মানুষের রক্ত চুষে বড়লোক হওয়া ঠিক না
jugantor
চুয়েটে সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতি
মানুষের রক্ত চুষে বড়লোক হওয়া ঠিক না

  চট্টগ্রাম ব্যুরো  

০৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, মানুষের রক্ত চুষে রাতারাতি বড়লোক হওয়া ঠিক না। শুধু ইসলাম ধর্মেই নয়, কোনো ধর্মই মানুষকে এরকম চিবিয়ে খাওয়া সাপোর্ট করে না। ছোটকাল থেকে দেখে আসছি, যখন ধান কাটা শুরু হয়, চালের দাম কমে। অথচ এখন ধান কাটার মৌসুমেই কিছু ব্যবসায়ী চালের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। কিন্তু কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না। পেঁয়াজ মজুদ করে কর্ণফুলীতে ফেলা হচ্ছে। এটা খুব দুঃখজনক। এদের গণধোলাই নয়, মগজ ধোলাই করতে হবে। এজন্য ইয়াং এনার্জেটিকদের এগিয়ে আসতে হবে।

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বৃহস্পতিবার বিকেলে সভাপতির বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক নেতাদের বলব, এ-জাতীয় ব্যবসায়ীদের মোটিভেশনের মাধ্যমে বুঝাতে হবে।

রাষ্ট্রপতি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় ‘আই ন ডরাই’ (আমি ভয় পাই না) বলে মাঠে নেমে পড়তে হবে। এসব ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের নামতে হবে। তোমরা (শিক্ষার্থীরা) দেশকে ভালোবাসো জানি। প্রকৃতপক্ষে দেশকে ভালোবাসলে কিছু করে দেখাতে হবে।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, জনবহুল এ দেশকে সমৃদ্ধিশালী করতে হলে বিদ্যমান সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার করতে হবে। প্রকৌশলীরা উন্নয়নের কারিগর। তাদের চিন্তা-চেতনায় থাকবে দূরদৃষ্টির সুস্পষ্ট প্রতিফলন। ২০৫০ সালে বা ২১০০ সালে বাংলাদেশের উন্নয়ন কেমন হওয়া উচিত বা বাংলাদেশের অবস্থান কোন স্তারে পৌঁছাবে তা বিবেচনায় রেখেই উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে।

সমাবর্তন বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. একে আজাদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন চুয়েট ভিসি ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম।

অধ্যাপক ড. একে আজাদ চৌধুরী বলেন, আজ তোমাদের জীবনের একটি স্মরণীয় দিন। ১৬-১৭ বছরের ছাত্রজীবনে কঠোর পরিশ্রম করে আজ তোমরা ডিগ্রি লাভ করতে যাচ্ছ। তবে মনে রাখবে এটা তোমাদের পেশা জীবনের প্রথম ধাপ মাত্র এবং শিক্ষাজীবনেরও শেষ ধাপ নয়; জীবনভর শিক্ষা এখনকার স্লোগান।

এবারের সমাবর্তনে ২০১২ সালের ১০ অক্টোবর থেকে ২০১৬ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চুয়েট থেকে স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি ডিগ্রি নেয়া দুই হাজার ২৩১ শিক্ষার্থী অংশ নেন। অনুষ্ঠানে সিজিপিএ পাওয়া চার শিক্ষার্থীকে ‘বিশ্ববিদ্যালয় স্বর্ণপদক’ দেয়া হয়।

চুয়েটে সমাবর্তনে রাষ্ট্রপতি

মানুষের রক্ত চুষে বড়লোক হওয়া ঠিক না

 চট্টগ্রাম ব্যুরো 
০৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, মানুষের রক্ত চুষে রাতারাতি বড়লোক হওয়া ঠিক না। শুধু ইসলাম ধর্মেই নয়, কোনো ধর্মই মানুষকে এরকম চিবিয়ে খাওয়া সাপোর্ট করে না। ছোটকাল থেকে দেখে আসছি, যখন ধান কাটা শুরু হয়, চালের দাম কমে। অথচ এখন ধান কাটার মৌসুমেই কিছু ব্যবসায়ী চালের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। কিন্তু কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না। পেঁয়াজ মজুদ করে কর্ণফুলীতে ফেলা হচ্ছে। এটা খুব দুঃখজনক। এদের গণধোলাই নয়, মগজ ধোলাই করতে হবে। এজন্য ইয়াং এনার্জেটিকদের এগিয়ে আসতে হবে।

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বৃহস্পতিবার বিকেলে সভাপতির বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন। তিনি বলেন, মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক নেতাদের বলব, এ-জাতীয় ব্যবসায়ীদের মোটিভেশনের মাধ্যমে বুঝাতে হবে।

রাষ্ট্রপতি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় ‘আই ন ডরাই’ (আমি ভয় পাই না) বলে মাঠে নেমে পড়তে হবে। এসব ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের নামতে হবে। তোমরা (শিক্ষার্থীরা) দেশকে ভালোবাসো জানি। প্রকৃতপক্ষে দেশকে ভালোবাসলে কিছু করে দেখাতে হবে।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, জনবহুল এ দেশকে সমৃদ্ধিশালী করতে হলে বিদ্যমান সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার করতে হবে। প্রকৌশলীরা উন্নয়নের কারিগর। তাদের চিন্তা-চেতনায় থাকবে দূরদৃষ্টির সুস্পষ্ট প্রতিফলন। ২০৫০ সালে বা ২১০০ সালে বাংলাদেশের উন্নয়ন কেমন হওয়া উচিত বা বাংলাদেশের অবস্থান কোন স্তারে পৌঁছাবে তা বিবেচনায় রেখেই উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে।

সমাবর্তন বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. একে আজাদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন চুয়েট ভিসি ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম।

অধ্যাপক ড. একে আজাদ চৌধুরী বলেন, আজ তোমাদের জীবনের একটি স্মরণীয় দিন। ১৬-১৭ বছরের ছাত্রজীবনে কঠোর পরিশ্রম করে আজ তোমরা ডিগ্রি লাভ করতে যাচ্ছ। তবে মনে রাখবে এটা তোমাদের পেশা জীবনের প্রথম ধাপ মাত্র এবং শিক্ষাজীবনেরও শেষ ধাপ নয়; জীবনভর শিক্ষা এখনকার স্লোগান।

এবারের সমাবর্তনে ২০১২ সালের ১০ অক্টোবর থেকে ২০১৬ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চুয়েট থেকে স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি ডিগ্রি নেয়া দুই হাজার ২৩১ শিক্ষার্থী অংশ নেন। অনুষ্ঠানে সিজিপিএ পাওয়া চার শিক্ষার্থীকে ‘বিশ্ববিদ্যালয় স্বর্ণপদক’ দেয়া হয়।