পিবিআই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ: ২০ লাখ টাকা না দেয়ায় মৃত ব্যক্তির সাক্ষ্যে চার্জশিট

‘সাক্ষী দেখানো আরও ২৪ জন আদালতে বলেছেন যে, পিবিআই কর্মকর্তা তাদের কোনো সাক্ষ্য নেননি’

  ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

চার্জশিট

২০ লাখ টাকা ঘুষ না দেয়ায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরির্দশক হারুন অর রশিদ অদ্ভুত অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

একটি হত্যা মামলায় মৃত ও প্রবাসে থাকা ব্যক্তিদের সাক্ষ্য বানিয়ে তিনি মামলার সম্পূরক অভিযোগপত্র দিয়েছেন। এমন অভিযোগ করেছেন জেলার নবীনগর উপজেলার বিদ্যাকুট ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আনু মিয়া। রোববার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আনু মিয়া বলেন, ঘুষ না দেয়ায় পিবিআই কর্মকর্তা হারুন আমার বিরুদ্ধে সম্পূরক অভিযোগপত্র দিয়েছেন। অথচ ওই হত্যা মামলায় এর আগে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) অভিযোগপত্র দেয়। সিআইডি ও ডিবির অভিযোগপত্রে হত্যায় জড়িত যে ৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়, পিবিআই কর্মকর্তা হারুন সেই চারজনকে নির্দোষ উল্লেখ করে অভিযোগপত্র দিয়েছেন।

তিনি জানান, পিবিআই ৯ এপ্রিল ওই অভিযোগপত্র জমা দেয়। এর আগে ২১ মার্চ পিবিআই কর্মকর্তা হারুন তার কাছে ২০ লাখ টাকা ঘুষ চেয়েছিলেন। টাকা না দিলে আগের মতো অভিযোগপত্র দিতে পারবেন না বলে জানান। এর আগেও হারুন তার পরিবারের কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছিলেন বলে জানান তিনি।

আনু মিয়া বলেন, পিবিআই কর্মকর্তা হারুন ৩৯ জনের জবানবন্দি নিয়েছেন। তার মধ্যে চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি বিদ্যাকুট ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুর রউফের জবানবন্দি নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে দেখানো হয়। অথচ তিনি ২০১৮ সালের ২ নভেম্বর মারা গেছেন। একই তারিখে উপজেলার মেরাকুটা গ্রামের অজন্ত কুমার ভদ্র নামে এক ব্যক্তির সাক্ষ্য গ্রহণের কথা বলা হয়। অথচ অজন্ত কুমার ৯ জানুয়ারি ভারত যান এবং ৮ ফেব্রুয়ারি দেশে ফিরেন। এছাড়া সাক্ষী দেখানো আরও ২৪ জন আদালতে হলফনামা করে বলেছেন যে, পিবিআই কর্মকর্তা হারুন তাদের কোনো সাক্ষ্য নেননি।

অভিযোগপত্র সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি নবীনগর উপজেলায় আল আমিন নামে একজনকে হত্যা করা হয়। এ হত্যা মামলায় সিআইডি ২০১৭ সালের ৮ জানুয়ারি অভিযোগপত্র দেয়।

এতে নিহতের আপন ভগ্নিপতি জাকির হোসেন ও তার সহযোগী বিল্লাল, শাওন মিয়া ওরফে রানা ও মোবারক মিয়াকে হত্যার সঙ্গে জড়িত বলে উল্লেখ করা হয়। পরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারি মামলাটি তদন্ত করে অভিযোগপত্র দেয়। এতেও হত্যার সঙ্গে ওই চারজন জড়িত বলে উল্লেখ করা হয়। পরে বাদীর আপত্তিতে মামলাটি তদন্ত করেন পিবিআই পরিদর্শক হারুন অর রশিদ।

আনু মিয়া বলেন, নিহতের ভগ্নিপতি জাকিরের সঙ্গে আমাদের জমি সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে এবং আদালতে একাধিক দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা চলমান।

এ বিষয়ে পিবিআইয়ের পরিদর্শক (বর্তমানে জামালপুরে কর্মরত) হারুন অর রশিদ বলেন, অভিযোগপত্র দিলে অনেকেই অনেক কথা বলেন। মৃত ও দেশের বাইরে থাকা ব্যক্তিদের সাক্ষ্য গ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি আদালত দেখবে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×