সন্তান থাকার পরও শতবর্ষী মায়ের বসবাস টয়লেটে
jugantor
সন্তান থাকার পরও শতবর্ষী মায়ের বসবাস টয়লেটে

  রংপুর ব্যুরো  

২১ জুন ২০১৯, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নছিমন বেওয়া। বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছেন। লাঠিতে ভর দিয়ে কোনো রকমে হাঁটতে পারেন। বয়স প্রায় একশ’। ছেলে-মেয়ে থাকার পরও স্বামীহারা এই বৃদ্ধার মাথা গোঁজার জায়গা নেই।

নিদারুণ কষ্ট আর মানবেতর যন্ত্রণায় বছরের পর বছর টয়লেটেই তার দিন কাটছে। টয়লেটই এখন নছিমন বেওয়ার ঠিকানা। সেখানে আছে ভাঙা একটি চৌকি, চট আর কিছু পানির বোতল। টয়লেটের দুর্গন্ধের সঙ্গে রাতে অসহ্য গরম আর মশার কামড় এই বৃদ্ধার এখন নিত্যসঙ্গী। কোনো রকমে রাত পার হলেই লাঠিতে ভর করে টয়লেট থেকে বেরিয়ে পড়েন নছিমন বেওয়া।

কখনও রাস্তার ওপর, কখনওবা ড্রেনের স্লাবের ওপর বসে-শুয়ে থাকেন। এমন কষ্টের দৃশ্য সন্তানদের চোখে না পড়লেও গ্রামের মানুষ ঠিকই উপলব্ধি করতে পারেন। তাই স্থানীয়দের সাহায্য সহযোগিতায় খাবার জোটে তার মুখে।

জানা গেছে, বৃদ্ধা নছিমনের স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে সন্তানদের অনাদরে অন্যের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরে ভিক্ষা করতেন। একসময় বড় ছেলে জয়নাল মিয়ার মায়ের প্রতি ‘মায়া’ হয়। মা’র জন্য কলোনির ভেতরে সিটি কর্পোরেশন থেকে তৈরি করা পাবলিক টয়লেটের এক কোনায় থাকার ব্যবস্থা করে দেন। এরপর থেকে ওই টয়লেটই বৃদ্ধা নছিমনের ঠিকানা।

প্রতিবেশী সালমা বেগম বলেন, আমরা গ্রামবাসী সাধ্যমতো বৃদ্ধাকে সাহায্য সহযোগিতা করি। তার দুই ছেলে ও দুই মেয়ে এখনও জীবিত। তারা কেউই ঠিকমতো দেখাশুনা করেন না। এটা অমানবিক এবং গুরুতর অন্যায়। সন্তানরা যেহেতু মাকে ঠাঁই দিতে পারছেন না, তাই নছিমনকে বৃদ্ধাশ্রমে রাখার ব্যবস্থা করতে সমাজের বিত্তবানসহ সংশ্লিষ্টদের সহায়তা চান তিনি।

এদিকে, নছিমনের ছেলে জয়নাল মিয়া ও মিন্টু মিয়ার সঙ্গে কথা বলতে গেলে তারা বাড়ি থেকে সটকে পড়েন।

এ ব্যাপারে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর মোছা. হাসনা বানু বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে ওই বৃদ্ধাকে প্রায়ই টাকা ও খাবার দিয়ে সহযোগিতা করি। তার ছেলে সন্তানরা থাকার পরও টয়লেটে বসবাস খুবই দুঃখজনক। সিটি কর্পোরেশন থেকে তার জন্য বয়স্কভাতাসহ অন্য সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করব।

সন্তান থাকার পরও শতবর্ষী মায়ের বসবাস টয়লেটে

 রংপুর ব্যুরো 
২১ জুন ২০১৯, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

নছিমন বেওয়া। বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছেন। লাঠিতে ভর দিয়ে কোনো রকমে হাঁটতে পারেন। বয়স প্রায় একশ’। ছেলে-মেয়ে থাকার পরও স্বামীহারা এই বৃদ্ধার মাথা গোঁজার জায়গা নেই।

নিদারুণ কষ্ট আর মানবেতর যন্ত্রণায় বছরের পর বছর টয়লেটেই তার দিন কাটছে। টয়লেটই এখন নছিমন বেওয়ার ঠিকানা। সেখানে আছে ভাঙা একটি চৌকি, চট আর কিছু পানির বোতল। টয়লেটের দুর্গন্ধের সঙ্গে রাতে অসহ্য গরম আর মশার কামড় এই বৃদ্ধার এখন নিত্যসঙ্গী। কোনো রকমে রাত পার হলেই লাঠিতে ভর করে টয়লেট থেকে বেরিয়ে পড়েন নছিমন বেওয়া।

কখনও রাস্তার ওপর, কখনওবা ড্রেনের স্লাবের ওপর বসে-শুয়ে থাকেন। এমন কষ্টের দৃশ্য সন্তানদের চোখে না পড়লেও গ্রামের মানুষ ঠিকই উপলব্ধি করতে পারেন। তাই স্থানীয়দের সাহায্য সহযোগিতায় খাবার জোটে তার মুখে।

জানা গেছে, বৃদ্ধা নছিমনের স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে সন্তানদের অনাদরে অন্যের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরে ভিক্ষা করতেন। একসময় বড় ছেলে জয়নাল মিয়ার মায়ের প্রতি ‘মায়া’ হয়। মা’র জন্য কলোনির ভেতরে সিটি কর্পোরেশন থেকে তৈরি করা পাবলিক টয়লেটের এক কোনায় থাকার ব্যবস্থা করে দেন। এরপর থেকে ওই টয়লেটই বৃদ্ধা নছিমনের ঠিকানা।

প্রতিবেশী সালমা বেগম বলেন, আমরা গ্রামবাসী সাধ্যমতো বৃদ্ধাকে সাহায্য সহযোগিতা করি। তার দুই ছেলে ও দুই মেয়ে এখনও জীবিত। তারা কেউই ঠিকমতো দেখাশুনা করেন না। এটা অমানবিক এবং গুরুতর অন্যায়। সন্তানরা যেহেতু মাকে ঠাঁই দিতে পারছেন না, তাই নছিমনকে বৃদ্ধাশ্রমে রাখার ব্যবস্থা করতে সমাজের বিত্তবানসহ সংশ্লিষ্টদের সহায়তা চান তিনি।

এদিকে, নছিমনের ছেলে জয়নাল মিয়া ও মিন্টু মিয়ার সঙ্গে কথা বলতে গেলে তারা বাড়ি থেকে সটকে পড়েন।

এ ব্যাপারে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর মোছা. হাসনা বানু বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে ওই বৃদ্ধাকে প্রায়ই টাকা ও খাবার দিয়ে সহযোগিতা করি। তার ছেলে সন্তানরা থাকার পরও টয়লেটে বসবাস খুবই দুঃখজনক। সিটি কর্পোরেশন থেকে তার জন্য বয়স্কভাতাসহ অন্য সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করব।