ঈদের কেনাকাটায় ধুম যমুনা ফিউচার পার্কে

  যুগান্তর রিপোর্ট ১১ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঈদের কেনাকাটায় ধুম যমুনা ফিউচার পার্কে

ঈদ মানে আনন্দ, হোক সেটা রোজার ঈদ বা কোরবানির। আর নতুন পোশাক ছাড়া ঈদের আনন্দ পূর্ণতা পায় না। তাই রাজধানীবাসী শেষ সময়ে কেনাকাটা করতে শপিংমলে ঢুঁ মারছেন।

বড়রা নিজের জন্য পোশাক কেনার চাইতে ছোট বাচ্চাদের জন্য পোশাক কেনাকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। মধ্যবিত্তরাও সাধ্যের মধ্যে বাচ্চাদের জন্য পোশাক কেনাকাটা করছেন। যারা কেনাকাটা করতে শপিংমলে আসছেন, তাদের সবাই খুঁজছেন নতুন ডিজাইনের পোশাক। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে সব শ্রেণির দেশীয় ব্র্যান্ডগুলো নিয়ে এসেছে নতুন ডিজাইনের পোশাক।

শনিবার সরেজমিন দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ শপিংমল যমুনা ফিউচার পার্ক ঘুরে দেখা গেছে, দুপুরের রোদ উপেক্ষা করে ক্রেতা-দর্শনার্থীরা মার্কেটে প্রবেশ করছেন।

বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যা হতেই ভিড় বাড়তে থাকে। রাজধানী ও আশপাশের এলাকা থেকে লোকজন আসে কেনাকাটা করতে। সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় অন্যদিনের তুলনায় মার্কেটে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। ফ্যাশন ব্র্যান্ড মেট্রোতে ঈদ উপলক্ষে পুরুষদের নতুন ডিজাইনের পাঞ্জাবি ও মহিলাদের থ্রি-পিস, লং গাউন ক্রেতাদের আকৃষ্ট করে।

আর দেশীয় ব্র্যান্ডের মধ্যে আড়ং, অঞ্জন’স, দেশীদশ, নবরূপা, জেন্টালপার্ক, ইনফিনিটি, ক্যাটসআই নতুন ঈদ কালেকশন বাজারে এনেছে। ক্রেতারাও তাদের পছন্দসই পোশাক কিনতে ভিড় করছেন সেখানে। ঘুরে ঘুরে নতুন মডেলের জামা-কাপড় কিনছে সবাই। সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে ছোট সোনামণিদের ঈদ পোশাক। বাবা-মার সঙ্গে শপিংমলে আসা বাচ্চাদের নতুন পোশাকের আবদার ফেলছেন না অভিভাবকরা, সাধ্যের মধ্যে শিশুর আবদার করা পোশাক কিনে দিচ্ছেন।

রাজধানীর উত্তর বাড্ডা থেকে কেনাকাটা করতে আসা চাকরিজীবী সাইদুল ইসলাম জানান, ডেঙ্গু মশার বিস্তারের কারণে এবার গ্রামের বাড়িতে গিয়ে ঈদ করা হচ্ছে না। ঢাকাতেই প্রথমবারের মতো ঈদ করা হবে।

কোরবানির ঈদে পরিবারের বড়দের জন্য পোশাক কেনা হয় না। শুধু বাচ্চাদের পোশাক কেনাকাটা করতে এসেছেন তারা। তিনি বলেন, ঈদে বড়দের পোশাক না কিনলেও সমস্যা নেই। কারণ তারা আর্থিক অবস্থা উপলব্ধি করতে পারেন।

কিন্তু বাচ্চাদের বিষয়টা ভিন্ন। ঈদ হোক বা পহেলা বৈশাখ- নতুন পোশাক না হলে তাদের ঈদ আনন্দই জমে না। তাই কেনাকাটা করতে আসা। ফ্যাশন ব্র্যান্ড মেট্রোর ম্যানেজার কবির হোসেন বলেন, ঈদ উপলক্ষে বেচাবিক্রি বেড়েছে।

গত বছরের তুলনায় এবার ঢাকায় লোকজন বেশি থাকায় বিক্রিও বেড়েছে। ঈদ উপলক্ষে পুরুষদের নতুন ডিজাইনের পাঞ্জাবি ও মহিলাদের থ্রি-পিস, লং গাউন আনা হয়েছে।

তিনি বলেন, সারারা, গারারা, লং গাউন, স্টোন থ্রিপিস, চিনন সিল্ক কটনের পোশাক নারীদের নজর কেড়েছে। এসব পোশাক এবার বিক্রি বেশি হয়েছে। তাছাড়া পুরুষ ও বাচ্চাদের জন্য ভারতের বিখ্যাত এনডি ব্র্যান্ডের পাঞ্জাবির বিক্রি ভালো।

কয়েকটি শোরুমের বিক্রয় কর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার কোরবানি ঈদ গরমের মধ্যে হওয়ায় সবাই সুতি কাপড়কেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। বাচ্চা ও ছেলেদের সুতির পাঞ্জাবিতে বিভিন্ন ডিজাইনের সুতার কারুকাজ করা হয়েছে।

অবশ্য এবার প্রিন্টের পাঞ্জাবিতে ঝোঁক বেশি। এছাড়া জিন্সপ্যান্ট, নরমাল প্যান্ট, থ্রি-কোয়ার্টার সেট, পাঞ্জাবি, ফতুয়া, গেঞ্জি, শার্ট ইত্যাদি রয়েছে ছেলে শিশুদের জন্য। আর লেস, ফিতা, কারচুপি ও স্টোনের কাজসমৃদ্ধ মেয়েদের সুতির ওয়ান পিসের বিক্রি ভালো। তা ছাড়া গাউন, স্কার্ট ও লেহেঙ্গাও বিক্রি হচ্ছে।

আড়ংয়ের আউটলেটে এক বিক্রয়কর্মী জানান, স্বাভাবিকভাবেই রোজার ঈদের তুলনায় কোরবানির ঈদে বেচাবিক্রি কম হয়। তারপরও গতবারের তুলনায় এবার বিক্রি ভালো। বিশেষ করে বাচ্চাদের পোশাক যাচ্ছে বেশি।

আড়ংয়ের নতুন সংযোজন টাগা ম্যানের জামা-কাপড় ভালো বিক্রি হচ্ছে। নতুন ব্র্যান্ড হিসেবে ক্রেতাদের মাঝে ভালো সাড়া ফেলেছে টাগা ম্যান। তিনি বলেন, কোরবানির ঈদে নতুন কালেকশন এসেছে।

ঈদ গরম থাকায় ছেলেরা সুতির পাঞ্জাবি ও শার্ট কিনছেন। আর মেয়েদের সুতি সালোয়ার-কামিজে নতুন নতুন ডিজাইন করা হয়েছে। ঈদ উপলক্ষে নানা অংকের ছাড় দিচ্ছে আড়ং। বিকাশে পেমেন্ট করলে ইন্সট্যান্স ২০ শতাংশ ক্যাশ দেয়া হচ্ছে।

আর বিভিন্ন ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ডেও ছাড় দেয়া হচ্ছে। ফ্রিল্যান্ডের এক বিক্রয়কর্মী বলেন, ঈদ উপলক্ষে শুধু ছেলেদের শতাধিক নতুন ডিজাইনের পোশাক আনা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বৈচিত্র্য আছে শার্টে। এছাড়া মেয়েদের গাউন, কামিজ ও টপসেও নতুনত্ব আনা হয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×