সিলেটে পাথরকোয়ারি

মৃত্যুর মিছিলে আরও ৬ লাশ

রাতে জেনারেটরের আলোতে পাথর চুরি

  সিলেট ব্যুরো ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সিলেটের পাথরকোয়ারিগুলোতে থামছে না শ্রমিকের মৃত্যুর মিছিল। সোমবারের চার লাশসহ গত ২৪ ঘণ্টায় উদ্ধার হল ছয়টি লাশ। রোববার রাতে দুই শ্রমিকের লাশ উদ্ধার হয়েছে। এ নিয়ে গত এক বছরে ৪০ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। সবশেষ ছয় লাশের মধ্যে পাঁচটি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ ও অপরটি জৈন্তাপুর থেকে উদ্ধার করা হয়। দুটি ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন। কোম্পানীগঞ্জের ঘটনায় পুলিশ এক শ্রমিক সর্দারকে গ্রেফতার করলেও প্রভাবশালীরা সবাই ধরাছোঁয়ার বাইরে।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি শফিকুর রহমান খান জানান, সোমবার বিকাল পর্যন্ত কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জ পাথরকোয়ারি থেকে পাঁচ শ্রমিকের লাশ উদ্ধার হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশগুলো ওসমানী মেডিকেলে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতিও চলছে। মামলার আগেই একজন শ্রমিক সর্দারকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

পৃথক দুই ঘটনায় নিহতরা হলেন- সুনামগঞ্জের মুরাদপুর এলাকার আসকর আলীর ছেলে রুহুল আমিন (২২), একই এলাকার হযরত আলীর ছেলে মতিবুর (৩২), জামালগঞ্জের কলকটা গ্রামের আতাবুর রহমান (৩০), দক্ষিণ সুনামগঞ্জের ছলেরবন গ্রামের আশিক আলী (৩০), সুনামগঞ্জের রইছউদ্দিনের ছেলে মঈন উদ্দিন (৩২) ও দেলোয়ার হোসেন (২৬)। আহত ১৫ জনের মধ্যে রুহেল (১৮) ও রফিকুলের (১৬) নাম জানা গেছে।

গ্রেফতার শ্রমিক সর্দারের নাম আবদুুর রউফ (৫০)। ওই গর্তের মালিক উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলী আমজাদ বলে জানিয়েছে পুলিশ। স্থানীয় সূত্রের দাবি, পুলিশ গর্তের প্রকৃত মালিকদের নাম আড়াল করে উদ্দেশ্যমূলকভাবে আরেকজনের নাম বলছে। চলছে বিশাল অংকের খেলা। স্থানীয়রা বলছেন, ভোলাগঞ্জ কোয়ারিতে রাতে জেনারেটর চালিয়ে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের সময় রোববার রাত সাড়ে ৯টায় পাথরের কূপে চাপা পড়েন কয়েক শ্রমিক। পরে উদ্ধারকাজ শুরু হলে রাতে দু’জন ও সোমবার বিকাল পর্যন্ত আরও তিন শ্রমিকের লাশ উদ্ধার করা হয়।

সোমবার বেলা ১১টায় জৈন্তাপুর উপজেলার শ্রীপুর কোয়ারিতে পাথর উত্তোলনের সময় ধসে ১০-১২ জন শ্রমিক আহত হন। এদের সিলেট ওসমানী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে আহত দেলোয়ার হোসেন (২৬) মারা যান। দেলোয়ার জৈন্তাপুর উপজেলার চারিকাটা ইউনিয়নের লালা গ্রামের বাবুল মিয়ার ছেলে। শ্রীপুর কোয়ারিতে স্থানীয় নাজিম উদ্দিনের মালিকানাধীন গর্তে দেলোয়ার মারা যান। জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. মঈনুল জাকির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) জানায়, গত এক বছরে সিলেটের বিভিন্ন কোয়ারিতে টিলা ও গর্ত ধসে অন্তত ৪০ শ্রমিক মারা গেছেন।

দু’টি তদন্ত কমিটি : সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারিতে পাঁচ শ্রমিক মৃত্যুর ঘটনা খতিয়ে দেখতে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সোমবার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তিন সদস্যের ও পুলিশ প্রশাসনের উদ্যোগে দুই সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। পুলিশের তদন্ত দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সিলেটের পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান বলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) আবুল হাসনাতকে প্রধান করে কমিটিতে রাখা হয়েছে কোম্পানীগঞ্জ সার্কেল এএসপি মতিয়ার রহমানকে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রেভিনিউ) মোহাম্মদ আবদুল্লাহকে প্রধান করে গঠিত অপর কমিটিতে রয়েছেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও এডিসি মো. আশরাফুল আলম। ৭ কার্যদিবসের মধ্যেই দুই কমিটিকেই রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter