খাগড়াছড়িতে এক শিশুর মৃত্যু

রাঙ্গামাটির ছয় গ্রামে হামে আক্রান্ত দুই শতাধিক

  যুগান্তর ডেস্ক ৩০ মার্চ ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি ও খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা উপজেলায় হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। বাঘাইছড়ি উপজেলার দুর্গম সাজেক ইউনিয়নের ছয় গ্রামে নতুন করে দুই শতাধিক শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। ইতিপূর্বে ওই এলাকায় আট শিশু প্রাণ হারায়। পাঁচ শিশুকে চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে চট্টগ্রামে স্থানান্তর করা হয়। এদিকে খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় রোববার এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছে আরও ৩০ শিশু। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

রাঙ্গামাটি : জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের ভুয়াছড়ি, কজইতলী, শিলছড়ি, লাম্বাবাক, বেতবুনিয়া ও উজানছড়ি গ্রামে নতুন করে দেড় শতাধিক শিশু হামে আক্রান্ত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

এর সত্যতা স্বীকার করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. ইফতেখার আহমেদ জানান, খবর পেয়ে আমরা চিকিৎসক দল পাঠিয়েছি। রোববার আক্রান্ত শিশুদের পুরোদমে চিকিৎসা দেয়া শুরু হয়েছে। আশা করছি, পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হবে। সাজেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নেলশন চাকমা জানান, তার ইউনিয়নের ছয়টি হামে আক্রান্ত শিশুদের টিকা দিতে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের চিকিৎসক দল কাজ শুরু করেছে। সাজেকে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয় ফেব্রুয়ারিতে। বাঘাইছড়ি উপজেলার ভারত সীমান্তবর্তী দুর্গম এই ইউনিয়নের তুইচুই ও শিয়ালদাহসহ কয়েকটি পাহাড়ি গ্রামে রোগটি ছড়ায় মহামারী আকারে। এতে এক মাসের ব্যবধানে আট শিশু মারা গেছে। চকিৎসাধীন অবস্থায় সর্বশেষ ২৩ মার্চ প্রাণ হারায় সাজেক ইউনিয়নের লুঙথিয়ান পাড়ার খেতবালা ত্রিপুরা (১৩) নামে এক শিশু। ২২ মার্চ প্রাণ হারায় গোরাতি ত্রিপুরা (৯)। এর অগে একই মাসের ব্যবধানে আরও প্রাণ হারায় রোজিনা ত্রিপুরা (৮), সাগরিকা ত্রিপুরা (১১), কহেন ত্রিপুরা (৩), বিষান ত্রিপুরা (২), কোলাই ত্রিপুরা (২) ও দেড় বছরের শিশু মনি ত্রিপুরা। ২৫ মার্চ সেনাবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে হামে আক্রান্ত ৫ শিশুকে। এরা হল- প্রতিল ত্রিপুরা (৫), রোকেন্দ্র ত্রিপুরা (৬), রোকেদ্র ত্রিপুরা (৮), নহেন্দ্র ত্রিপুরা (১০) ও দীপায়ন ত্রিপুরা (১৩)। এসব শিশু হামের পাশাপাশি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। তারা চট্টগ্রামে চিকিৎসাধীন বলে জানা গেছে। সূত্র জানায়, সাজেক ইউনিয়নের অরুণপাড়ায় হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয় ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি। এতে দুই শতাধিক শিশু আক্রান্ত হয়। ২৬ ফেব্রুয়ারি হামে প্রথম প্রাণ হারায় সাগরিকা ত্রিপুরা (১৩)। তখন খবর পেয়ে বাঘাইছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. ইফতেখার আহমদের নেতৃত্বে একটি চিকিৎসক দল যায় আক্রান্ত এলাকায়। পরে অরুণপাড়াসহ পাঁচটি গ্রামে হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা ও সেবা দেয়া হয়। আক্রান্ত শিশুদের শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পাঠানো হয়েছে, ঢাকা স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরীক্ষাগারে। পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হয়।

খাগড়াছড়ি : খাগড়াছড়ির প্রত্যন্ত এলাকায় রোববার হামে এক শিশু মারা গেছে। তার নাম ধনিকা ত্রিপুরা। সে তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী। বাড়ি দীঘিনালা উপজেলার রথিচন্দ্র কার্বারী পাড়ায়। একই মহল্লায় আক্রান্ত হয়েছে আরও ৩০ শিশু। শিশুদের হামের টিকা দেয়া না হলে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। দুর্গম এলাকায় বিশেষ মেডিক্যাম্প স্থাপনের মাধ্যমে হামের প্রতিষেধক টিকা দেয়া হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। রথীচন্দ্র কার্বারী পাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিনয় ত্রিপুরা জানান, ‘সপ্তাহ খানেক আগে হামের প্রার্দুভাব শুরু হয়। এখানে চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই। গাড়ি বন্ধ থাকায় হাসপাতালেও যাওয়া যাচ্ছে না। দীঘিনালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. তনয় ত্রিপুরা জানান, হাম আক্রান্তের খবর শুনে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছি। আমরা শিশুদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিচ্ছি। ঢাকায় এদের নমুনা পাঠানো হবে। প্রয়োজনে জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপনের মাধ্যমে হামের টিকা দেয়া হবে।

 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত