প্রশিক্ষণ নিতে বিদেশ যাবেন ২৭ কর্মকর্তা
jugantor
বাংলাদেশ-ভারত পাইপলাইন প্রকল্প
প্রশিক্ষণ নিতে বিদেশ যাবেন ২৭ কর্মকর্তা
ব্যয় হবে ২ কোটি ৫ লাখ টাকা * একনেকে উঠছে মঙ্গলবার

  হামিদ-উজ-জামান  

০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ভারত থেকে জ্বালানি তেল আনতে পাইপলাইন তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ প্রকল্পের আওতায় আন্তঃদেশীয় পাইপলাইন অপারেশন ও মেইন্টেনেন্স বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিতে বিদেশ যাবেন ২৭ কর্মকর্তা। এজন্য ব্যয় হবে ২ কোটি ৫ লাখ টাকা। যদিও প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় পরিকল্পনা কমিশন এবং উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ প্রশিক্ষণের সংস্থান যৌক্তিকভাবে রাখার কথা উল্লেখ করেছে। ‘ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন প্রকল্পের প্রয়োজনীয় ভূমি অধিগ্রহণ ও হুকুম দখল এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুবিধাদি উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় কর্মকর্তারা বিদেশে যাবেন। আগামী মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে উপস্থাপন করা হচ্ছে প্রকল্পটি।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পরিকল্পনা সচিব মো. নূরুল আমিন বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, এর আগেই বিভাগ পর্যায়ে বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই হয়েছে। কিন্তু তারপরও একনেকে যখন প্রকল্প প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয় তখনও অনেক বিষয় আলোচনায় আসে। সবাই অংশগ্রহণ করে মতামত দেয়। তারপরই চূড়ান্ত অনুমোদন করে একনেক। সুতরাং এক্ষেত্রে একনেকের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তার আগে আমরা কোনোকিছুই বলতে পারি না।

সূত্র জানায়, বিদেশ থেকে আমদানি করা জ্বালানি পরিবহনে আসছে ব্যাপক পরিবর্তন। ট্যাঙ্কার, নৌকা বা রেলের বগিতে পরিবহনের প্রচলিত পদ্ধতির পরিবর্তে এখন থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি নিয়ে আসা হবে। এজন্য ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন। ফলে আধুনিক এ পদ্ধতির প্রয়োগ করায় জ্বালানি তেলের পরিবহনে লোকসান এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব হবে। সেই সঙ্গে যেকোনো প্রতিকূল পরিবেশেও জ্বালানি পরিবহন, পরিচালন ও সরবরাহ ব্যবস্থা আরও আধুনিক, সহজতর, নিবিঘ্ন ও সুদৃঢ় হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এজন্য প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। এটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৩০৬ কোটি ২৩ লাখ টাকা।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভারতের নুমালীগড় রিফাইনারির শিলিগুড়ির মার্কেটিং টার্মিনাল থেকে পার্বতীপুর ডিপো পর্যন্ত ১৩০ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপন করা হবে। দীর্ঘ ১০ ইঞ্চি ব্যাসবিশিষ্ট এই পাইপলাইনটি ভারত অংশে ৫ কিলোমিটার এবং বাংলাদেশ অংশে ১২৫ কিলোমিটার মাটির নিচ দিয়ে স্থাপন করা হবে। অনুমোদন পেলে চলতি বছর থেকে ২০২১ সালের জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের আওতাধীন মেঘনা পেট্রোলিয়াম।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, দেশে পেট্রোলিয়াম পণ্যের বর্তমান বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৫৯ লাখ টন। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অগ্রগতি, প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা ও জোগানের তারতম্যের কারণে পেট্রোলিয়াম পণ্যের চাহিদা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাবে। ২০২১ সালের পর দেশের পুরাতন বিভিন্ন ফিল্ড থেকে গ্যাস উত্তোলন কমতে থাকবে। দেশের আর কোন নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত না হলে পেট্রোলিয়াম পণ্য চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে। বর্তমানে যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, কৃষি ও শিল্প খাতে পরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদা বেড়েই চলছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে কৃষিজাত পণ্য উৎপাদনের পাশাপাশি বর্তমানে শিল্প কারখানাও স্থাপিত হচ্ছে। এ অঞ্চলে তেলের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৫ দশমিক ৮ লাখ টন। নভেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত উত্তরাঞ্চলের কৃষি সেচ মৌসুম হিসেবে বিবেচিত হয়। ওই সময়ে এসব এলাকায় জ্বালানি তেলের চাহিদা অনেকাংশে বৃদ্ধি পায়। উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে রেল ও নৌপথের মাধ্যমে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়। নৌপথে সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ী ও কুড়িগ্রামের চিলমারী এবং রেলপথে চট্টগ্রাম হতে কোস্টাল ট্যাঙ্কারের মাধ্যমে খুলনার দৌলতপুর ডিপোতে তেল সরবরাহ করা হয়। পরবর্তীতে দৌলতপুর হতে রেল ওয়াগনের মাধ্যমে দিনাজপুরের পার্বতীপুর, রংপুর, নাটোর, রাজশাহী ও হরিয়ানা তেল ডিপোতে সরবরাহ করা হয়। রেলওয়ে ইঞ্জিন ও ওয়াগন সংকটসহ বিভিন্ন কারণে দেশের উত্তরাঞ্চলে জ্বালানি তেল পরিবহন বা সরবরাহ খুবই কষ্টসাধ্য হয়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে সময়মতো ওয়াগন পৌঁছানো সম্ভব না হলে মজুদ তেলে স্বল্পতা দেখা দেয়। সেচ মৌসুমে জ্বালানি তেল পরিবহন সরবরাহ বিঘ্নিত হলে তা কৃষিকাজে ব্যাপক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। তাছাড়া বিদ্যমান পরিবহন ব্যবস্থা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। সেই সঙ্গে নদী পথের নাব্যতা দিন দিন কমে যাচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে উত্তরাঞ্চলে জ্বালানি তেল সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে ভারতের নুমালীগড় রিফাইনারির ডিজেল শিলিগুড়ির মার্কেটিং টার্মিনাল থেকে দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপোতে পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এজন্য প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

বাংলাদেশ-ভারত পাইপলাইন প্রকল্প

প্রশিক্ষণ নিতে বিদেশ যাবেন ২৭ কর্মকর্তা

ব্যয় হবে ২ কোটি ৫ লাখ টাকা * একনেকে উঠছে মঙ্গলবার
 হামিদ-উজ-জামান 
০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

ভারত থেকে জ্বালানি তেল আনতে পাইপলাইন তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ প্রকল্পের আওতায় আন্তঃদেশীয় পাইপলাইন অপারেশন ও মেইন্টেনেন্স বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিতে বিদেশ যাবেন ২৭ কর্মকর্তা। এজন্য ব্যয় হবে ২ কোটি ৫ লাখ টাকা। যদিও প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় পরিকল্পনা কমিশন এবং উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ প্রশিক্ষণের সংস্থান যৌক্তিকভাবে রাখার কথা উল্লেখ করেছে। ‘ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন প্রকল্পের প্রয়োজনীয় ভূমি অধিগ্রহণ ও হুকুম দখল এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুবিধাদি উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় কর্মকর্তারা বিদেশে যাবেন। আগামী মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে উপস্থাপন করা হচ্ছে প্রকল্পটি।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পরিকল্পনা সচিব মো. নূরুল আমিন বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, এর আগেই বিভাগ পর্যায়ে বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই হয়েছে। কিন্তু তারপরও একনেকে যখন প্রকল্প প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয় তখনও অনেক বিষয় আলোচনায় আসে। সবাই অংশগ্রহণ করে মতামত দেয়। তারপরই চূড়ান্ত অনুমোদন করে একনেক। সুতরাং এক্ষেত্রে একনেকের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তার আগে আমরা কোনোকিছুই বলতে পারি না।

সূত্র জানায়, বিদেশ থেকে আমদানি করা জ্বালানি পরিবহনে আসছে ব্যাপক পরিবর্তন। ট্যাঙ্কার, নৌকা বা রেলের বগিতে পরিবহনের প্রচলিত পদ্ধতির পরিবর্তে এখন থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি নিয়ে আসা হবে। এজন্য ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন। ফলে আধুনিক এ পদ্ধতির প্রয়োগ করায় জ্বালানি তেলের পরিবহনে লোকসান এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব হবে। সেই সঙ্গে যেকোনো প্রতিকূল পরিবেশেও জ্বালানি পরিবহন, পরিচালন ও সরবরাহ ব্যবস্থা আরও আধুনিক, সহজতর, নিবিঘ্ন ও সুদৃঢ় হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এজন্য প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। এটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৩০৬ কোটি ২৩ লাখ টাকা।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভারতের নুমালীগড় রিফাইনারির শিলিগুড়ির মার্কেটিং টার্মিনাল থেকে পার্বতীপুর ডিপো পর্যন্ত ১৩০ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপন করা হবে। দীর্ঘ ১০ ইঞ্চি ব্যাসবিশিষ্ট এই পাইপলাইনটি ভারত অংশে ৫ কিলোমিটার এবং বাংলাদেশ অংশে ১২৫ কিলোমিটার মাটির নিচ দিয়ে স্থাপন করা হবে। অনুমোদন পেলে চলতি বছর থেকে ২০২১ সালের জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের আওতাধীন মেঘনা পেট্রোলিয়াম।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, দেশে পেট্রোলিয়াম পণ্যের বর্তমান বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৫৯ লাখ টন। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অগ্রগতি, প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা ও জোগানের তারতম্যের কারণে পেট্রোলিয়াম পণ্যের চাহিদা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাবে। ২০২১ সালের পর দেশের পুরাতন বিভিন্ন ফিল্ড থেকে গ্যাস উত্তোলন কমতে থাকবে। দেশের আর কোন নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত না হলে পেট্রোলিয়াম পণ্য চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে। বর্তমানে যোগাযোগ, বিদ্যুৎ, কৃষি ও শিল্প খাতে পরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদা বেড়েই চলছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে কৃষিজাত পণ্য উৎপাদনের পাশাপাশি বর্তমানে শিল্প কারখানাও স্থাপিত হচ্ছে। এ অঞ্চলে তেলের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৫ দশমিক ৮ লাখ টন। নভেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত উত্তরাঞ্চলের কৃষি সেচ মৌসুম হিসেবে বিবেচিত হয়। ওই সময়ে এসব এলাকায় জ্বালানি তেলের চাহিদা অনেকাংশে বৃদ্ধি পায়। উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে রেল ও নৌপথের মাধ্যমে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয়। নৌপথে সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ী ও কুড়িগ্রামের চিলমারী এবং রেলপথে চট্টগ্রাম হতে কোস্টাল ট্যাঙ্কারের মাধ্যমে খুলনার দৌলতপুর ডিপোতে তেল সরবরাহ করা হয়। পরবর্তীতে দৌলতপুর হতে রেল ওয়াগনের মাধ্যমে দিনাজপুরের পার্বতীপুর, রংপুর, নাটোর, রাজশাহী ও হরিয়ানা তেল ডিপোতে সরবরাহ করা হয়। রেলওয়ে ইঞ্জিন ও ওয়াগন সংকটসহ বিভিন্ন কারণে দেশের উত্তরাঞ্চলে জ্বালানি তেল পরিবহন বা সরবরাহ খুবই কষ্টসাধ্য হয়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে সময়মতো ওয়াগন পৌঁছানো সম্ভব না হলে মজুদ তেলে স্বল্পতা দেখা দেয়। সেচ মৌসুমে জ্বালানি তেল পরিবহন সরবরাহ বিঘ্নিত হলে তা কৃষিকাজে ব্যাপক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। তাছাড়া বিদ্যমান পরিবহন ব্যবস্থা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। সেই সঙ্গে নদী পথের নাব্যতা দিন দিন কমে যাচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে উত্তরাঞ্চলে জ্বালানি তেল সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে ভারতের নুমালীগড় রিফাইনারির ডিজেল শিলিগুড়ির মার্কেটিং টার্মিনাল থেকে দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপোতে পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এজন্য প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।