ঢাকা সিএমএইচে সংবাদ সম্মেলন

জোড়া মাথা পৃথক করার অপারেশন অনন্য সাফল্য

  যুগান্তর রিপোর্ট ১১ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সম্প্রতি ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) জোড়া মাথার দুই শিশু রাবেয়া ও রোকেয়াকে সফল অপারেশনের মধ্যে আলাদা করার ঘটনা দেশের চিকিৎসায় এক অনন্য সাফল্য। বিশ্বে এ ধরনের অপারেশনে সফলতার হার খুবই কম। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যোগে হাঙ্গেরির অ্যাকশন ফর ডিফেন্সলেস পিপলের সহায়তায় এতে সফল হয়েছেন বাংলাদেশের চিকিৎসকরা। ঢাকা সিএমএইচে শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য ডা. হাবিব-ই-মিল্লাত, সামরিক চিকিৎসা সার্ভিস মহাপরিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল ফসিউর রহমান, ঢাকা সিএমএইচ কমান্ড্যান্ট ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তৌফিকুল হাসান সিদ্দিকী, শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউটের প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যাপক সামন্তলাল সেন, অ্যাকশন ফর ডিফেন্সলেস পিপলের ডা. গ্রেগ পাটাকি, ডা. এনড্রুস চকে, ডা. মার্সেল এবং রাবেয়া-রোকেয়ার বাবা-মা।

২০১৬ সালের ১৬ জুলাই পাবনার চাটমোহরে রফিকুল ইসলাম ও তাসলিমা বেগম দম্পতির ঘরে জন্ম নেয় বিরল দুই শিশু রাবেয়া-রোকেয়া। চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায় যাদের বলা হয় কনজয়েন্ড টুইন বা মাথা জোড়া লাগানো যমজ বাচ্চা। বিশ্বে ২৫ লাখ যমজ বাচ্চার মধ্যে মাত্র একটি মাথা জোড়া লাগানো জন্ম নেয়। এর প্রায় ৪০ শতাংশই মৃত অবস্থায় জন্ম নেয়। জীবিতদের এক-তৃতীয়াংশ ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মারা যায়। এ ধরনের শিশুদের শল্যচিকিৎসার মাধ্যমে আলাদা করার সুযোগ থাকে। এটি একটি বিরল ধরনের অপারেশন। সারা বিশ্বে খুবই অল্প পরিমাণে হয়েছে। সাফল্যের হারও খুব বেশি নয়।

রাবেয়া-রোকেয়ার জন্মের পর বিষয়টি নিয়ে তাদের মা-বাবা কুসংস্কারাচ্ছন্ন ছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত তারা প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লেখেন এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাদের নিয়ে আসা হয়। ডা. গ্রেগ পাটাকি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জটিল এই শল্যচিকিৎসা করা সম্ভব বলে মত দেন। শল্যচিকিৎসাটি কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয়। প্রথম ধাপে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা হয়। এরপর চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি থেকে হাঙ্গেরিতে ৪৮টি ছোট-বড় সার্জারি হয়। অস্ত্রোপচারের সবচেয়ে জটিল অংশ জোড়া মস্তিষ্ক আলাদা করার কাজটি সম্পন্নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় হাঙ্গেরি থেকে ২২ জুলাই তাদের ঢাকা সিএমএইচে আনা হয়। ১ আগস্ট রাত ১টায় পৃথকীকরণের জটিল অপারেশন শুরু হয়। ৩৩ ঘণ্টাব্যাপী এ অপারেশন ২ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টায় শেষ হয়। শতাধিক সার্জন ও এনেসথিওলজিস্ট এর সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন।

রাবেয়া-রোকেয়া বর্তমানে ঢাকা সিএমএইচে পোস্ট এনেসথেটিক কেয়ার ইউনিটে রয়েছে। তাদের তত্ত্বাবধান করছেন সিএমএইচ ও শিশু হাসপাতালের চিকিৎসকরা। শনিবার তাদের পৃথকীকরণের ৮ম দিন পার হয়েছে। রাবেয়া-রোকেয়ার আরও একটি অপারেশন (ক্রেনিওপ্লাস্টি) ২-৩ মাস পর হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×