পোশাক রফতানিতে বিশেষ সুবিধা

ডলারে ৫ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি * বাংলাদেশ ব্যাংকের আপত্তি * আইএমএফের শর্ত মতে ৩ শতাংশের বেশি দেয়ার সুযোগ নেই

  যুগান্তর রিপোর্ট ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

তৈরি পোশাক রফতানি আয় বাড়াতে এবং রফতানি আয়ে অব্যাহত ধস ঠেকাতে প্রতি ডলারে প্রচলিত বিনিময় হারের পাশাপাশি আরও বাড়তি ৫ টাকা হারে বিনিময় সুবিধা দেয়ার প্রস্তাব করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে সম্প্রতি বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের কাছে একটি চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে বলা হয়েছে, এই সুবিধা দিতে সরকারের অতিরিক্ত ৩ হাজার ৯৮৮ কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। এই প্রণোদনা পেলে পোশাক খাতের রফতানি আয় ধরে রাখা সম্ভব হবে। তা না হলে বছর শেষে এ খাতে ৭ শতাংশ ঘাটতি থাকতে পারে।

সাম্প্রতিক সময়ে রফতানি আয়ে নিম্নগতির ধারা অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে রফতানি আয়ের সিংহভাগ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। এ খাতে রফতানি আয় কমার কারণে পুরো খাতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক মাসগুলোয় রফতানি আয়ের প্রবৃদ্ধি ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-অক্টোবরে পোশাক খাতের প্রবৃদ্ধি হ্রাস পেয়েছে ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এ সময়ে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১ দশমিক ৯ শতাংশ। নভেম্বরে পোশাক খাতের রফতানির প্রবৃদ্ধির হার ১০ শতাংশ কমে আসতে পারে।

বর্তমানে ক্রেতাদের ক্রয় আদেশ পর্যালোচনায় আশঙ্কা করা হচ্ছে, ডিসেম্বর পর্যন্ত রফতানি আয়ে এই মন্থরগতি অব্যাহত থাকবে। মূলত মূল্যভিত্তিক প্রতিযোগিতায় পোশাক খাত পিছিয়ে রয়েছে। প্রতিযোগিতার সক্ষমতায় পিছিয়ে পড়ার জন্য অন্যতম কারণ হচ্ছে ডলারের বিপরীতে টাকার শক্তিশালী অবস্তান। যেখানে বিগত ৭ বছরে ডলারের বিপরীতে টাকার মান শক্তিশালী ও স্থিতিশীল অবস্থানে রয়েছে। ওই সময়ে ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপি ২৯ দশমিক ৩২ শতাংশ, চীনের ইউয়ান ১১ দশমিক ৭১ শতাংশ, ভিয়েতনামের ডং ৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ, তুরস্কের লিরাব ২২২ শতাংশ অবমূল্যায়ন হয়েছে। ফলে বাংলাদেশের তুলনায় ওইসব দেশের পোশাকের দাম কমে গেছে। এতে ক্রেতারা ওইসব দেশে রফতানির আদেশ বেশি দিচ্ছেন।

চিঠিতে বলা হয়, ইতিমধ্যে ভারত সরকার রফতানি খাতকে উদ্ধার করতে বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ৫০ হাজার কোটি রুপি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। একইভাবে পাকিস্তান ও ভিয়েতনাম সরকারও তাদের পোশাক খাতের জন্য কর্পোরেট ট্যাক্সে রেয়াত, স্বল্প সুদে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করেছে। যুক্তরাষ্ট্র-চীনের বাণিজ্যযুদ্ধের ফলে ভিয়েতনাম যুক্তরাষ্ট্রের বেশি ক্রয়াদেশ পাচ্ছে। বিভিন্ন কারণে বাংলাদেশ সে সুবিধা পাচ্ছে না। যে কারণে প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় অনেক পিছিয়ে পড়েছে বাংলাদেশ।

বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সিংহভাগ রফতানি আয় অর্জনকারী পোশাক খাতের প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে এবং এই খাতে পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে নিয়োজিত কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের সুরক্ষার জন্য কিছু আশু পদক্ষেপ গ্রহণ একান্তভাবে জরুরি হয়ে পড়েছে। পোশাক রফতানির বর্তমান ধারা চলতে থাকলে চলতি অর্থবছর শেষে এ খাতে রফতানি আয়ে ৭ শতাংশ ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হতে পারে। তখন পোশাক রফতানি আয় ৩ হাজার ১৯০ কোটি ডলারে নেমে আসবে। চিঠিতে বলা হয়, বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে তৈরি পোশাক খাতের সুরক্ষা প্রদানের জন্য স্থানীয় পর্যায়ে রফতানি আয়ে মূল্য সংযোজনের ওপর রফতানি মূল্যের ২৫ শতাংশ অর্থাৎ ডলারপ্রতি অতিরিক্ত ৫ টাকা বিনিময় হার প্রদানের জন্য ‘আরএমজি ফরেন্সি রিয়ালাইজেশন প্রোগ্রাম’ প্রবর্তন এবং তা বাস্তবায়নের জন্য অনুরোধ করেন।

এদিকে রফতানি আয়ে অব্যাহত ধস ঠেকাতে বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে ইতিমধ্যেই রফতানি উন্নয়ন তহবিলের (ইডিএফ) ঋণের সুদের হার ডলারে ১ শতাংশ কমানো হয়েছে। টাকার বিপরীতে ডলারের দাম বাড়ানো হয়েছে। রফতানির বিপরীতে দেয়া বিকল্প নগদ সহায়তার আওতা বাড়ানো হয়েছে। রফতানি খাতে আরও কিছু সুবিদা দেয়ার বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।

সূত্র জানায়, বিনিময় হারের সুবিধা সব খাতে দেয়া ঠিক হবে না বলে মনে করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে বাজারভিত্তিক বিনিময় হার ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হবে। এদিকে আইএমএফের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী কোনো খাতে বাজারভিত্তিক বিনিময় হারের চেয়ে ৩ শতাংশের বেশি সুবিধা দেয়ার সুযোগ নেই। বর্তমানে শুধু রেমিটেন্সের বিপরীতে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা সুবিধা দেয়া হচ্ছে।

ইতিমধ্যে রফতানি আয়ের চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে রফতানি আয় ও প্রবৃদ্ধি দুটোই কমেছে। পাঁচ মাসে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ হাজার ৮০৫ কোটি ডলার। এর বিপরীতে আয় হয়েছে ১ হাজার ৫৭৭ কোটি ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১২ দশমিক ৫৯ শতাংশ কম। এছাড়া ২০১৮-১৯ অর্থবছরের একই সময় রফতানি আয় ছিল ১ হাজার ৭০৭ কোটি ডলার। সেক্ষেত্রে গত বছরের তুলনায় রফতানি আয় কম হয়েছে ৭ দশমিক ৫৯ শতাংশ।

এদিকে একক মাস হিসেবে শুধু নভেম্বরে রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি। এ মাসে রফতানির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৭২ কোটি ডলার। আয় হয়েছে ৩০৫ কোটি ডলার। এক্ষেত্রে আয় কম পাওয়া গেছে ১৭ দশমিক ৯০ শতাংশ। গত বছরের এ সময়ের তুলনায় কম হয়েছে ১০ দশমিক ৭০ শতাংশ।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

 
×