মেশিনে ক্রটি, নেই পর্যাপ্ত ক্যাশ পয়েন্ট

রাজশাহীতে ভেঙে পড়েছে ই-ট্রাফিকিং ব্যবস্থা

  আনু মোস্তফা, রাজশাহী ব্যুরো ১৬ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ই-ট্রাফিকিং

যন্ত্র অকেজো ও সামগ্রিক অব্যবস্থাপনা ছাড়াও ইউসিবিএল ব্যাংকের পর্যাপ্ত ইউ-ক্যাশ পয়েন্ট না থাকায় রাজশাহীতে মুখ থুবড়ে পড়েছে ই-ট্রাফিকিং ব্যবস্থা।

আট মাস আগে আনুষ্ঠানিকভাবে ডিজিটাল এই ট্রাফিক ব্যবস্থার সূচনা করেছিল রাজশাহী মহানগর পুলিশ (আরএমপি)। তখন বলা হয়েছিল, ই-ট্রাফিকিং ব্যবস্থায় ভোগান্তি কমবে গাড়ির মালিক ও চালকদের।

ডিজিটাল এ ব্যবস্থায় ট্রাফিক জরিমানা ডিজিটাল ব্যবস্থাতেই পরিশোধ করতে পারবেন মালিক ও চালকরা। কিন্তু এই কয়েক মাসেও পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। এখন আবার পুলিশ সার্জেন্টরা নগরীর মোড়ে মোড়ে সনাতন পদ্ধতিতে রসিদ কেটে জরিমানা করছেন যানবাহনের চালক ও মালিকদের। এতে সময় যেমন বেশি লাগছে। ভোগান্তি বাড়ছে যানবাহনের মালিক ও চালকদের।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আরএমপির ট্রাফিক বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) অনির্বাণ চাকমা শনিবার যুগান্তরকে বলেন, কিছু সমস্যার কারণে আরএমপির ট্রাফিক বিভাগের ডিজিটালাইজেশন পুরোপুরি হয়নি। নতুন মেশিন এনে ও পুরনোগুলোর ক্রটি সারিয়ে ই-ট্রাফিকিং ব্যবস্থাটা কার্যকর করতে একটু সময় লাগছে। তবে শিগগিরই সমস্যাগুলো কাটিয়ে আরএমপির ট্রাফিক বিভাগ পুরোপুরি ডিজিটাল ব্যবস্থায় চলা শুরু করবে বলে আশা করেন তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বছরের ৯ মে রাজশাহী মহানগর পুলিশ (আরএমপি) কর্তৃপক্ষ ই-ট্রাফিকিং ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্যে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক ও গ্রামীণফোনের সঙ্গে চুক্তি সই করে। ওই বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর রাজশাহী মহানগরীতে আরএমপির আগের কমিশনার (ডিআইজি) হাফিজ আক্তার আনুষ্ঠানিকভাবে ইলেকট্রিক ট্রাফিক ব্যবস্থা উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনের দিন কর্তব্যরত ১৩ পুলিশ সার্জেন্টের হাতে ইলেকট্রিক প্রসেস মেশিন দেয়া হয়েছিল। কিন্তু মেশিনগুলোর মান ভালো না হওয়ায় সেগুলোতে ই-ট্রাফিকিং প্রসেসের কাজ বেশিদিন চালানো সম্ভব হয়নি। এরপর কিছু নতুন মেশিন এসেছে তবে তা সার্জেন্টদের হাতে এখনও যায়নি। ফলে রাজশাহী মহানগরীতে আইন লঙ্ঘনকারী যানবাহনের চালক ও মালিকদের কাছ থেকে জরিমানা আদায়ে ফের আগের মতোই হাতে কাটা রসিদ দিয়ে কাজ চলছে।

আরএমপির ট্রাফিক বিভাগে দায়িত্বরত একাধিক পুলিশ সার্জেন্ট নাম প্রকাশ না করে বলেন, ই-ট্রাফিকিং মেশিনের মাধ্যমে রাজশাহী মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগকে পুরোপুরি ডিজিটালাইজেশন করার প্রক্রিয়াটি অতি ধীরগতিতে চলছে। নগরীতে প্রবেশের তিনটি প্রধান পয়েন্টসহ ২৫টি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে সার্বক্ষণিকভাবে যানবাহনের ওপর নজর রাখতে হয় ট্রাফিক সার্জেন্টদের। কোনো যানবাহন ট্রাফিক বিধি ভেঙে চলাচল করলে গাড়ি ও চালকের লাইসেন্সসহ হালনাগাদ কাগজ না থাকলে, গাড়ির ফিটনেস না থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে জরিমানা আদায় করা হয়।

দীর্ঘদিন সনাতন ব্যবস্থায় হাতে কাটা জরিমানা রসিদ চালক ও মালিকদের হাতে ধরিয়ে দেয়া হয়েছে। করা হয়েছে মামলা। সেই রসিদ নিয়ে মালিক ও চালকরা আরএমপির ট্রাফিক অফিসে গিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে জরিমানার টাকা জমা দিয়ে তাদের মামলা নিষ্পত্তি করেছেন। এই প্রক্রিয়া বেশ ভোগান্তির।

অন্যদিকে ই-ট্রাফিকিং ব্যবস্থায় ইলেকট্রিক রসিদ নিয়েই চালক ও মালিকরা ব্যাংকের প্রস্তাবিত ইউ-ক্যাশ পয়েন্টে গিয়ে তাৎক্ষণিক জরিমানার টাকা পরিশোধ করতে পারেন। ফলে ভোগান্তি অনেকটাই কম হতে পারে। ই-ট্রাফিকিং ব্যবস্থায় কিছুদিন নগরীতে যানবাহনের জরিমানা আদায় করা হলেও এখন সেটি মুখ থুবড়ে পড়েছে। চুক্তি অনুযায়ী নগরীর ২৫ পয়েন্টে ইউসিবিএল ব্যাংকের ইউ-ক্যাশ এজেন্ট না থাকা, নতুন ই-ট্রাফিকিং প্রসেস মেশিনের অভাব ও পুরনো মেশিনগুলো ঠিকমতো কাজ না করায় বেধেছে এই বিপত্তি। ফলে আরএমপির ট্রাফিক বিভাগ ফিরেছে আগের কাটা রসিদ ব্যবস্থায়।

আরও জানা গেছে, আরএমপির সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী মহানগর এলাকার ইউসিবিএল-ব্যাংকের ২৫টি স্থানে ইউ-ক্যাশ এজেন্ট পয়েন্ট স্থাপন করার কথা ছিল। কিন্তু বেশির ভাগ এলাকাতেই এখনও ইউ-ক্যাশ পয়েন্ট স্থাপন করা হয়নি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×