সরকারের ব্যাংক ঋণ নির্ভরতায় সমস্যা দেখছে না ডিসিসিআই

  যুগান্তর রিপোর্ট ২১ জানুয়ারি ২০২০, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সরকার চলতি অর্থবছরে নির্ধারিত ব্যাংক ঋণ প্রথম ৬ মাসেই নিয়ে ফেলেছে। এ কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক মুদ্রানীতিও সংশোধন করেছে, যা নিয়ে অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তবে সরকারের এই ব্যাংক ঋণ নির্ভরতরাকে সমস্যা হিসেবে দেখছে না ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। সংগঠনটি মনে করছে, বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহে প্রভাব পড়বে না। এমনকি বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি এবং খেলাপি ঋণকেও সমস্যা মনে করছে না সংগঠনটি।

সোমবার মতিঝিলের ডিসিসিআই কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ অভিমত তুলে ধরেন সংগঠনটির সভাপতি শামস মাহমুদ। সংগঠনটির বর্ষব্যাপী কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের অভিহিত করতে মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।

সরকারের ব্যাংক নির্ভরতা বেসরকারি বিনিয়োগকে বাধাগ্রস্ত করবে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে শামস মাহমুদ বলেন, বাজেটের ঘাটতি মেটাতে সরকার অস্বাভাবিক হারে যে ঋণ নিচ্ছে তা বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহের জন্য কোনো সমস্যা নয়। কারণ সরকার ব্যাংক থেকে ঋণ নিচ্ছে দেশের অবকাঠামো খাতের উন্নয়নের জন্য। এ খাতের উন্নয়ন হলে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে। এতে বেসরকারি খাতে তেমন প্রভাব পড়বে না। বিদেশি বিভিন্ন সংস্থা থেকে বেসরকারি খাতের ঋণ নেয়ার অনেক সুযোগ রয়েছে।

সরকার বিদ্যুতের দাম আবারও বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে, এতে শিল্পের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রতিযোগী অনেক দেশের চেয়ে বাংলাদেশে বিদ্যুতের দাম কম। সমস্যা হচ্ছে কোয়ালিটিতে। সরকার দাম বাড়িয়ে নিরবচ্ছিন্ন মানসম্পন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারলে তা উৎপাদন খরচের সঙ্গে সমন্বয় করা যাবে।

খেলাপি ঋণ প্রসঙ্গে বলেন, অগ্রসরমান অর্থনীতিতে কিছু সমস্যা থাকে। ব্যাংকিং সেক্টরেও কিছু সমস্যা আছে। তবে খেলাপি ঋণ বড় সমস্যা নয়। জাপান, ভারতসহ অনেক দেশে নন-পারফর্মিং লোন বেশি রয়েছে। ভারতে বিতরণকৃত ঋণের ১১ শতাংশই খেলাপি। অনেকে ঋণ নিয়ে কারখানা স্থাপন করেন। কিন্তু গ্যাস-বিদ্যুতের সমস্যার কারণে উৎপাদনে যেতে পারেন না। ফলে সঠিক সময়ে ঋণ পরিশোধ করতে পারেন না। তাই খেলাপি বাড়ে। তবে খেলাপি ঋণের কারণে ঋণের সুদহার ও ব্যবসা পরিচালনা ব্যয় বাড়ছে বলে মতপ্রকাশ করেন তিনি।

ব্যাংক ঋণের সুদের হার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নয় শতাংশ ব্যাংক ঋণের সুদহার বাস্তবায়ন নিয়ে বিগত বছরে বলা হয়েছে, কিন্তু সেটা পিছিয়েছে। এবার প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা চাই, ঘোষিত সময়ের মধ্যে ছয়-নয় শতাংশ সুদ হার বাস্তবায়ন হবে। এসএমই খাতে ৯ শতাংশ হারে ব্যাংক ঋণ দেয়ার আহ্বান জানান তিনি। পুঁজিবাজার নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের বিষয়টি ‘ইতিবাচক’ উল্লেখ করে ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, ‘সম্প্রতি পুঁজিবাজারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী হস্তক্ষেপ করেছেন। আমরা বিশ্বাস করি এতে সমস্যার সমাধান হবে।’

রফতানি পণ্য বহুমুখীকরণে জোর দিয়ে ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, তৈরি পোশাক রফতানি আয়ের প্রধান খাত হলেও, রফতানি আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে অন্য খাতগুলোতে উন্নতি করতে হবে। সম্ভাবনাময় খাতের উন্নয়নে তৈরি পোশাক খাতের মতো বন্ডেড ওয়ারহাউস সুবিধা, ব্যাক টু ব্যাক এলসি, কর অবকাশ সুবিধা প্রদান ও নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, তৈরি পোশাক খাত রফতানি আয়ে বড় ভূমিকা রাখলেও টেক্সটাইল খাতের অবদান কম নয়। টেক্সটাইল খাতে ব্যাংকিং সেক্টরের ঋণ আটকে আছে। একটি গার্মেন্টস করতে ২০-৫০ কোটি টাকা লাগে, কিন্তু টেক্সটাইল মিল স্থাপনে ৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে হয়। তাই তৈরি পোশাকের পাশাপাশি টেক্সটাইল খাতকে গুরুত্ব দিয়ে পলিসি গ্রহণ করতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে ১১টি খাতে চেম্বারের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। এগুলো হচ্ছে- রফতানি পণ্য বহুমুখীকরণ, দক্ষতা উন্নয়ন, অর্থনৈতিক কূটনীতি, পুঁজিবাজারের সংস্থার, বিদেশি বিনিয়োগ ও ব্যবসা সহজীকরণ সূচকে উন্নতি, জ্বালানি নিরাপত্তা, চতুর্থ শিল্প বিপ্লব, ভ্যাট-ট্যাক্স, গবেষণা ও উদ্ভাবন, অবকাঠামো ও এসএমই উন্নয়ন।

ট্যাক্স-ভ্যাট সম্পর্কে মূল প্রবন্ধে শামস মাহমুদ বলেন, এশিয়া ও বিশ্বের অন্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে কর্পোরেট ট্যাক্স হার বেশি। এ কারণে দেশি বিনিয়োগ চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। এছাড়া কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি আমদানিতে আরোপিত আগাম কর শিল্প স্থাপনে বাধা। আগামীতে কর্পোরেট কর প্রতি অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে নামিয়ে আনা এবং শিল্পের কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি আগাম কর প্রত্যাহারের আহ্বান জানান তিনি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডিসিসিআই’র ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি এন কে এ মবিন, সহসভাপতি মোহাম্মদ বাশিরউদ্দিন, পরিচালক আরমান হক, আশরাফ আহমেদ, এনামুল হক পাটোয়ারী, ইঞ্জিনিয়ার মো. আল আমিন, মো. রাশেদুল করিম মুন্না, মো. জিয়া উদ্দিন, মনোয়ার হোসেন, ইঞ্জিনিয়ার শামসুজ্জোহা চৌধুরী, এসএম জিল্লুর রহমান, ওয়াকার আহমেদ চৌধুরী প্রমুখ।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

 
×