নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয় ভাংচুর

ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মারামারি আহত ৬

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৬ জুন ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মঙ্গলবার ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ছয়জন আহত হয়েছেন। এ সময় কার্যালয়ের সিসি ক্যামেরাসহ বেশ কয়েকটি আসবাবপত্র ভাংচুর করা হয়। কার্যালয়ের সামনে দুটি ককটেলের বিস্ফোরণও ঘটানো হয়। বয়সসীমা না রেখে ধারাবাহিক কমিটির দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্রদলের বিলুপ্ত কমিটির নেতাদের সঙ্গে পদপ্রত্যাশী নেতাকর্মীদের মধ্যে এ মারামারির ঘটনা ঘটে।

দুপুর ১২টার দিকে কাকরাইল মোড় থেকে মিছিল নিয়ে বিলুপ্ত কমিটির নেতারা নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনে গিয়ে সেখানে আগে থেকে অবস্থানরত ছাত্রদলের পদপ্রত্যাশী নেতাদের ধাওয়া করেন। এ সময় কার্যালয়ের ভেতরে পদপ্রত্যাশীরা দ্রুত চলে যেতে চাইলে ক্ষুব্ধ নেতারা তাদের দুজনকে ব্যাপক মারধর করেন। তৃতীয় তলায় আগে থেকে অবস্থান নেয়া পদপ্রত্যাশী নেতাদের অনুসারীরা গ্লাস ও কাপ-পিরিচ নিক্ষেপ করলে মাহবুবুর রহমান ইমতিয়াজসহ বিক্ষুব্ধদের তিনজন আহত হয়। এরপর কার্যালয়ের ভেতরে বিলুপ্ত কমিটি ও পদপ্রত্যাশী নেতারা মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন। কার্যালয়ের নিচে প্রধান ফটকের সামনের সিসি ক্যামেরা ও নিরাপত্তা কর্মীর টেবিল ভেঙে ফেলা হয়। আন্দোলনকারীরা দলীয় কার্যালয়ের বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেন। ‘সিন্ডিকেট’ নেতাদের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেয়া হয়।

দুপুর ১টা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি পালন করে সংগঠনের সাবেক সহ-সভাপতি ইখতিয়ার রহমান কবির সাংবাদিকদের জানান, কার্যালয়ের ভেতরে যারা আছেন তারাই চেয়ার, টেবিল ও সিসি টিভির ক্যামেরা ভাঙচুর করেছেন। আমরা ভেতরে যেতে চাইলে ভেতরে নেতাকর্মীরা কাপ-পিরিচ ছুড়ে মেরেছেন। এতে আমাদের কয়েকজন আহত হয়েছেন। আমারও হাত কেটে গেছে। তিনি বলেন, আজ মানবাধিকার দিবস, তাই কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়েছে। বিএনপির নেতৃবৃন্দ কোনো সমাধান না করলে বৃহস্পতিবার আবারও অবস্থান কর্মসূচি পালন করব।

এর আগে বেলা ১১টার দিকে ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী সাংবাদিকদের বলেন, যারা আন্দোলন করছেন তারা আমাদেরই ছোট ভাই। আশা করব সিনিয়র নেতারা যে তফসিল ঘোষণা করেছেন তা মেনে নিয়ে তারা সহযোগিতা করবেন।

এদিকে ক্ষুব্ধ নেতাদের কর্মসূচি সমাপ্তির পরপরই কার্যালয়ের সামনে দুটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। বিক্ষুব্ধ নেতাদের অভিযোগ, কার্যালয়ের মধ্যে অবস্থান নেয়া এক ‘সিন্ডিকেট’ নেতার অনুসারীরা ককটেল মেরেছে। অপর দিকে, কার্যালয়ের ভেতরে অবস্থান নেয়া ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যুগ্ম সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল যুগান্তরকে বলেন, বিক্ষুব্ধ নেতাদের সঙ্গে সংঘর্ষে না যাওয়ার জন্য দলের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। তারা আমাদের বড় ভাই। তাদের হাত ধরে রাজনীতি শিখেছি, মিছিল করতে শিখেছি। কোনো তৃতীয় পক্ষ সুবিধা নিতে এ অপকর্ম করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সকাল থেকে বিএনপি কার্যালয়ে ছিলেন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাজীব আহসান ও সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসানসহ বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা। সদ্য সাবেক নেতারা কার্যালয়ে আসার আগে সেখানে সংগঠনের কাউন্সিলকে স্বাগত জানিয়ে মিছিল করে পদপ্রত্যাশী সাবেক বৃত্তি ও ছাত্রকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যুগ্ম সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েলের অনুসারীরা। এ সময় আরও বেশ কয়েকজন পদপ্রত্যাশীও উপস্থিত ছিলেন। এদিকে, ৩ জুন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ছাত্রদলের মেয়াদোত্তীর্ণ কেন্দ্রীয় কমিটি ভেঙে দেয়া হয়। এর প্রতিবাদে ১১ জুন থেকে সংগঠনটির সদস্য সাবেক নেতারা আন্দোলন করে আসছেন। এরই মধ্যে শনিবার রাতে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ১২ ছাত্রনেতাকে বহিষ্কার করা হয়। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে এ পদক্ষেপ নেয়া হয় বলে বিএনপি সূত্রে জানা গেছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×