সংশোধিত এডিপিতে ৯৭৬ কোটি টাকা চায় ডিএমসিএল
jugantor
মেট্রোরেলের ভূমি অধিগ্রহণ
সংশোধিত এডিপিতে ৯৭৬ কোটি টাকা চায় ডিএমসিএল
রাজউকের টাকা শোধে ৩০ জুন পর্যন্ত সময় বাড়াতে চিঠি

  হামিদ-উজ-জামান  

০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মেট্রোরেলের ভূমি অধিগ্রহণের অর্থ পরিশোধে সময় চেয়েছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমসিএল)। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কাছে ৩০ জুন পর্যন্ত সময় চেয়েছে সংস্থাটি। বলা হয়েছে, সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ প্রস্তাব বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এক্ষেত্রে ৯৭৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা বরাদ্দ পেলেই পরিশোধ করা হবে। কিন্তু এজন্য চলতি অর্থবছরের শেষ সময় পর্যন্ত প্রয়োজন হবে। এ কারণে ১৫ ফেব্রুয়ারি অর্থ পরিশোধের যে তারিখ রয়েছে তার পরিবর্তে ৩০ জুন ২০২০ নির্ধারণের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। সময় চাওয়ার বিষয়টি অবহিত করতে পরিকল্পনা সচিব মো. নূরুল আমিনের কাছে চিঠি দেয়া হয়েছে।

২৭ জানুয়ারি রাজউকের কাছে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, উত্তরা সেন্টার স্টেশনসংলগ্ন ভূমিতে ট্রানজিট অরিয়েন্টেড ডেভেলপমেন্ট হাব এবং স্টেশন প্লাজার জন্য ২৮ দশমিক ৬১ একর জমি বরাদ্দ নেয়া হয়েছে। এছাড়া মেট্রোরেল স্টেশনগুলোর লিফট, এস্কেলেটর, সিঁড়ি, ফুটপাত, যাত্রী পিক বা ড্রপ ফ্যাসিলিটিজের স্থাপনা তৈরির জন্য আরও ৩ দশমিক ৬৬ একরসহ ৩২ দশমিক ২৭ একর জমির বরাদ্দ দিয়েছে রাজউক। এ জমির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৯৭৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা। পুরো অর্থ ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এককালীন অথবা তিনটি কিস্তির মাধ্যমে পরিশোধের অনুরাধ করে রাজউক। মেট্রোরেল প্রকল্পের আওতায় এক্যুইজেশন অ্যান্ড পারসেজ অব ল্যান্ড খাতে ২২৩ কোটি ৭৮ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। কিন্তু রাজউকের বরাদ্দ দেয়া জমির দাম এককালীন পরিশোধের জন্য সংশোধিত এডিপির আওতায় অতিরিক্ত বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। এটি পেতে সময় লাগায় বাড়তি সময় চাওয়া হয়েছে। ৮ জানুয়ারি এ ভূমি বরাদ্দ দিয়েছে রাজউক।

এদিকে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে মেট্রোরেলের কাজ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইচ্ছে অনুযায়ী স্বাধীনতার ৫০ বছরপূর্তি উদযাপনের বছরে এটির উদ্বোধনের জোর প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। সে হিসাবে ২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বর দেশের প্রথম এ উড়াল মেট্রোরেলের উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট প্রকল্পের প্রজেক্ট ইমপ্লিমেন্টেশন কমিটির (পিআইসি) সভায় এ তথ্য জানান প্রকল্প পরিচালক মো. আফতাব উদ্দিন তালুকদার।

সভায় জানানো হয়, ডিসেম্বর পর্যন্ত এছাড়া প্রথম পর্বের উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত অংশের অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৬৬ দশমিক ৮৫ শতাংশ। দ্বিতীয় পর্বের আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত অংশের বাস্তবায়ন হয়েছে ৩৫ দশমিক ৯৯ শতাংশ। প্রকল্পটির সার্বিক অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৪০ দশমিক ০২ শতাংশ। সেই সঙ্গে মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত নতুন সংযোগ তৈরির চলছে সোশ্যাল সার্ভের কাজও। এ সার্ভে শেষ হবে চলতি মাসেই। সূত্র জানায়, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা। ২০১২ সালের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের জুন মেয়াদে বাস্তবায়িত হচ্ছে প্রকল্পটি। নির্ধারিত মেয়াদের আগেই এটি বাস্তবায়নে ব্যাপক তৎপরতা চালাতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এছাড়া প্যাকেজ সিপি-৩ এবং সিপি-৪ বাস্তবায়ন অগ্রগতি প্রত্যাশিত মাত্রায় উন্নীত করতে সর্বাত্মক উদ্যোগ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে নতুনভাবে যুক্ত হওয়া মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত এমআরটি লাইন-৬ এর বর্ধিত অংশের জন্য চলমান সোশ্যাল সার্ভের কাজ চলতি ফেব্রুয়ারির মধ্যেই সম্পন্ন করতে তাগিদ দেয়া হয়েছে। এ অংশের জন্য একটি নতুন প্যাকেজ সিপি-৯ সংযোজন করে এটি বাস্তবায়নে ভ্যাট ও আইটিসহ ১০০ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে প্রকল্পটি সংশোধনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। নির্মাণ কাজ চলাকালীন প্রতিটি প্যাকেজে নিয়োজিত ঠিকাদারদের সঙ্গে স্বাক্ষরিত কনস্ট্রাকশন ইনভারমেন্টাল ম্যানেজমেন্ট প্লানের (সিইএমপি) বাস্তবায়ন নিয়মিত পরিবীক্ষণ করতে বলা হয়েছে। ইন্ডিপেনডেন্ট মনিটরিং গ্রুপ হিসেবে নিয়োজিত সংস্থাকে মেট্রোরেল লাইন-৬ এ অ্যালাইনমেন্ট বরাবর পানি, বায়ু এবং বর্জ্য এর প্রতিটি প্যাকেজের ত্রৈমাসিক পরিবীক্ষণ অব্যাহত রাখার তাগিদও দেয়া হয় সভায়।

প্রকল্পটির অন্যান্য অগ্রগতি সম্পর্কে সভায় জানানো হয়, এমআরটি লাইন-৬ এর জন্য ইলেকট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল সিস্টেম এবং রোলিং স্টক (রেল কোচ) ও ডিপো ইকুইপমেন্ট সংগ্রহ কাজের অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ২৫ দশমিক ২৫ শতাংশ। ইতিমধ্যেই সাড়ে ৮ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট দৃশ্যমান হয়েছে। মেট্রো ট্রেনের মকআপ (ঝুলন্ত ঘর সদৃশ) ২৬ ডিসেম্বর উত্তরা ডিপোতে এসে পৌঁছেছে।

মেট্রোরেলের ভূমি অধিগ্রহণ

সংশোধিত এডিপিতে ৯৭৬ কোটি টাকা চায় ডিএমসিএল

রাজউকের টাকা শোধে ৩০ জুন পর্যন্ত সময় বাড়াতে চিঠি
 হামিদ-উজ-জামান 
০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মেট্রোরেলের ভূমি অধিগ্রহণের অর্থ পরিশোধে সময় চেয়েছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমসিএল)। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কাছে ৩০ জুন পর্যন্ত সময় চেয়েছে সংস্থাটি। বলা হয়েছে, সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ প্রস্তাব বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এক্ষেত্রে ৯৭৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা বরাদ্দ পেলেই পরিশোধ করা হবে। কিন্তু এজন্য চলতি অর্থবছরের শেষ সময় পর্যন্ত প্রয়োজন হবে। এ কারণে ১৫ ফেব্রুয়ারি অর্থ পরিশোধের যে তারিখ রয়েছে তার পরিবর্তে ৩০ জুন ২০২০ নির্ধারণের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। সময় চাওয়ার বিষয়টি অবহিত করতে পরিকল্পনা সচিব মো. নূরুল আমিনের কাছে চিঠি দেয়া হয়েছে।

২৭ জানুয়ারি রাজউকের কাছে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, উত্তরা সেন্টার স্টেশনসংলগ্ন ভূমিতে ট্রানজিট অরিয়েন্টেড ডেভেলপমেন্ট হাব এবং স্টেশন প্লাজার জন্য ২৮ দশমিক ৬১ একর জমি বরাদ্দ নেয়া হয়েছে। এছাড়া মেট্রোরেল স্টেশনগুলোর লিফট, এস্কেলেটর, সিঁড়ি, ফুটপাত, যাত্রী পিক বা ড্রপ ফ্যাসিলিটিজের স্থাপনা তৈরির জন্য আরও ৩ দশমিক ৬৬ একরসহ ৩২ দশমিক ২৭ একর জমির বরাদ্দ দিয়েছে রাজউক। এ জমির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৯৭৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা। পুরো অর্থ ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এককালীন অথবা তিনটি কিস্তির মাধ্যমে পরিশোধের অনুরাধ করে রাজউক। মেট্রোরেল প্রকল্পের আওতায় এক্যুইজেশন অ্যান্ড পারসেজ অব ল্যান্ড খাতে ২২৩ কোটি ৭৮ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। কিন্তু রাজউকের বরাদ্দ দেয়া জমির দাম এককালীন পরিশোধের জন্য সংশোধিত এডিপির আওতায় অতিরিক্ত বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। এটি পেতে সময় লাগায় বাড়তি সময় চাওয়া হয়েছে। ৮ জানুয়ারি এ ভূমি বরাদ্দ দিয়েছে রাজউক।

এদিকে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে মেট্রোরেলের কাজ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইচ্ছে অনুযায়ী স্বাধীনতার ৫০ বছরপূর্তি উদযাপনের বছরে এটির উদ্বোধনের জোর প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। সে হিসাবে ২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বর দেশের প্রথম এ উড়াল মেট্রোরেলের উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট প্রকল্পের প্রজেক্ট ইমপ্লিমেন্টেশন কমিটির (পিআইসি) সভায় এ তথ্য জানান প্রকল্প পরিচালক মো. আফতাব উদ্দিন তালুকদার।

সভায় জানানো হয়, ডিসেম্বর পর্যন্ত এছাড়া প্রথম পর্বের উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত অংশের অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৬৬ দশমিক ৮৫ শতাংশ। দ্বিতীয় পর্বের আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত অংশের বাস্তবায়ন হয়েছে ৩৫ দশমিক ৯৯ শতাংশ। প্রকল্পটির সার্বিক অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৪০ দশমিক ০২ শতাংশ। সেই সঙ্গে মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত নতুন সংযোগ তৈরির চলছে সোশ্যাল সার্ভের কাজও। এ সার্ভে শেষ হবে চলতি মাসেই। সূত্র জানায়, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা। ২০১২ সালের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের জুন মেয়াদে বাস্তবায়িত হচ্ছে প্রকল্পটি। নির্ধারিত মেয়াদের আগেই এটি বাস্তবায়নে ব্যাপক তৎপরতা চালাতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এছাড়া প্যাকেজ সিপি-৩ এবং সিপি-৪ বাস্তবায়ন অগ্রগতি প্রত্যাশিত মাত্রায় উন্নীত করতে সর্বাত্মক উদ্যোগ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে নতুনভাবে যুক্ত হওয়া মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত এমআরটি লাইন-৬ এর বর্ধিত অংশের জন্য চলমান সোশ্যাল সার্ভের কাজ চলতি ফেব্রুয়ারির মধ্যেই সম্পন্ন করতে তাগিদ দেয়া হয়েছে। এ অংশের জন্য একটি নতুন প্যাকেজ সিপি-৯ সংযোজন করে এটি বাস্তবায়নে ভ্যাট ও আইটিসহ ১০০ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে প্রকল্পটি সংশোধনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। নির্মাণ কাজ চলাকালীন প্রতিটি প্যাকেজে নিয়োজিত ঠিকাদারদের সঙ্গে স্বাক্ষরিত কনস্ট্রাকশন ইনভারমেন্টাল ম্যানেজমেন্ট প্লানের (সিইএমপি) বাস্তবায়ন নিয়মিত পরিবীক্ষণ করতে বলা হয়েছে। ইন্ডিপেনডেন্ট মনিটরিং গ্রুপ হিসেবে নিয়োজিত সংস্থাকে মেট্রোরেল লাইন-৬ এ অ্যালাইনমেন্ট বরাবর পানি, বায়ু এবং বর্জ্য এর প্রতিটি প্যাকেজের ত্রৈমাসিক পরিবীক্ষণ অব্যাহত রাখার তাগিদও দেয়া হয় সভায়।

প্রকল্পটির অন্যান্য অগ্রগতি সম্পর্কে সভায় জানানো হয়, এমআরটি লাইন-৬ এর জন্য ইলেকট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল সিস্টেম এবং রোলিং স্টক (রেল কোচ) ও ডিপো ইকুইপমেন্ট সংগ্রহ কাজের অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ২৫ দশমিক ২৫ শতাংশ। ইতিমধ্যেই সাড়ে ৮ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট দৃশ্যমান হয়েছে। মেট্রো ট্রেনের মকআপ (ঝুলন্ত ঘর সদৃশ) ২৬ ডিসেম্বর উত্তরা ডিপোতে এসে পৌঁছেছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন