করোনার ছুটিতে ২ ঘণ্টা লেনদেন

ব্যাংকে বাড়তি নিরাপত্তা

শাখার ভল্টে সীমিত টাকা রাখার নির্দেশ * বড় শাখার চার পাশে সুড়ঙ্গ খোঁড়া বা সন্দেহজনক যে কোনো কর্মকাণ্ডে সজাগ থাকতে হবে

  হামিদ বিশ্বাস ৩০ মার্চ ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবেলায় দেশে সাধারণ ছুটি চলছে। তবে সীমিত আকারে খোলা থাকছে সব ব্যাংক। ছুটি চলাকালীন শাখার নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দিয়েছে সরকারি-বেসরকারি খাতের কয়েকটি বাণিজ্যিক ব্যাংক। বিশেষ করে শাখার ভল্টে সীমিত নগদ টাকা রাখতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি বড় শাখার চার পাশে সুড়ঙ্গ খোঁড়া বা সন্দেহজনক কার্যক্রমের চেষ্টা চলছে কিনা সে বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে।

সম্প্রতি শাখাগুলোতে চিঠি পাঠিয়ে এই নির্দেশনা দিয়েছে ব্যাংকগুলোর সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রটোকল ডিভিশন। পাশাপাশি সংক্রমণ রোধে নেয়া হয়েছে জোর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা। এছাড়া ই-মেইল বা ক্ষুদে বার্তার মাধ্যমে নিজ নিজ শাখায় নিরাপত্তা জোরদারে নির্দেশনা দিয়েছে অনলাইনভিত্তিক বেশ কিছু ব্যাংক।

জানা গেছে, মহান স্বাধীনতা দিবস, সাপ্তাহিক ছুটি এবং সীমিত আকারে ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু রাখা নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে দীর্ঘ দিন ব্যাংক বন্ধ থাকাকালীন শাখা অফিসগুলোর নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দিয়ে সব শাখায় চিঠি পাঠায় সোনালী ব্যাংক। এতে বলা হয়েছে, ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটির মধ্যে ব্যাংকের শাখা এটিএম বুথ ও অফিসগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে। ব্যাংকে নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রত্যেক শাখায় একটি করে চেকলিস্ট তৈরি করতে হবে। শাখা বন্ধ করার সময় সে চেকলিস্ট অনুযায়ী বিষয়গুলো পরিপালন করতে হবে এবং একইভাবে ছুটি শেষে শাখা খোলার সময় চেকলিস্ট অনুযায়ী বিষয়গুলো লক্ষ্য করতে হবে। করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে মানুষের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে দুর্বৃত্ত কর্তৃক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পাদিত হতে পারে। তাই করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে শাখাগুলোর নিরাপত্তা বজায় রাখতে হবে। সীমিত আকারে ব্যাংকিং ব্যবস্থা পরিচালনার আওতাভুক্ত শাখাগুলোর লেনদেন পরিচালনার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। শাখার নিকটবর্তী বসবাসকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে শাখার নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে হবে। নিরাপত্তা কর্মীদের মোবাইল নম্বর সংরক্ষণ এবং দিনে-রাতে ফোন করে তাদের অবস্থান জানতে হবে। নিকটবর্তী থানা ও ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের নাম্বার দৃশ্যমান স্থানে টানাতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ শাখাগুলোর চার পাশে দিনে ও রাতে নিরাপত্তাকর্মী টহল দিচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ভবনের পাশ থেকে কোনো সুড়ঙ্গ বা সন্দেহজনক কার্যক্রমের চেষ্টা চলছে কিনা সে সম্পর্কে সজাগ থাকতে হবে। শাখার চার পাশের নিরাপত্তার স্বার্থে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করতে হবে। শাখার ভল্টে ন্যূনতম নগদ অর্থ সংরক্ষণ করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই প্রয়োজনের অতিরিক্ত নগদ টাকা সংরক্ষণ করা যাবে না। শাখার রাত্রিকালীন প্রহরা নিশ্চিত করতে হবে। অগ্নি দুর্ঘটনা মোকাবেলায় সতর্কতা এবং শাখায় স্থাপিত সিসি ক্যামেরাগুলো সচল রয়েছে কিনা সে বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে। সরকার ঘোষিত এই ছুটি চলাকালীন অনুমতি ছাড়া কোনো অবস্থাতেই স্থান ত্যাগ করতে পারবেন না শাখা ব্যবস্থাপক। শাখার নিরাপত্তার স্বার্থে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ক্রমান্বয়ে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে সব বিষয়ে অবহিত করতে হবে। শুধু সোনালী ব্যাংক নয়, এভাবে বিভিন্ন ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় বা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নিরাপত্তা বিভাগ থেকে শাখা পর্যায়ে বিভিন্ন নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

ঘোষিত সাধারণ ছুটি শুরু হয়েছে গতকাল রোববার। চলবে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত। এর মধ্যেই সীমিত আকারে ব্যাংকিং শুরু হয়েছে। সকাল দশটা থেকে বেলা দেড়টা পর্যন্ত ব্যাংক খোলা থাকলেও নগদ লেনদেন হয়েছে ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত। তবে গ্রাহক উপস্থিতি ছিল খুবই কম। গ্রাহক এবং কর্মকর্তাদের নিরাপত্তার স্বার্থে ব্যাংকের প্রতিটি শাখায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিটি প্রবেশদ্বারে হ্যান্ড স্যানিটাইজার এবং থার্মাল স্ক্যানারের ব্যবস্থা করেছে ব্যাংকগুলো।

 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত