সম্পত্তির লোভে বড় ভাইয়ের কাণ্ড!

মানসিক ভারসাম্যহীন ভাইকে ৩০ বছর শিকলবন্দি

  কিশোরগঞ্জ ব্যুরো ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পাকুন্দিয়া উপজেলার দক্ষিণ ষাটিয়াদী গ্রামের সচ্ছল পরিবারের সদস্য রতন মিয়া (৫৫)। তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন। কিন্তু তার বড় ভাই আঙ্গুর মিয়া তাকে ৩০ বছর ধরে একটি ছোট্ট অন্ধকার ঘরে বিনা চিকিৎসায় শিকলবন্দি করে রেখেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এর নেপথ্যে রয়েছে পৈতৃক সম্পত্তির লোভ। সম্প্রতি ঘটনাটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। মঙ্গলবার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ রতন মিয়াকে উদ্ধার করে পাকুন্দিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে। অভিযুক্ত আঙ্গুর মিয়া তার ভাই রতনকে চিকিৎসা করানোর দাবি করলেও প্রমাণ দিতে পারেননি।

জানা গেছে, উপজেলার পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়নের ওই গ্রামের হাজিবাড়ির মৃত আবদুল মোমেনের মেজ ছেলে রতন মিয়া ৩০ বছর আগে মাথায় আঘাত পেয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন। তারপর থেকে চিকিৎসা না করিয়ে বড় ভাই আঙ্গুর মিয়া ও ছোট ভাই তাকে শিকলবন্দি করে রাখেন। পরে ছোট ভাইটি মারা যাওয়ায় বড় ভাই পৈতৃক সম্পত্তি এককভাবে ভোগ করছেন। বসতঘরের বারান্দায় একটি ছোট্ট কক্ষে রতনকে শিকলবন্দি করে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে রাখা হয়। ওই কক্ষেই প্রস্রাব-পায়খানার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তালাবদ্ধ অবস্থায় অস্বাস্থ্যকর ছোট্ট কক্ষেই কেটেছে তার জীবনের ৩০ বছর। জন্মদাতা মা-বাবার অবর্তমানে সম্পদলোভী বড় ভাইয়ের গলগ্রহ হয়ে ধুঁকে ধুঁকে মরছিলেন রতন মিয়া। অথচ একসময় প্রণোচ্ছল যুবক রতনের বাঁশির সুর মুগ্ধ করত এলাকাবাসীকে। এ অমানবিক ঘটনা সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে।

পাটুয়াভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শাহাবুদ্দিন জানান, সম্পত্তির লোভে চিকিৎসা না করিয়ে রতনকে পাগল বানিয়ে শিকলবন্দি করে রাখার বিষয়টি জানতে পেরেছি। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ হাসান জানান, অমানবিক বিবেচনায় স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে রতনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. হাবিবুর রহমান জানান, চিকিৎসা না দিয়ে কাউকে শিকলবন্দি করে রাখা গুরুতর অপরাধ।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×