পেঁয়াজের ঝাঁজ মূল্যস্ফীতিতে

এক মাসের ব্যবধানে শূন্য দশমিক ৫৮ ভাগ বেড়ে নভেম্বরে দাঁড়িয়েছে ৬.০৫ শতাংশ * মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির প্রধান নায়ক পেঁয়াজ -পরিকল্পনামন্ত্রী

  যুগান্তর রিপোর্ট ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দ্রব্যমূল্যের বাজারে অস্থিরতার প্রভাবে পড়েছে মূল্যস্ফীতিতে। পেঁয়াজসহ মসলাজাতীয় এবং শাকসবজির দাম বাড়ায় অক্টোবরের তুলনায় নভেম্বরে মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়েছে। নভেম্বরে মূল্যস্ফীতির হার হয়েছে ৬ দশমিক শূন্য ৫ ভাগ, যা গত অক্টোবরে ছিল ৫ দশমিক ৪৭ ভাগ। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে শূন্য দশমিক ৫৮ ভাগ। ২০১৮ সালের নভেম্বরে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৫ দশমিক ৩৭ ভাগ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে মূল্যস্ফীতি আরও বেড়েছে। এতে বাড়তি মূল্যস্ফীতির পরিমাণ শূন্য দশমিক ৬৮ ভাগ।

নভেম্বরে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৪১ শতাংশে, যা তার আগের মাসে ছিল ৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ। খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতিও বেড়ে হয়েছে ৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ, যা তার আগের মাসে ছিল ৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ। শুধু পেঁয়াজের দামই নয়, সঙ্গে চাল, শাকসবজি, মসলাজাতীয় পণ্য এবং অন্যান্য পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সব ক্ষেত্রেই মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। মঙ্গলবার একনেক ব্রিফিং শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান এসব তথ্য প্রকাশ করেন। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে এ ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।

পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির প্রধান নায়ক পেঁয়াজ। দেশের মূল্যস্ফীতি বর্তমানে ঝিকঝাক পদ্ধতিতে (ওঠানামা) চলছে। পেঁয়াজের দাম এবং সবজির দাম কমলে ডিসেম্বর মাসে মূল্যস্ফীতি কমে যাবে বলে আশা করছি।

বিবিএসের সিপিআই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ, অক্টোবরে ছিল ৫ দশমিক ৪০ শতাংশ। ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে মূল্যস্ফীতি ছিল ৫ দশমিক ৯১ শতাংশ এবং অক্টোবরে ছিল ৬ দশমিক ০৪ শতাংশ।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নভেম্বরে গ্রামে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ০১ শতাংশে, যা তার আগের মাসে ছিল ৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ। খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ, যা তার আগের মাসে ছিল ৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ। খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ, যা তার আগের মাসে ছিল ৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ।

এছাড়া প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নভেম্বর মাসে শ্রমিকের মজুরি হার বেড়েছে। এক্ষেত্রে কৃষি, শিল্প ও সেবা তিন খাতেই মজুরি হার বেড়েছে।

অন্যদিকে নভেম্বর মাসে শহরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ১২ শতাংশে, যা তার আগের মাসে ছিল ৫ দশমিক ৬৭ শতাংশ। খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ৬ দশমিক ১১ শতাংশ, যা তার আগের মাসে ছিল ৫ দশমিক ৩১ শতাংশ। এছাড়া খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ৬ দশমিক ১৩ শতাংশ, যা তার আগের মাসে ছিল ৬ দশমিক ০৯ শতাংশ।

এছাড়া প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নভেম্বর মাসে শ্রমিকের মজুরি হার বেড়েছে। এক্ষেত্রে কৃষি, শিল্প ও সেবা তিন খাতেই মজুরি হার বেড়েছে।

জানতে চাইলে অর্থনীতিবিদ ও বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, গত অর্থবছর খাদ্য মূল্যস্ফীতি যেটি কমার প্রবণতা ছিল সেটি মূলত বাম্পার ফলনের কারণে। কিন্তু সেটি এখন আর নেই। কয়েকদিন আগে হয়ে যাওয়া বন্যার কারণে আমন উৎপাদন কম হলে চালের দাম একটু বাড়তে পারে। শাকসবজিরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া গ্যাসের দাম বাড়ায় পরিবহন ভাড়া বেড়ে যাওয়াসহ গ্যাসনির্ভর শিল্প প্রতিষ্ঠানের পণ্য উৎপাদন খরচ বাড়বে। তাছাড়া ভ্যাট আইনের বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। যদিও এখনও পরিষ্কার নয়, কিভাবে এই আইন বাস্তবায়ন হবে। ভ্যাটের কারণে আমদানি, ব্যবসা-বাণিজ্য ইত্যাদি ক্ষেত্রে পাইকারি খুচরা সব ক্ষেত্রেই দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেই প্রভাব পড়ছে মূল্যস্ফীতিতে। এছাড়া প্রবৃদ্ধির চাপ আছে। উৎপাদন ক্ষমতার চেয়ে যদি মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি বেশি হয় তখন চাহিদা সৃষ্টি হয়ে থাকে। এ কারণেও মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। সেই সঙ্গে মেগা প্রকল্পগুলোসহ অন্যান্য প্রকল্পে সরকারি ব্যয় বাড়ছে ফলে চাহিদার ওপর চাপ আসবে। তাই এ কথা বলতে পারি মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির আশঙ্কা কাল্পনিক নয়, বাস্তবভিত্তিক সম্ভাবনা রয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে ড. জাহিদ বলেন, এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বাড়ার চাপ কম রয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি তেলের দাম কম রয়েছে। তবে ট্রাম্পের বাণিজ্য যুদ্ধ এবং জিও পলিটিক্যাল কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে সেক্ষেত্রে, দেশীয় বাজারে মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা থেকে যায়।

সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম বলেন, চলতি অর্থবছরের প্রথম কয়েক মাস মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা তো রয়েছেই। কেননা বন্যার কারণে শাকসবজির উৎপাদন কম হয়েছে। ধানের আবাদ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। পণ্য সরবরাহ চেইন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

 
×