শেষ মুহূর্তে জমজমাট বাণিজ্য মেলা
jugantor
শেষ মুহূর্তে জমজমাট বাণিজ্য মেলা

  যুগান্তর রিপোর্ট  

০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পর্দা নামতে আর মাত্র ১ দিন বাকি। শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। দু’দিন বন্ধ থাকার পর রোববার মেলায় মানুষের ঢল নামে। বিকালের পর প্রবেশের সব পথেই ছিল মানুষের দীর্ঘ সারি। স্টল-প্যাভিলিয়নে শেষ মুহূর্তের আখেরি অফার আর ছাড়ের কারণে মেলায় আগতদের সবাই কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় পার করেন। ক্রেতাদের সামাল দিতে ঘাম ঝরেছে বিক্রয়কর্মীদের। যান চলাচল স্বাভাবিত রাখতে ট্রাফিক পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়েছে। সরেজমিন মেলা ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়।

দেখা গেছে, সকাল থেকেই ক্রেতা-দর্শনার্থীর সমাগমে মুখরিত ছিল মেলা প্রাঙ্গণ। প্রতিটি স্টল-প্যাভিলিয়নেই ক্রেতা সামলাতে হিমশিম খেতে হয়েছে বিক্রেতাদের। মেলা শেষ হওয়ার একদিন বাকি থাকায় ক্রেতাদের মধ্যেও যেমন ছিল প্রয়োজনীয় পণ্য কেনার তাড়া, তেমনি বিক্রেতাদের মধ্যেও শেষ পর্যন্ত যতটা সম্ভব পণ্য বিক্রি করেই মেলা শেষ করার তাগাদা ছিল। মেলায় প্রায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সমাগম থাকলেও তরুণ-তরুণীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। আর সব স্টলে মানুষের ভিড় থাকলেও দেশি-বিদেশি ইলেকট্রনিক্স পণ্যের প্যাভিলিয়নে তুলনামূলক ভিড় বেশি ছিল। মেলা-ফিরতি মানুষের হাতেও গৃহস্থালি পণ্যই বেশি দেখা গেছে। দেশের খ্যাতনামা ইলেকট্রনিক্স পণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান যমুনা ইলেকট্রনিক্সের হেড অব ট্রেড মার্কেটিং রেজাউর রহমান বলেন, অন্যবারের তুলনায় এবার মেলায় লোকসমাগম কম হয়েছে। সিটি নির্বাচনসহ অন্য কারণে মেলা কয়েকদিন বন্ধ ছিল। এর মধ্যে শুক্রবারও পড়েছে। সাধারণত মেলায় শুক্রবারই বেশি ভিড় হয়। তবে শেষ দিকে মেলায় ক্রেতার সংখ্যা বেড়েছে। তিনি বলেন, এবারের মেলায় দেশীয় ইলেকট্রনিক্স কোম্পানিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছাড় দিয়েছে যমুনা ইলেকট্রনিক্স, সঙ্গে ক্যাশ ভাউচারও দেয়া হচ্ছে। এতে ক্রেতাদের ভালো সাড়া পাওয়া গেছে। সাশ্রয়ী দামে সর্বোচ্চ মানের পণ্য ক্রেতার হাতে তুলে দিতে যমুনা সর্বদা কাজ করে যাচ্ছে। ক্রেতাদের জন্য প্রতিনিয়ত নিয়ে আসছে নিত্যনতুন ডিজাইনের ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী। যেখানে অন্য সব প্রতিষ্ঠান শুধু বিজ্ঞাপননির্ভর, চটকদার বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ক্রেতাদের প্রতারিত করছে। সেখানে বিশ্বমানের আরওএইচএস সার্টিফিকেট পেয়েই যমুনা ইলেকট্রনিক্স ভোক্তাসাধারণকে সেবা প্রদান করে আসছে।

রাজধানীর পল্লবী থেকে মেলায় কেনাকাটা করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী আসাদুর রহমান বলেন, প্রতিবছর শেষ দিকে মেলায় ঘুরতে আসি। ইচ্ছে ছিল শুক্রবার মেলায় আসব। কিন্তু সিটি নির্বাচনের কারণে মেলা বন্ধ থাকায় আসা হয়নি। তাই আজ (রোববার) অফিস থেকে ছুটি নিয়ে আগেভাগেই মেলায় এসেছি। কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় গৃহস্থালি সামগ্রী কিনেছি। অবশ্য আনন্দ নিয়ে কেনাকাটার পর মেলা থেকে বের হয়ে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন ছোট ছোট বাচ্চা নিয়ে আসা অভিভাবকরা। মেলা থেকে বের হওয়ার পর যাদের নিজস্ব বাহন নেই, তাদের বিড়ম্বনা অনেকটাই বেশি। সিএনজি অটোরিকশার অভাব না থাকেলও একেকজন দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ ভাড়া হাঁকছেন। অনেকে বাধ্য হয়েই অস্বাভাবিক ভাড়া মেনে নিয়েই সিএনজিতে উঠছেন। আবার অনেকে হেঁটে মূল সড়কে যান বাসের জন্য। কিন্তু যাত্রী বেশি হওয়ায় বাসে উঠতেও হিমশিম খেতে হয়েছে তাদের। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে নারী ও শিশুদের।

শেষ মুহূর্তে জমজমাট বাণিজ্য মেলা

 যুগান্তর রিপোর্ট 
০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

পর্দা নামতে আর মাত্র ১ দিন বাকি। শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। দু’দিন বন্ধ থাকার পর রোববার মেলায় মানুষের ঢল নামে। বিকালের পর প্রবেশের সব পথেই ছিল মানুষের দীর্ঘ সারি। স্টল-প্যাভিলিয়নে শেষ মুহূর্তের আখেরি অফার আর ছাড়ের কারণে মেলায় আগতদের সবাই কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় পার করেন। ক্রেতাদের সামাল দিতে ঘাম ঝরেছে বিক্রয়কর্মীদের। যান চলাচল স্বাভাবিত রাখতে ট্রাফিক পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়েছে। সরেজমিন মেলা ঘুরে এ চিত্র দেখা যায়।

দেখা গেছে, সকাল থেকেই ক্রেতা-দর্শনার্থীর সমাগমে মুখরিত ছিল মেলা প্রাঙ্গণ। প্রতিটি স্টল-প্যাভিলিয়নেই ক্রেতা সামলাতে হিমশিম খেতে হয়েছে বিক্রেতাদের। মেলা শেষ হওয়ার একদিন বাকি থাকায় ক্রেতাদের মধ্যেও যেমন ছিল প্রয়োজনীয় পণ্য কেনার তাড়া, তেমনি বিক্রেতাদের মধ্যেও শেষ পর্যন্ত যতটা সম্ভব পণ্য বিক্রি করেই মেলা শেষ করার তাগাদা ছিল। মেলায় প্রায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সমাগম থাকলেও তরুণ-তরুণীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। আর সব স্টলে মানুষের ভিড় থাকলেও দেশি-বিদেশি ইলেকট্রনিক্স পণ্যের প্যাভিলিয়নে তুলনামূলক ভিড় বেশি ছিল। মেলা-ফিরতি মানুষের হাতেও গৃহস্থালি পণ্যই বেশি দেখা গেছে। দেশের খ্যাতনামা ইলেকট্রনিক্স পণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান যমুনা ইলেকট্রনিক্সের হেড অব ট্রেড মার্কেটিং রেজাউর রহমান বলেন, অন্যবারের তুলনায় এবার মেলায় লোকসমাগম কম হয়েছে। সিটি নির্বাচনসহ অন্য কারণে মেলা কয়েকদিন বন্ধ ছিল। এর মধ্যে শুক্রবারও পড়েছে। সাধারণত মেলায় শুক্রবারই বেশি ভিড় হয়। তবে শেষ দিকে মেলায় ক্রেতার সংখ্যা বেড়েছে। তিনি বলেন, এবারের মেলায় দেশীয় ইলেকট্রনিক্স কোম্পানিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছাড় দিয়েছে যমুনা ইলেকট্রনিক্স, সঙ্গে ক্যাশ ভাউচারও দেয়া হচ্ছে। এতে ক্রেতাদের ভালো সাড়া পাওয়া গেছে। সাশ্রয়ী দামে সর্বোচ্চ মানের পণ্য ক্রেতার হাতে তুলে দিতে যমুনা সর্বদা কাজ করে যাচ্ছে। ক্রেতাদের জন্য প্রতিনিয়ত নিয়ে আসছে নিত্যনতুন ডিজাইনের ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী। যেখানে অন্য সব প্রতিষ্ঠান শুধু বিজ্ঞাপননির্ভর, চটকদার বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ক্রেতাদের প্রতারিত করছে। সেখানে বিশ্বমানের আরওএইচএস সার্টিফিকেট পেয়েই যমুনা ইলেকট্রনিক্স ভোক্তাসাধারণকে সেবা প্রদান করে আসছে।

রাজধানীর পল্লবী থেকে মেলায় কেনাকাটা করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী আসাদুর রহমান বলেন, প্রতিবছর শেষ দিকে মেলায় ঘুরতে আসি। ইচ্ছে ছিল শুক্রবার মেলায় আসব। কিন্তু সিটি নির্বাচনের কারণে মেলা বন্ধ থাকায় আসা হয়নি। তাই আজ (রোববার) অফিস থেকে ছুটি নিয়ে আগেভাগেই মেলায় এসেছি। কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় গৃহস্থালি সামগ্রী কিনেছি। অবশ্য আনন্দ নিয়ে কেনাকাটার পর মেলা থেকে বের হয়ে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন ছোট ছোট বাচ্চা নিয়ে আসা অভিভাবকরা। মেলা থেকে বের হওয়ার পর যাদের নিজস্ব বাহন নেই, তাদের বিড়ম্বনা অনেকটাই বেশি। সিএনজি অটোরিকশার অভাব না থাকেলও একেকজন দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ ভাড়া হাঁকছেন। অনেকে বাধ্য হয়েই অস্বাভাবিক ভাড়া মেনে নিয়েই সিএনজিতে উঠছেন। আবার অনেকে হেঁটে মূল সড়কে যান বাসের জন্য। কিন্তু যাত্রী বেশি হওয়ায় বাসে উঠতেও হিমশিম খেতে হয়েছে তাদের। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে নারী ও শিশুদের।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন