বিশ্বে নষ্ট হওয়া খাদ্যে ক্ষতি এক লাখ কোটি ডলার
jugantor
এফএওর প্রতিবেদন
বিশ্বে নষ্ট হওয়া খাদ্যে ক্ষতি এক লাখ কোটি ডলার
শিল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশে বছরে যথাক্রমে ক্ষতি ৬৮ ও ৩১ হাজার কোটি ডলার * নষ্ট হচ্ছে ১৩০ কোটি টন খাদ্যপণ্য

  যুগান্তর ডেস্ক  

০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্বের উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে প্রতিবছর যে পরিমাণ খাবার নষ্ট হয় তাতে অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে প্রায় এক লাখ কোটি ডলার। এরমধ্যে শিল্পোন্নত দেশগুলোর বছরে ৬৮ হাজার কোটি ডলার ক্ষতি হচ্ছে। উন্নয়নশীল দেশের ক্ষতি ৩১ হাজার কোটি ডলার। উন্নত দেশে ৬৭ কোটি টন ও উন্নয়নশীল দেশে প্রতি বছর ৬৩ কোটি টন খাদ্য নষ্ট হচ্ছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) এক প্রতিবেদনে সম্প্রতি এসব তথ্য ওঠে এসেছে।

এফএওর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতি বছর বিশ্বে খাদ্যদ্রব্যের যতটা উৎপাদন হয়, তার এক-তৃতীয়াংশই নষ্ট হচ্ছে। চাল, গম, ডালের মতো দানাশস্য যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনই নষ্ট হচ্ছে শাক-সবজি, ফল, দুধ, মাছ-মাংসও। সব মিলিয়ে নষ্ট হওয়া খাবারের পরিমাণ বছরে ১৩০ কোটি টন। এই তথ্য ভয়ঙ্কর। কারণ, অক্সফোর্ড বিশ্বিবদ্যালয়ের গবেষক ম্যাক্স রোসার ও হানা রিটশির গবেষণা জানাচ্ছে, বিশ্বের প্রায় ৮২ কোটি মানুষ অপুষ্টিতে ভোগেন। ৬৯ কোটি লোকের খাদ্য একেবারেই সুরক্ষিত নয়। ১৮০ কোটি মানুষের খাদ্য সুরক্ষা মাঝারি স্তরে রয়েছে। অর্থাৎ তারাও প্রয়োজনীয় খাদ্য পান না।

এফএও জানিয়েছে, ৩০ শতাংশ দানাশস্য, ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ আলু, পেঁয়াজ, গাজর, বিটের মতো মাটির নিচের সবজি এবং ফল ও অন্য সবজি, ২০ শতাংশ তৈলবীজ, মাংস ও দুগ্ধজাত সামগ্রী এবং ৩৫ শতাংশ মাছ নষ্ট হচ্ছে। প্রতি বছর ধনী দেশগুলো ২২ কোটি টন খাবার নষ্ট করে, যা আফ্রিকায় দক্ষিণ সাহারার দেশগুলোর মোট উৎপাদনের (২৩ কোটি টন) প্রায় সমান। যে পরিমাণ খাদ্য নষ্ট হয় তা বিশ্বে মোট যে খাদ্যশস্য উৎপাদন হয় তার অর্ধেকের বেশি। ২০০৯-১০ সালে মোট খাদ্যশস্য উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ২৩০ কোটি টন। এফএও-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, সারা বিশ্বে অন্তত ৮২ কোটি মানুষ রাতে না খেয়েই ঘুমাতে যায়। আবার বিশ্বের প্রায় ২০০ কোটি মানুষ অতিরিক্ত খাবার খেয়ে খুব মোটা হয়ে গেছে।

ভারতে যোজনা কমিশনের সাবেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা অমিতাভ রায় জানান, আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশের কাছে সমস্যাটা হল উৎপাদনের পর প্যাকেজিং, সংরক্ষণ এবং প্রক্রিয়াকরণের। আর বিদেশে কৃষিজাত পণ্যের ভ্যালু এডিশন হয়, কারখানায় গিয়ে প্রসেসিং হয়, তারপর তা দোকানে পৌঁছায়, তাই দাম বেড়ে যায়। সে জন্য আর্থিক দিক থেকে ক্ষতির অঙ্কটা উন্নত দেশে বেশি। ওদের খাবার নষ্ট হওয়ার কারণ, বাজারে প্রচুর প্রসেসড খাবার আসে। তা কতদিনের মধ্যে খাওয়া নিরাপদ তার একটা তারিখ থাকে। অনেক সময় চাহিদা কমে গেলে তারিখ পেরিয়ে যায়, খাবার বিক্রি হয় না। নষ্ট হয়। আমাদের এখানে প্রক্রিয়াকরণের অভাবে, ঠিকমতো সংরক্ষণের অভাবে প্রচুর খাদ্য নষ্ট হয়। এফএওর তথ্য মতে, ইউরোপ ও উত্তর অ্যামেরিকায় জনপ্রতি খাবার নষ্টের পরিমাণ ৯৫ থেকে ১১৫ কেজি। এটাই সাহারার দক্ষিণের দেশ, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এসে কমে দাঁড়াচ্ছে ৬ থেকে ১১ কেজি। ধনী দেশগুলোতে জনপ্রতি বছরে ৯০০ কেজি খাবার খেয়ে থাকেন। আর গরিব অঞ্চলে বছরে জনপ্রতি উৎপাদন হয় ৪৬০ কেজি। উন্নয়নশীল দেশে শস্য তুলে নেয়ার পর ও প্রক্রিয়াকরণের সময় ৪০ শতাংশ ক্ষতি হয়। উন্নত দেশে ক্ষতি হয় বিক্রির সময় ও ক্রেতাদের হাতে খাবার আসার পর। দোকানে আসার পর বিপুল পরিমাণ খাবার নষ্ট হয় গুণগত মানের ওপর বাড়তি গুরুত্ব দেয়ার কারণে। খুব স্বাভাবিকভাবেই খাদ্য নষ্ট হওয়ার অর্থ প্রাকৃতিক সম্পদ নয়-ছয় করা। কারণ খাদ্য উৎপাদনে জল, জমি, শক্তি, শ্রম, অর্থ ব্যয় হয়েছে। গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ হয়েছে। তা বিশ্ব উষ্ণায়ন ও আবহাওয়া বদলের কারণে হয়েছে। এফএও বলছে, উন্নয়নশীল দেশে উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে চাষ, সংরক্ষণের ওপর নজর দিতে হবে এবং সাপ্লাই চেন ভালো করতে হবে, কৃষকদের সরাসরি সাহায্য করতে হবে।

এফএওর প্রতিবেদন

বিশ্বে নষ্ট হওয়া খাদ্যে ক্ষতি এক লাখ কোটি ডলার

শিল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশে বছরে যথাক্রমে ক্ষতি ৬৮ ও ৩১ হাজার কোটি ডলার * নষ্ট হচ্ছে ১৩০ কোটি টন খাদ্যপণ্য
 যুগান্তর ডেস্ক 
০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিশ্বের উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে প্রতিবছর যে পরিমাণ খাবার নষ্ট হয় তাতে অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে প্রায় এক লাখ কোটি ডলার। এরমধ্যে শিল্পোন্নত দেশগুলোর বছরে ৬৮ হাজার কোটি ডলার ক্ষতি হচ্ছে। উন্নয়নশীল দেশের ক্ষতি ৩১ হাজার কোটি ডলার। উন্নত দেশে ৬৭ কোটি টন ও উন্নয়নশীল দেশে প্রতি বছর ৬৩ কোটি টন খাদ্য নষ্ট হচ্ছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) এক প্রতিবেদনে সম্প্রতি এসব তথ্য ওঠে এসেছে।

এফএওর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতি বছর বিশ্বে খাদ্যদ্রব্যের যতটা উৎপাদন হয়, তার এক-তৃতীয়াংশই নষ্ট হচ্ছে। চাল, গম, ডালের মতো দানাশস্য যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনই নষ্ট হচ্ছে শাক-সবজি, ফল, দুধ, মাছ-মাংসও। সব মিলিয়ে নষ্ট হওয়া খাবারের পরিমাণ বছরে ১৩০ কোটি টন। এই তথ্য ভয়ঙ্কর। কারণ, অক্সফোর্ড বিশ্বিবদ্যালয়ের গবেষক ম্যাক্স রোসার ও হানা রিটশির গবেষণা জানাচ্ছে, বিশ্বের প্রায় ৮২ কোটি মানুষ অপুষ্টিতে ভোগেন। ৬৯ কোটি লোকের খাদ্য একেবারেই সুরক্ষিত নয়। ১৮০ কোটি মানুষের খাদ্য সুরক্ষা মাঝারি স্তরে রয়েছে। অর্থাৎ তারাও প্রয়োজনীয় খাদ্য পান না।

এফএও জানিয়েছে, ৩০ শতাংশ দানাশস্য, ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ আলু, পেঁয়াজ, গাজর, বিটের মতো মাটির নিচের সবজি এবং ফল ও অন্য সবজি, ২০ শতাংশ তৈলবীজ, মাংস ও দুগ্ধজাত সামগ্রী এবং ৩৫ শতাংশ মাছ নষ্ট হচ্ছে। প্রতি বছর ধনী দেশগুলো ২২ কোটি টন খাবার নষ্ট করে, যা আফ্রিকায় দক্ষিণ সাহারার দেশগুলোর মোট উৎপাদনের (২৩ কোটি টন) প্রায় সমান। যে পরিমাণ খাদ্য নষ্ট হয় তা বিশ্বে মোট যে খাদ্যশস্য উৎপাদন হয় তার অর্ধেকের বেশি। ২০০৯-১০ সালে মোট খাদ্যশস্য উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ২৩০ কোটি টন। এফএও-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, সারা বিশ্বে অন্তত ৮২ কোটি মানুষ রাতে না খেয়েই ঘুমাতে যায়। আবার বিশ্বের প্রায় ২০০ কোটি মানুষ অতিরিক্ত খাবার খেয়ে খুব মোটা হয়ে গেছে।

ভারতে যোজনা কমিশনের সাবেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা অমিতাভ রায় জানান, আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশের কাছে সমস্যাটা হল উৎপাদনের পর প্যাকেজিং, সংরক্ষণ এবং প্রক্রিয়াকরণের। আর বিদেশে কৃষিজাত পণ্যের ভ্যালু এডিশন হয়, কারখানায় গিয়ে প্রসেসিং হয়, তারপর তা দোকানে পৌঁছায়, তাই দাম বেড়ে যায়। সে জন্য আর্থিক দিক থেকে ক্ষতির অঙ্কটা উন্নত দেশে বেশি। ওদের খাবার নষ্ট হওয়ার কারণ, বাজারে প্রচুর প্রসেসড খাবার আসে। তা কতদিনের মধ্যে খাওয়া নিরাপদ তার একটা তারিখ থাকে। অনেক সময় চাহিদা কমে গেলে তারিখ পেরিয়ে যায়, খাবার বিক্রি হয় না। নষ্ট হয়। আমাদের এখানে প্রক্রিয়াকরণের অভাবে, ঠিকমতো সংরক্ষণের অভাবে প্রচুর খাদ্য নষ্ট হয়। এফএওর তথ্য মতে, ইউরোপ ও উত্তর অ্যামেরিকায় জনপ্রতি খাবার নষ্টের পরিমাণ ৯৫ থেকে ১১৫ কেজি। এটাই সাহারার দক্ষিণের দেশ, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এসে কমে দাঁড়াচ্ছে ৬ থেকে ১১ কেজি। ধনী দেশগুলোতে জনপ্রতি বছরে ৯০০ কেজি খাবার খেয়ে থাকেন। আর গরিব অঞ্চলে বছরে জনপ্রতি উৎপাদন হয় ৪৬০ কেজি। উন্নয়নশীল দেশে শস্য তুলে নেয়ার পর ও প্রক্রিয়াকরণের সময় ৪০ শতাংশ ক্ষতি হয়। উন্নত দেশে ক্ষতি হয় বিক্রির সময় ও ক্রেতাদের হাতে খাবার আসার পর। দোকানে আসার পর বিপুল পরিমাণ খাবার নষ্ট হয় গুণগত মানের ওপর বাড়তি গুরুত্ব দেয়ার কারণে। খুব স্বাভাবিকভাবেই খাদ্য নষ্ট হওয়ার অর্থ প্রাকৃতিক সম্পদ নয়-ছয় করা। কারণ খাদ্য উৎপাদনে জল, জমি, শক্তি, শ্রম, অর্থ ব্যয় হয়েছে। গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ হয়েছে। তা বিশ্ব উষ্ণায়ন ও আবহাওয়া বদলের কারণে হয়েছে। এফএও বলছে, উন্নয়নশীল দেশে উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে চাষ, সংরক্ষণের ওপর নজর দিতে হবে এবং সাপ্লাই চেন ভালো করতে হবে, কৃষকদের সরাসরি সাহায্য করতে হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন