উজিরপুরে প্রতারক নারীর কার্যকলাপে বিপাকে ওসি!

  বরিশাল ব্যুরো ও উজিরপুর প্রতিনিধি ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

এক প্রতারক নারীর কার্যকলাপে উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শিশির কুমার পাল বিপাকে পড়েছেন। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কাছে ওই নারী অভিযোগ করেছেন। অভিযোগ, ওসি ও এক কনস্টেবল তাকে মারধর করেছে এবং তার গালে সিগারেটের ছ্যাঁকা দিয়েছে। এ ব্যাপারে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে।

জানা গেছে, ২০১৭ সাল থেকে মাদারীপুরের সদর উপজেলার চরব্রাহ্মন্দী গ্রামের মইন উদ্দিন মাতুব্বরের স্ত্রী রাশিদা বেগম (৪২) বিভিন্ন থানার ওসি, এসআই, কনস্টেবল, সাধারণ মানুষ এমনকি নিজের ছেলের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করে আসছে। এর আগে মাদারীপুর ও ভোলায় দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তিনি হয়রানিমূলক অভিযোগ করেন। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার উজিরপুর মডেল থানার সামনে একটি চায়ের দোকানে বসে হঠাৎ তিনি চিৎকার শুরু করেন। চিৎকার করে তিনি জানান, ওসি শিশির ও কনস্টেবল জাহিদুল ইসলাম তাকে মারধর করেছে। তার গালে সিগারেটের ছ্যাঁকা দিয়েছে। রাশিদার কান্নাজড়িত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এ বিষয়ে শুক্রবার বরিশাল জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) নাইমুল হককে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত কমিটিকে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

জানা গেছে, বিভিন্ন স্থানে গিয়ে পুলিশসহ সাধারণ মানুষকে মিথ্যা মামলা দিয়ে রাশিদা হয়রানি করে আসছে। তার প্রতারণা থেকে রেহাই পায়নি তার বড় ছেলে রাসেল মাতুব্বরও। মায়ের মামলার কারণে ২০১৭ সালে শ্বশুরবাড়িতে রাসেল আত্মহত্যা করে। এ ঘটনায় চরফ্যাসন থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়। এ মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওসির বিরুদ্ধে পুলিশ সদর দফতরে অভিযোগ করেন রাশিদা। ২০১৮ সালের ২৬ ডিসেম্বর ও ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি আড়াই লাখ টাকা ঘুষ, ডান পাঁজরে ঘুষি, ডান হাত ভেঙে দেয়াসহ সিগারেটের ছ্যাঁকা দিয়ে তার গাল পুড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ করেন রাশিদা। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি ২০১৯ সালের ১৪ মে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়। এছাড়া রাশিদার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে পুলিশ ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির করার আরও অভিযোগ রয়েছে।

উজিরপুর মডেল থানার ওসি শিশির কুমার পাল জানান, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। তদন্ত হলে সব সত্য বেরিয়ে আসবে। জেলা পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম (বিপিএম) বলেন, বিষয়টি শুনেছি। তদন্ত চলছে, তদন্ত শেষ না হলে কিছু বলা যাবে না।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×