গোলপাতা মৌসুম

সুন্দরবনে বেপরোয়া দস্যুবাহিনী

  কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

গোলপাতা মৌসুমকে কেন্দ্র করে সুন্দরবনে বনদস্যুদের তৎপরতা অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। ১ সপ্তাহে পূর্ব সুন্দরবনের দু’টি রেঞ্জে প্রায় অর্ধশত জেলে বাওয়ালীকে অপহরণ করেছে দুস্য বাহিনী। এ মৌসুমে নতুন করে আরও ৪টি বাহিনী আত্মপ্রকাশ করেছে। ইতিমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক টিমের সঙ্গে বনদস্যু বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বাওয়ালীরা বলছে, এ অবস্থা চলতে থাকলে এবার গোলপাতা আহরণ করা সম্ভব হবে না।

সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বিভাগের ২টি রেঞ্জের আওতায় গোলপাতা সংগ্রহের অনুমতি দেয়া হয়। দু’টি রেঞ্জে দুটি কুপ (গোলপাতার বাগান) রয়েছে। এর মধ্যে গত বছর খুলনা রেঞ্জে শিবসা ও আড়ুয়া শিবসা এই দুটি কূপে পারমিট দেয়া হলেও এ বছর ১টি কূপের আওতায় গোলপাতা আহরণের অনুমতি দেয়া হয়েছে। এ কূপে গোলপাতা সংগ্রহ করার জন্য ২০৩টি বিএলসি দেয়া হয়। বাওয়ালীরা খুলনা রেঞ্জ থেকে মৌসুমের প্রথম দফায় ১ লাখ ৩শ’ মণ গোলপাতা সংগ্রহ করার অনুমতি (পারমিট) নিয়েছে। অন্যদিকে সাতক্ষীরা কূপে প্রথম দফায় ৩৯টি বিএলসিতে ১৯ হাজার মণ গোলপাতার অনুমতি নিয়েছে। ২৮ জানুয়ারি থেকে এসব বিএলসির অনুকূলে পারমিট দেয়া শুরু হয়েছে এবং ৩০ মার্চ পর্যন্ত গোলপাতা আহরণ চলবে।

বাওয়ালী সূত্র জানিয়েছে, গোলপাতা মৌসুমকে কেন্দ করে সুন্দরবনে ইতোমধ্যে আরও চারটি দস্যু বাহিনী আত্মপ্রকাশ করেছে। এর মধ্যে মান্নান বাহিনী, জাহাঙ্গীর বাহিনী, মোশারাফ বাহিনী ও নানা নাতনি বাহিনী এখন সুন্দরবনের আতঙ্ক। ২০ ফেব্রুয়ারি বন বিভাগের স্মার্ট টিমের সঙ্গে সুন্দরবনের ভদ্রা এলাকায় জাহাঙ্গীর বাহিনীর গোলাগুলি সংঘটিত হয়।

খুলনার কয়রা উপজেলার সুতিরখালধার এলাকার বাওয়ালী মো. নজরুল ইসলাম জানান, ২০ বছর ধরে তিনি সুন্দরবন থেকে গোলপাতা সংগ্রহ করে আসছেন। কিন্তু বন বিভাগের এত কড়াকড়ি আগে কখনও দেখেননি। এর ওপর হঠাৎ করে বনদস্যুদের উপদ্রব বৃদ্ধিতে ব্যবসায়ীরা দিশেহারা। ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে লাখ লাখ টাকা আদায় করছে দস্যুরা।

কয়রার খুচরা গোলপাতা ব্যবসায়ী অয়েচ কুরুনী হাওলাদার বলেন, এখন আগের মতো আর গোলপাতার চাহিদা নেই। বিক্রি কম হওয়ায় অনেক খুচরা বিক্রেতাদের গত বছরের গোলপাতা এখনও রয়ে গেছে। তবে অনেক বাওয়ালী বলেন, গোলপাতায় যে পরিমাণ টাকা লগ্নি করা হয়, সেই তুলনায় ব্যবসা নেই। এর ওপর বনদস্যুদের চাপ সামলে লাভের মুখ দেখা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। খুলনা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) এসএম শোয়াইব খান বলেন, নির্বিঘ্নে যাতে বাওয়ালীরা গোলপাতা কাটতে পারে তার জন্য বন বিভাগ থেকে নেয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা। বনদস্যুদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে বলেও তিনি জানান।

এদিকে ব্যবসায়ী ও বন বিভাগের সূত্র জানিয়েছে, গোলপাতা আহরণের ক্ষেত্রে বেশ কিছু শর্ত দেয়া হয়েছে। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে ৫শ’ মণের বেশি ধারণ ক্ষমতার নৌকাকে বিএলসির অনুমোদন না দেয়া, গোলপাতা আহরণের জন্য নির্ধারিত সময়ের অতিরিক্ত সময় বনে অবস্থান না করা, গোলপাতা ঝাড়ের মাইজপাতা ও ঠেকপাতা কোনোভাবেই কাটা যাবে না এবং গোলপাতার আড়ালে যাতে কোনো ধরনের বনজদ্রব্য পাচার না হয় সে বিষয়টি নিবিড় তদারকির মাধ্যমে নিশ্চিত করা হচ্ছে।

সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. বশিরুল আল-মামুন জানান, সুন্দরবনের ওপর থেকে চাপ কমানোর জন্য বনজ দ্রব্য আহরণ সীমিত করা হয়েছে। পাশাপাশি কূপে নৌকার মিল রেখে গোলপাতা কাটার নির্দেশ দিয়েছেন। বনদস্যুদের অপতৎপরতার বিষয়ে তিনি বলেন, এটি একটি বড় সমস্যা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনীর সঙ্গে মিলে বনবিভাগও এ ব্যাপারে কাজ করছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter