পল্লী বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার কেনায় অনিয়ম

মুজিববর্ষে সারা দেশে শতভাগ বিদ্যুতায়ন অনিশ্চিত

  যুগান্তর রিপোর্ট ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার ক্রয়ে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) বিরুদ্ধে। অভিযোগ, এই ক্রয় প্রক্রিয়ায় সরকারি ম্যানুয়াল ও নিজেদের দরপত্রের চাহিদা উপেক্ষা করে একটি বিশেষ কোম্পানিকে কার্যাদেশ দেয়ার পাঁয়তারা করা হচ্ছে। জানা গেছে কোম্পানিটির মালিক আরইবির একজন শীর্ষ কর্মকর্তার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়। আরইবির ‘পল্লী বিদ্যুতায়ন কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে ১৫ লাখ গ্রাহক সংযোগ প্রকল্পের জন্য এই ট্রান্সফরমার ক্রয় করার কথা। এই অবস্থায় প্রকল্পটি নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, মুজিববর্ষে সারা দেশে শতভাগ বিদ্যুতায়নের অংশ হিসেবে এই প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয়েছিল। বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় ও আরইবির সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্র জানায়, ট্রান্সফরমার কেনার জন্য আরইবি গত বছর ১১ সেপ্টেম্বর দরপত্র আহ্বান করে। দরপত্রে ‘সিআরজিও’ এবং ‘অ্যামোরফস’-এই দুই ধরনের ট্রান্সফরমার সরবরাহের বিধান রাখা হয়। দরদাতা তার সুবিধামতো দুটির মধ্যে যে কোনো এক ধরনের ট্রান্সফরমার সরবরাহের জন্য দর প্রস্তাব করতে পারবেন।

গত বছর ৩০ সেপ্টেম্বর দরপ্রস্তাব খোলা ও মূল্যায়নের পর দেখা যায়, দরপত্রের চারটি প্যাকেজের মধ্যে তিনটিতে টিএস ট্রান্সফরমারস লিমিটেড নামের একটি কোম্পানি এবং একটি প্যাকেজে কনফিডেন্স ইলেকট্রিক লিমিটেড নামের আরেকটি কোম্পানি সর্বনিম্ন দরদাতা হয়। দরপত্রে দুটি কোম্পানিই অ্যামোরফস ট্রান্সফরমার সরবরাহের প্রস্তাব দেয়।

কিন্তু অভিযোগ আরইবির ওই শীর্ষ কর্মকর্তার আত্মীয়ের কোম্পানিটি দরপত্রে সর্বনিম্ন না হওয়ায় কর্তৃপক্ষ অ্যামোরফস ট্রান্সফরমার না কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। যুক্তি হিসেবে দেখায় প্রকল্পটি সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে। সরকারি অর্থায়নের কোনো প্রকল্পে অ্যামোরফস ট্রান্সফরমার কখনও ব্যবহার করা হয়নি।

আরইবির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, বর্তমানে কোম্পানির বিতরণ ব্যবস্থায় প্রায় ৯০ হাজার অ্যামোরফস ট্রান্সফরমার আছে। এটি আরইবির মোট বিতরণ ব্যবস্থার ৮ শতাংশ। প্রশ্ন উঠেছে তাহলে এগুলো কোত্থেকে এলো। দরপত্রে অ্যামোরফস ট্রান্সফরমার সরবরাহের বিধান রাখা হয়েছিল কেন? ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, বিতরণ ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী কেনার বিধান বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় থেকে প্রণীত হয়। এজন্য ক্রয় ম্যানুয়াল আছে। সেখানেও অ্যামোরফস ট্রান্সফরমার কেনা অনুমোদিত।

খোদ বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায় আগেও ওই সিন্ডিকেট ‘আরইই-এসডিপি অ্যান্ড আইডি’ প্রকল্পের দরপত্রে অ্যামোরফস ট্রান্সফরমার সরবরাহের বিধান না রেখে ফাইল প্রস্তুত করেছিল। মন্ত্রণালয় সে আপত্তি নাকচ করে দেয় এবং এ ধরনের কেনাকাটার ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়ের ম্যানুয়াল আনুসরণের নির্দেশ দেয়। জানা গেছে আরইই-এসডিপি অ্যান্ড আইডি প্রকল্পে শেষ পর্যন্ত অ্যামোরফস ট্রান্সফরমার ক্রয় করা হয়েছিল। এবার আবারও ওই সিন্ডিকেট তাদের পছন্দের কোম্পানির ট্রান্সফরমার ক্রয় করার জন্য সেই বিধান উত্থাপন করে আপত্তি জানিয়েছে। এই অবস্থায় পুরো প্রকল্পটি ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

আরও পড়ুন

'কোভিড-১৯' সর্বশেষ আপডেট

# আক্রান্ত সুস্থ মৃত
বাংলাদেশ ৫৬ ২৬
বিশ্ব ১০,০০,১৬৮২,১০,১৯১৫১,৩৫৪
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত

 
×