বেরোবিতে ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে শঙ্কা, নেপথ্যে পিএ

  রাব্বী হাসান সবুজ, বেরোবি ০৯ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) এবারও ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে জালিয়াতির শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির দায়ে ২০১৬ সালে সিন্ডিকেটের সভায় ভিসির ব্যক্তিগত সহরকারী (পিএ) আবুল কালাম আজাদকে শাস্তি দেয়ার পর এবারের ভর্তি পরীক্ষায় তার তৎপরতার কারণে এই শঙ্কা বিরাজ করছে। ১০ নভেম্বর ভর্তি পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। ২০১৭ সালে সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. একেএম নুর-উন-নবীর পর প্রফেসর ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর দায়িত্ব নেয়ার দিন থেকেই আবুল কালাম তার পিএ’র দায়িত্ব বাগিয়ে নেন।

অভিযোগের বিষয়ে পিএ আবুল কালাম আজাদ যুগান্তরকে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যে সকল অভিযোগ উঠেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ষড়যন্ত্রমূলক ছাড়া কিছু না।’ ভিসির পিএ’র কর্মকাণ্ডকে সীমাহীন দুর্নীতি উল্লেখ করে সরকার সমর্থিত শিক্ষকদের সংগঠন নীল দলের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মণ্ডল যুগান্তরকে বলেন, ‘পিএ কালামের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান শাস্তি কাগজে রয়েছে। শুধু পিএ নয়, ভর্তি জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের যদি ভর্তি প্রক্রিয়ার সঙ্গে রাখা হয় তাহলে ভর্তি প্রক্রিয়াটাই বিতর্কিত হবে।’

সার্বিক বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

গত বুধবার আসন্ন ভর্তি পরীক্ষায় বিগত সময়ে ভর্তি জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত অভিযুক্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা কর্মচারীদের ভর্তি পরীক্ষা চলাকালীন হলে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি ও ভর্তি সংক্রান্ত কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখাসহ কয়েক দফা দাবিতে আন্দোলন করার পর শেষ পর্যন্ত ভিসি সব দাবি মেনে নেন।

আবুল কালাম আজাদ প্রসঙ্গে শিক্ষার্থীরা জানায়, ভর্তি জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত কোনো ব্যক্তি ভর্তি পরীক্ষার সময় এ সংক্রান্ত কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখার দাবিতে আন্দোলন করলাম। ভিসি দাবিও মেনে নিয়েছেন কিন্তু ভিসির পিএ ভর্তি জালিয়াতির দায়ে ৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত। তাই জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত অন্যদের সঙ্গে পিএ কালামকে পরীক্ষা চলাকালে ৭৫ একরে দেখতে চাই না।

পিএ পদে দায়িত্ব পাওয়ার পর নিয়ম ভেঙে নিজের স্ত্রী নুর নাহার বেগমকে ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সেমিনার সহকারী পদে নিয়োগ দেয়া ছাড়াও তার আপন ফুপাতো ভাই কাওসার হোসেনকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সেমিনার সহকারী, আপন মামাতো ভাই মো. গোলাপ মিয়াকে রসায়ন বিভাগের এমএলএসএস পদে, বন্ধুর ছোট ভাই হযরত আলীকে জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা দফতরের এমএলএসএস পদে নিয়োগ দিয়েছেন। এছাড়া উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নিখিল চন্দ্র বর্মণের ভাতিজা বুদ্ধদেব বর্মণকে রেজিস্ট্রার দফতরের মেশিন অপারেটর পদে নিয়োগ দিয়েছেন তিনি। এতে বিপুল অংকের অর্থের লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে। বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান যুগান্তরকে বলেন, ‘যেহেতু ভিসি শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি মেনে নিয়েছেন, ফলে বাস্তবায়ন করার নৈতিক দায়ও তার। যদি তিনি সেটি না করেন তাহলে বঙ্গবন্ধু পরিষদ মনে করে যে ভিসি বিশ্ববিদ্যালয়কে নিজেই পরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীল করার সকল ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।’

সূত্র জানায়, ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষে ভর্তি পরীক্ষায় তৎকালীন ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সেমিনার সহকারী আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ ওঠে। পরে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুসারে ২০১৫ সালের ২৬ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৭তম সিন্ডিকেট সভায় তার বিরুদ্ধে ৫ বছরের জন্য আপগ্রেডেশন/প্রমোশন বন্ধসহ ইনক্রিমেন্ট না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরে নতুন ভিসি হিসেবে অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ দায়িত্ব নেয়ার পর একটি বিশেষ মহলকে ম্যানেজ করে ভিসির পিএ’র মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ বাগিয়ে নেন। ফলে ভর্তি পরীক্ষা ছাড়াও সর্বত্রই তার অবাধ বিচরণ। ভিসির পিএ হিসেবে ভর্তি সংক্রান্ত বিভিন্ন ওরিয়েন্টেশন কোর্সসহ ভর্তি পরীক্ষার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তার সরাসরি সম্পৃক্ততার বিষয়টি সামনে চলে এসেছে।

 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত