেলা পরিষদ জেলা যুগ্ম জজ প্রথম আদালতে মামলা করে। এতে জেলা পরিষদ স্থিতাবস্থার (ইনজাংকশন) আদেশ জারির আবেদন জানায়। কিন্তু আদালত মামলা খারিজ করে দেন। পরে জেলা প্রশাসন জেলা জজ আদালতে আপিল করে। সেটি এখনও বিচারাধীন।

রাকিবুল ইসলাম বলেন, আরএস, সিএএস এমনকি এসএ রেকর্ড অনুযায়ী আমি জমির বৈধ মালিক। আমি নিয়মিত খাজনাও দিয়ে আসছি। কিন্তু পেশিশক্তি প্রয়োগ করে মার্কেটটি ভাঙা হল।

জানতে চাইলে কামরুজ্জামান নাসির তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি যুগান্তরকে বলেন, কুষ্টিয়া জেলা পরিষদ থেকে আমাদেরকে জমিটি লিজ দেয়া হয়েছে। জেলা পরিষদের প্রতিনিধি উপস্থিত থেকে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছেন। এর সঙ্গে কেএনবি অ্যাগ্রোর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

এ বিষয়ে জানতে জেলা পরিষদে যোগাযোগ করা হয়। সহকারী প্রকৌশলী রুহুল আজম যুগান্তরকে বলেন, জেলা পরিষদের আয় বৃদ্ধির জন্য সিএস রেকর্ডীয় জমি দখল দিতে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা আছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা বলে জেলা পরিষদ সব বেদখলীয় জমি উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে। ওই জমিটি কেএনবি অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রির নামে লিজ দেয়া হয়েছে। তবে উচ্ছেদের সঙ্গে জেলা পরিষদের কোনো সম্পর্ক নেই। জেলা পরিষদ উচ্ছেদ করলে আমাদের লোক ও মেশিন (বুলডোজার) যেত। ঘটনাস্থলে খোঁজ নিয়ে দেখেন, আমাদের কোনো লোক অথবা মেশিন সেখানে ছিল না। তারা (কেএনবি) নিজেরাই দোকানঘর উচ্ছেদ করেছে। যে জমির মালিকানা নিয়ে আদালতে মামলা চলমান ওই জমি লিজ দেয়া যায় কি না- জানতে চাইলে রুহুল আজম কোনো মন্তব্য করেননি।

কুষ্টিয়া জজকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহাতাব উদ্দিন জানান, যেখানে জেলা পরিষদ নিজেই বাদী হয়ে মামলা করেছে, সেই মামলায় আদেশ না হওয়া পর্যন্ত জেলা পরিষদ নিজের বলে সম্পত্তি দাবি করতে পারে না। কাউকে লিজও দিতে পারে না। তিনি আরও বলেন, নাসিরের নামে জেলা পরিষদের দেয়া ওই লিজে দাগ নম্বর থাকলেও কোনো খতিয়ান নম্বর নেই। এর কারণ জমিটি ব্যক্তিমালিকানাধীন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×