শেবাচিম হাসপাতাল

কর্মচারী বেশে দেড় শতাধিক বহিরাগতের দৌরাত্ম্য

জিম্মি রোগী ও স্বজনরা

  তন্ময় তপু, বরিশাল ব্যুরো ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বহিরাগতদের দৌরাত্ম্যে জিম্মি হয়ে পড়েছেন বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শত শত রোগী। কর্মচারী না হয়েও তারা ওয়ার্ডগুলোতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। নিজেদের ‘অতিরিক্ত কর্মচারী’ পরিচয় দিয়ে থাকেন তারা। বহিরাগতদের সংখ্যা দেড় শতাধিক হবে। এদের দাপটে কোণঠাসা প্রকৃত কর্মচারীরাও। দক্ষিণাঞ্চলের সব থেকে বড় চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠান শেবাচিম হাসপাতালে প্রতিদিনই বেড সংখ্যার দ্বিগুণ রোগী ভর্তি হন। তাদের সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। কারণ হাজার শয্যার এ হাসপাতালটিতে রয়েছে জনবল সংকট। আর এ সুযোগে কিছু বহিরাগত নারী-পুরুষ কর্মচারী বেশে রোগীদের জিম্মি করে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন।

জানা যায়, শেবাচিম হাসপাতালের গাইনি, মেডিসিন, সার্জারি, শিশু ওয়ার্ডগুলোতে সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়। এসব ওয়ার্ড পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, রোগীর থাকার জায়গা নির্ধারণ করা, প্রয়োজনে বিভিন্ন স্থানে রোগী স্থানান্তর প্রভৃতি কাজ করার জন্য পর্যাপ্ত আয়া, ওয়ার্ডবয় ও ক্লিনার নেই। যারা আছেন তাদের দিয়ে তিন শিফটে কাজ করতে হিমশিম খাচ্ছে সংশ্লিষ্টরা। এ সুযোগে সহায়তার নামে বিভিন্ন মাধ্যমে বহিরাগত ‘অবৈতনিক’ লোক (নারী-পুরুষ) সেবার নামে কাজ করছেন। যাদের বেতন-ভাতা হাসপাতাল থেকে দেয়া হয় না। কিন্তু প্রকৃত কর্মচারীদের চেয়ে এদেরই দাপট বেশি। এরা সুযোগ বুঝে সেবার নামে রোগী ও স্বজনদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছেন টাকা। অনুসন্ধানে জানা যায়- হাসপাতালের কেবিন, পথ্য বিভাগ, মেডিসিন, সার্জারি, শিশু, নবজাতক, সিসিইউ ও গাইনি ওয়ার্ডে রাশিদা, হাসি, রেহেনা, ফয়সাল, খালেদা, আসমা, নিপা, কোহিনূর, মরিয়ম, এ্যানি, সালমা, হাসিনা (১), হাসিনা (২), মার্থা, হাসান, রাসেল, মমতাজসহ প্রায় ৩৫ জনের মতো বহিরাগত রোগীদের জিম্মি করে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন। হাসপাতালের বাকি ওয়ার্ডগুলোতেও বহিরাগতরা কাজ করছেন।

২ বছর আগে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ঠিকাদার কর্তৃক জনবল (ক্লিনার/সিকিউরিটি গার্ড) নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এরপর ঠিকাদার তার কার্যক্রম হাসপাতাল থেকে গুটিয়ে নেন। কিন্তু ঠিকাদারের অধীনে থাকা ১২০ চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী (চতুর্থ শ্রেণি) হাসপাতালে থেকে যান। এছাড়া বিভিন্ন সময় হাসপাতালে অনুপ্রবেশ করে আরও কিছু বহিরাগত। জনবল নিয়োগ দেয়া ঠিকাদারের এক প্রতিনিধি জানান, ২ বছর আগে হাসপাতাল প্রশাসনের নির্দেশ মোতাবেক ঠিকাদার জনবল সরবরাহের কাজ গুটিয়ে নেন। ওই সময় ঠিকাদারের অধীনে থাকা ১২০ জন স্টাফের পাওনা বুঝিয়ে তাদের বিদায় করা হয়। এরপরে কেউ হাসপাতালের কোনো ওয়ার্ডে কাজ করছেন কিনা তা জানা নেই।

বিভিন্ন ওয়ার্ডের ইনচার্জরা জানান, তারা সব সময় বহিরাগতদের আতঙ্কে থাকেন। কারণ সরকারি কোনো মালামাল খোয়া গেলে তার দায়ভার তাদের (ইনচার্জ) নিতে হয়। বহিরাগতরা যেভাবে ওয়ার্ডে দাপিয়ে বেড়ান তাতে বোঝার উপায়ই নেই যে, তারা হাসপাতালের প্রকৃত কর্মচারী নন। জানতে চাইলে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. বাকির হোসেন বলেন, আমরা বহিরাগতদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চালাচ্ছি। এজন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। আমি নিজেও মাঝে মাঝে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়ে যাই কে সরকারি কর্মচারী আর কে বহিরাগত। ইতিমধ্যে কয়েকজনকে ধরে পুলিশের হাতে সোর্পদও করেছি। তিনি বলেন, ১৫১ জন জনবল নেয়ার জন্য মন্ত্রণালয় থেকে অনুমতি পেয়েছি। এখন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমতি মিললেই হয়। নতুন করে লোক নিলে আশা করি বহিরাগতদের দৌরাত্ম্য রোধ করা যাবে। শিগগিরই এ দশা থেকে হাসপাতাল মুক্তি পাবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×