ওসি মোয়াজ্জেমের ডিভিশন জেলকোডে ব্যবস্থার আদেশ

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৫ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় ফেনীর সোনাগাজী থানার সেই সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের ডিভিশনের বিষয়ে জেলকোড অনুসারে জেল সুপারকে ব্যবস্থা নেয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার সাইবার ট্রাইব্যুনালের (বাংলাদেশ) বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন এ আদেশ দেন।

২০ জুন ওসি মোয়াজ্জেমের কারাগারে ডিভিশন দেয়ার বিষয়ে আদালতে আবেদন করেন তার আইনজীবী ফারুক আহাম্মদ। ওইদিন আদালত আবেদনটি গ্রহণ করে এ বিষয়ে শুনানির জন্য এদিন ধার্য করেন। শুনানিতে আসামিপক্ষের এ আইনজীবী বলেন, আসামি মোয়াজ্জেম একজন নবম গ্রেডের অফিসার। তিনি এখনও চাকরিরত। ২০১২ সালের ৩০ জুলাইয়ে প্রকাশিত গেজেট অনুসারে তিনি প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তা ও নাগরিক। তাই মোয়াজ্জেম হোসেন কারাগারে প্রথম শ্রেণীর কয়েদি মর্যাদার সব সুবিধা পেতে পারেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী আরও বলেন, ওসি মোয়াজ্জেম বিভিন্ন স্থানে কর্মরত থাকাকালে অনেক সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করেছেন। তাদের অনেকের সাজা-ফাঁসিও হয়েছে। অনেকেই কারাগারে আছেন। এজন্য তিনি সাধারণ কয়েদিদের সঙ্গে থাকলে তার জীবনের ঝুঁকি রয়েছে। এমতাবস্থায় মোয়াজ্জেম হোসেনের প্রথম শ্রেণীর ডিভিশনের প্রার্থনা করেন তিনি। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর নজরুল ইসলাম (শামীম) আসামির ডিভিশনের বিষয়ে বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, আসামিকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তাই আসামির ডিভিশনের বিরোধিতা করছি। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত ওই আদেশ দেন। আদালত সূত্র জানায়, ১৭ জুন মোয়াজ্জেম হোসেনের জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। ১৬ জুন হাইকোর্ট এলাকা থেকে গ্রেফতার হন তিনি। ২৭ মে সোনাগাজী থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে দাখিল করে তদন্ত সংস্থা। ওইদিনই আদালত তা আমলে নিয়ে মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

পিবিআইয়ের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার রিমা সুলতানার দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৭ মার্চ দুপুর ১টা ১৮ মিনিটে ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন তার ব্যক্তিগত মোবাইল ব্যবহার করে নুসরাত জাহান রাফির ভিডিও ধারণ, প্রচার ও তা ভাইরাল করেছেন। ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন সুশৃঙ্খল পুলিশ বাহিনীর সদস্য হয়েও নিয়মবহির্ভূতভাবে ভিকটিম নুসরাত জাহান রাফির শ্লীলতাহানির ঘটনার বক্তব্য ভিডিও ধারণ ও প্রচার করে অপেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছেন।

যার ফলে পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে। আইনবহির্ভূতভাবে নুসরাত জাহান রাফিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার ভিডিও প্রচারের অভিযোগে ১৫ এপ্রিল সাইবার ট্রাইব্যুনালে এ মামলাটি দায়ের করা হয়। সুপ্রিমকোর্টের আলোচিত আইনজীবী সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। নানা অভিযোগে ১০ এপ্রিল সোনাগাজী মডেল থানা থেকে ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে প্রত্যাহার করা হয়। ২০১৪ সালের ১২ নভেম্বর ছাগলনাইয়া থানা থেকেও তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল। সেখানে ঘুষ কেলেঙ্কারি, স্বর্ণ চুরি, মামলার আলামত চুরি করে বিক্রি করা, সন্ত্রাসীদের মদদ দেয়া, টোকেন দিয়ে নম্বরবিহীন সিএনজি অটোরিকশা থেকে মাসোহারা আদায়, ভুয়া মামলা দিয়ে অর্থ আদায়, নিরীহ গ্রামবাসীর ওপর হামলা, ব্যবসায়ীসহ সর্বস্তরের চাঁদাবাজি- এমন অসংখ্য অভিযোগে তাকে প্রত্যাহার করা হয়।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

 
×