এমপির নির্দেশে উপজেলা চেয়ারম্যান হামলা চালায়
jugantor
যুগান্তরকে ভিপি নুরুল হক
এমপির নির্দেশে উপজেলা চেয়ারম্যান হামলা চালায়

  পটুয়াখালী (দ.) প্রতিনিধি  

১৬ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের ভিপি নুরুল হক অভিযোগ করেছেন, স্থানীয় এমপির নির্দেশে বুধবার গলাচিপা উপজেলা চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে স্থানীয় যুবলীগ-ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আমার ওপর হামলা করে। বুধবার বোনের বাড়ি দশমিনায় যাওয়ার পথে উলানিয়া বাজারে হামলায় আহত হন নুরুল ও তার সঙ্গীরা। হামলার কারণ নিয়ে বৃহস্পতিবার যুগান্তর প্রতিনিধির সঙ্গে কথা হলে নুরুল হক এ কথা জানান। অভিযোগ রয়েছে, সহযোগীদের নিয়ে নুরুলকে উলানিয়া বাজারে যাওয়ার ব্যাপারে নিষেধ করেছিল স্থানীয় প্রশাসন।

জানা যায়, ঈদে বাড়ি যাওয়ার পর নুরুলের সঙ্গে দেখা করতে প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে বন্ধু-বান্ধব এবং শুভাকাঙ্ক্ষীরা ভিড় করছিল। অভিযোগ রয়েছে- আর এতেই ঈর্ষান্বিত হয়ে স্থানীয় এমপির নির্দেশে গলাচিপা উপজেলা চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে তার ওপর হামলা করা হয়। নুরুল বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংসদ সদস্যরা এলাকায় মিষ্টি বিতরণ করেও লোক জড়ো করতে পারে না। আমি এলে শত শত মানুষ আসে। বুধবার আমি বাড়ি থেকে মাত্র ১০টি মোটরসাইকেল নিয়ে রওনা হই। পরে যোগ হয় আরও ৮০-৮৫টি মোটরসাইকেল। স্থানীয় এমপি বা উপজেলা চেয়ারম্যানের জনপ্রিয়তায় প্রভাব পড়ার শঙ্কা থেকেই তারা এ কাজ করেছেন। নুরুলের অভিযোগ নিয়ে কথা হয় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান শাহিন শাহের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমি শুনেছি নুরুল বঙ্গবন্ধুর পোস্টার নিয়ে উল্টাপাল্টা মন্তব্য করছিলেন। এ সময় স্থানীয়রা তাকে মারধর করে।’ আপনার নেতৃত্বে হামলা হয়েছে- এমন অভিযোগ করা হলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, ‘তোমাকে এই তথ্য কে দিয়েছে। এর আগে নির্বাচনে আমার বিরুদ্ধে লিখেছ কিছু বলিনি। এবার যদি আমারে প্যাচাও তা হলে আমি তোমার বিরুদ্ধে মামলা করুম। আমি খুব খারাপ লোক। তোমারে দেইখা নিমু।’ এ প্রসঙ্গে স্থানীয় এমপি এসএম শাহাজাদা সাজু যুগান্তরকে বলেন যে কেউ অভিযোগ করতেই পারে। নুরুল আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নয়। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে মাঝে মাঝে মন্তব্য করেন, যেটা ঠিক নয়। তাছাড়া মারধর কালচার নিয়ে আমি রাজনীতি করি না এবং পছন্দও করি না। এ ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এমপি বলেন, সাংবাদিকদের সঙ্গে উপজেলা চেয়ারম্যানের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের জন্য আমি খুবই দুঃখিত। এ কাজটা তিনি ঠিক করেননি।

বুধবার সহযোগীদের নিয়ে নুরুল হক দশমিনা যাওয়ার পথে কিছু লোক তাদের গতিরোধ করে বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ পর গলাচিপা উপজেলা চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে তার ভাই নুরে আলম, পৌর আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাইনুল ইসলাম রনো, লিটু প্যাদাসহ শতাধিক লোক দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালালে নুরুল হকসহ প্রায় ৩০-৪০ জন আহত হন। ভাংচুর করা হয় বহরের অন্তত ১০টি মোটরসাইকেল।

যুগান্তরকে ভিপি নুরুল হক

এমপির নির্দেশে উপজেলা চেয়ারম্যান হামলা চালায়

 পটুয়াখালী (দ.) প্রতিনিধি 
১৬ আগস্ট ২০১৯, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের ভিপি নুরুল হক অভিযোগ করেছেন, স্থানীয় এমপির নির্দেশে বুধবার গলাচিপা উপজেলা চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে স্থানীয় যুবলীগ-ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আমার ওপর হামলা করে। বুধবার বোনের বাড়ি দশমিনায় যাওয়ার পথে উলানিয়া বাজারে হামলায় আহত হন নুরুল ও তার সঙ্গীরা। হামলার কারণ নিয়ে বৃহস্পতিবার যুগান্তর প্রতিনিধির সঙ্গে কথা হলে নুরুল হক এ কথা জানান। অভিযোগ রয়েছে, সহযোগীদের নিয়ে নুরুলকে উলানিয়া বাজারে যাওয়ার ব্যাপারে নিষেধ করেছিল স্থানীয় প্রশাসন।

জানা যায়, ঈদে বাড়ি যাওয়ার পর নুরুলের সঙ্গে দেখা করতে প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে বন্ধু-বান্ধব এবং শুভাকাঙ্ক্ষীরা ভিড় করছিল। অভিযোগ রয়েছে- আর এতেই ঈর্ষান্বিত হয়ে স্থানীয় এমপির নির্দেশে গলাচিপা উপজেলা চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে তার ওপর হামলা করা হয়। নুরুল বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংসদ সদস্যরা এলাকায় মিষ্টি বিতরণ করেও লোক জড়ো করতে পারে না। আমি এলে শত শত মানুষ আসে। বুধবার আমি বাড়ি থেকে মাত্র ১০টি মোটরসাইকেল নিয়ে রওনা হই। পরে যোগ হয় আরও ৮০-৮৫টি মোটরসাইকেল। স্থানীয় এমপি বা উপজেলা চেয়ারম্যানের জনপ্রিয়তায় প্রভাব পড়ার শঙ্কা থেকেই তারা এ কাজ করেছেন। নুরুলের অভিযোগ নিয়ে কথা হয় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান শাহিন শাহের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমি শুনেছি নুরুল বঙ্গবন্ধুর পোস্টার নিয়ে উল্টাপাল্টা মন্তব্য করছিলেন। এ সময় স্থানীয়রা তাকে মারধর করে।’ আপনার নেতৃত্বে হামলা হয়েছে- এমন অভিযোগ করা হলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, ‘তোমাকে এই তথ্য কে দিয়েছে। এর আগে নির্বাচনে আমার বিরুদ্ধে লিখেছ কিছু বলিনি। এবার যদি আমারে প্যাচাও তা হলে আমি তোমার বিরুদ্ধে মামলা করুম। আমি খুব খারাপ লোক। তোমারে দেইখা নিমু।’ এ প্রসঙ্গে স্থানীয় এমপি এসএম শাহাজাদা সাজু যুগান্তরকে বলেন যে কেউ অভিযোগ করতেই পারে। নুরুল আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নয়। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে মাঝে মাঝে মন্তব্য করেন, যেটা ঠিক নয়। তাছাড়া মারধর কালচার নিয়ে আমি রাজনীতি করি না এবং পছন্দও করি না। এ ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এমপি বলেন, সাংবাদিকদের সঙ্গে উপজেলা চেয়ারম্যানের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের জন্য আমি খুবই দুঃখিত। এ কাজটা তিনি ঠিক করেননি।

বুধবার সহযোগীদের নিয়ে নুরুল হক দশমিনা যাওয়ার পথে কিছু লোক তাদের গতিরোধ করে বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ পর গলাচিপা উপজেলা চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে তার ভাই নুরে আলম, পৌর আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাইনুল ইসলাম রনো, লিটু প্যাদাসহ শতাধিক লোক দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালালে নুরুল হকসহ প্রায় ৩০-৪০ জন আহত হন। ভাংচুর করা হয় বহরের অন্তত ১০টি মোটরসাইকেল।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন