ইবির শিক্ষক নিয়োগ বাণিজ্য: ঘুরেফিরে সাবেক প্রক্টরের নাম

  সরকার মাসুম, ইবি ০৬ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ইবির শিক্ষক নিয়োগ বাণিজ্য
ছবি: সংগৃহীত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষক নিয়োগ বাণিজ্যের অডিও ক্লিপে ঘুরেফিরে উঠে এসেছে সিন্ডিকেট সদস্য ও সাবেক প্রক্টর প্রফেসর ড. মাহবুবর রহমানের নাম। এসব ঘটনায় নীরব ভূমিকায় রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

তার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি করা হয়নি। তদন্ত কমিটি না হওয়া ও ড. মাহবুব ভিসির আস্থাভাজন হওয়ায় এবারও তিনি পার পেয়ে যাবেন বলে মনে করছেন শিক্ষক ও ছাত্রনেতারা। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. রাশিদ আসকারী যুগান্তরকে বলেন, অভিযুক্ত সাবেক প্রক্টরের অডিও ক্লিপের বিষয়ে তদন্ত করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২৮ ও ২৯ জুন যুগান্তরে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ বাণিজ্য নিয়ে দুই পর্বে ৮টি অডিও ক্লিপ ফাঁস হয়। এসব অডিও ক্লিপে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য প্রফেসর ড. মাহবুবর রহমানের নাম একাধিকবার উঠে এসেছে।

এরপর থেকে তাকে নিয়োগ বাণিজ্যের মূল হোতা দাবি করে বিক্ষোভ মিছিল ও তার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি করতে দাবি জানায় শাখা ছাত্রলীগ। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রানা হালিম বলেন, মূল হোতা ও মাস্টারমাইন্ড মাহবুবর রহমানের বিরুদ্ধে তদন্ত করলে সবকিছু স্পষ্ট হয়ে যাবে।’

সর্বশেষ ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের নিয়োগ নিয়ে ২৮ জুন প্রকাশিত প্রতিবেদনে প্রার্থীকে নিয়োগ পাইয়ে দিতে বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. রুহুল আমিন ও ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এসএম আবদুর রহিম প্রার্থীর সঙ্গে দেনদরবার করেন। এ অভিযোগে তাদের চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্তও করা হয়েছে। একই অডিওতে অভিযুক্ত সাবেক প্রক্টরের নাম উঠে আসে।

এর আগেও ফিন্যাস অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের নিয়োগ বাণিজ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ পাওয়া যায় ড. মাহবুবের বিরুদ্ধে। ২০১৭ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর যুগান্তরে ‘ইবির নিয়োগ বাণিজ্যে প্রক্টর!’ শিরোনামে একটি অডিও ক্লিপসহ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

প্রকাশিত অডিও ক্লিপে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের নিয়োগ নিয়ে তাকে কথা বলতে শোনা যায়। একই বছরের ২ এপ্রিল যুগান্তরে অডিও ক্লিপসহ ‘থ্রি ফার্স্ট ক্লাসে ১৫, ফোরে ১২ লাখ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই অডিওতে ড. মাহবুবের আস্থাভাজন রুহুল আমিন চাকরি দেয়ার আশ্বাসে তার বন্ধু এশিয়ান ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক আবদুল হাকিমকে নিয়োগ প্রার্থী খুঁজতে বলেন।

এসব ঘটনায় ভিসি প্রফেসর ড. রাশিদ আসকারী দুর্নীতিকারীদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে সংবাদমাধ্যমকে জানান। এরপর ২১ মাস পার হলেও এখন পর্যন্ত কোনো তদন্ত কমিটি হয়নি। এর মধ্যে ফের ২৮ ও ২৯ জুন যুগান্তরে নিয়োগ বাণিজ্য নিয়ে অডিও ফাঁস হয়েছে। এতেও ড. মাহবুবের নাম উঠে এসেছে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাবেক প্রক্টর সিন্ডিকেট সদস্য প্রফেসর ড. মাহবুবর রহমান যুগান্তরকে বলেন, ‘আমি অদ্যাবধি কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়নি। সরকারের সব অর্গানের প্রতি অনুরোধ, যদি আমি কোনো অপরাধ করে থাকি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। অন্যথা সততার স্বীকৃতি চাই। কারও ব্যক্তিগত অপরাধের দায়িত্ব আমি নেব না।’

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×