মানা হচ্ছে না সামাজিক দূরত্ব, বাড়ছে ঝুঁকি

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৪ মে ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দেশের কোথাও সামাজিক দূরত্ব মানা হচ্ছে না। সড়ক, নৌপথ, বাজার-মহল্লা, রাস্তার মোড়, চায়ের দোকান থেকে শুরু করে পোশাকের দোকান, মার্কেট, ব্যাংক-কোথাও শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা হচ্ছে না। পাড়া-মহল্লা, ক্যাম্প-বস্তি সর্বত্র মানুষের আনাগোনা। ঈদ সামনে রেখে সরকার দোকানপাট খোলার অনুমতি দেয়ায় হার্ডওয়্যারের দোকান থেকে শুরু করে টিভি-ফ্রিজ বিক্রির দোকান পর্যন্ত খুলেছে। পাড়া-মহল্লার অলিগলি থেকে বড় রাস্তা এমনকি মহাসড়কে মানুষের আনাগোনা বেড়েছে। এতে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সর্বত্র একই রকম চিত্র দেখা গেছে।

বুধবার রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, গণপরিবহন ছাড়া সব ধরনের যানবাহন সকাল থেকে রাস্তায় নেমেছে। বিভিন্ন সড়কে অটোরিকশাসহ ছোট ছোট বাহনও দেখা গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি থাকলেও চেকপোস্টে তল্লাশি ও টহল নেই বললেই চলে। পাড়া-মহল্লা ও মোড়ে মোড়ে মানুষের ভিড়। ফিরে এসেছেন কিছু এলাকার ফুটপাতের হকাররা। দোকানপাট খুলে দেয়ায় কয়েকদিন ধরে রাস্তায় রিকশা-গাড়ির চাপ বেড়েছে। পুরান ঢাকার বংশাল, ইসলামপুর, বাংলাবাজার এলাকার দোকানপাট মোটামুটি খোলা ছিল। তবে অন্য দোকানের চেয়ে কাপড়ের মার্কেটে ভিড় বেশি। মোহাম্মদপুর জেনেভা ক্যাম্পের অবস্থা খুবই করুণ। এখানকার মানুষ কোনো রকম সামাজিক দূরত্ব মানছে না। ঘিঞ্জি পরিবেশে তারা চলছেন আগের মতোই। এখানকার দু’জন করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন আবার সুস্থও হয়েছেন। এখানকার এক বাসিন্দা যুগান্তরকে বলেন, মানুষের মনে কোনো ভয়ডর নেই। আর সামাজিক দূরত্ব মানবে ক্যামনে। খুপরি ঘরে গেজাগেজি করে বসবাস করতে হয়। মিরপুর এক নম্বরের ফুটওভারব্রিজ সংলগ্ন ফুটপাতে দু’বছর স্যান্ডেল বিক্রি করেন আবদুল আজিজ। তিনি বলেন, ছুটি ঘোষণার পর গ্রামে চলে গিয়েছিলাম। ফিরে এসে সোমবার থেকে দোকান খুলেছি। তিনি বলেন, করোনার ভয় থাকলেও কিছু করার নেই। অনেক ঋণগ্রস্ত হয়ে গেছি।

রাজধানী ঢাকা করোনার হটস্পট। দেশে মোট সংক্রমণের ৫৯ শতাংশের বেশি এ শহরে হয়েছে। ঢাকার মিরপুর, কাকরাইল, যাত্রাবাড়ী, রাজারবাগ, মহাখালী, মুগদা, লালবাগ, বাবুবাজার, মোহাম্মদপুর, তেজগাঁও ও উত্তরাসহ বেশ কয়েকটি এলাকা এখন করোনার রেড জোন। তবুও এসব এলাকায় সামাজিক দূরত্ব মানা হচ্ছে না। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোয় খাবার অথবা নিত্যপণ্যের অজুহাতে মানুষ এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যাচ্ছেন। ফলে রাস্তাঘাট, দোকানপাটে বাড়ছে ভিড়। মহল্লার অলি-গলিতে অনেকে জমিয়ে আড্ডা দিচ্ছেন। মেতে উঠছেন হাসি-তামাশায়। তিন ফুট দূরত্ব বজায় রাখার কথা বলা হলেও তা কেউ মানছে না। এ কারণে ক্রমেই ঝুঁকি বাড়ছে। আইইডিসিআর ভাইরোলজি বিভাগের প্রধান তাহমিনা শিরীন গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা এমন অনেককেই পেয়েছি যাদের কোনো লক্ষণ ছিল না। কিন্তু কোভিড-১৯ পজিটিভ। এমন মানুষ ঘোরাফেরা করলে তাদের মাধ্যমে সংক্রমণ হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে।

চৌহালী (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, করোনা মহামারীর মধ্যেই সিরাজগঞ্জের চৌহালী-এনায়েতপুর নৌ-রুটে যাত্রীবাহী ইঞ্জিনচালিত নৌকা চলাচল শুরু করেছে। বুধবার এনায়েতপুরে নৌকার যাত্রীদের গাদাগাদি করে বসে থাকতে দেখা গেছে। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় উত্তরবঙ্গের বহু যাত্রী বঙ্গবন্ধু সেতু পার হয়ে ঢাকায় প্রবেশ করছেন। প্রশাসনের নজর এড়াতে তারা বিকল্প নিরাপদ পথ হিসেবে এনায়েতপুর-চৌহালী নৌরুট ব্যবহার করছেন। এ ছাড়া ঈদ উপলক্ষে সিরাজগঞ্জে কয়েক হাজার তাঁত কারখানা চালু হওয়ায় প্রতিদিন শত শত তাঁত শ্রমিক কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন। তারাও একই নৌরুটে আসছেন। পাঁচ দিন ধরে চৌহালী-এনায়েতপুর নৌরুটে সাতটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা যাত্রী বহন করছে। এ ছাড়া জেলা ও উপজেলা সদরে প্রতিদিন যাতায়াত করছে বহু মানুষ। তবে তাদের অধিকাংশের মুখে মাস্ক থাকে না। সামাজিক দূরত্ব একেবারেই মানা হয় না। যাত্রী পরিবহনেও স্বাস্থ্য সুরক্ষার কোনো ব্যবস্থা নেই। প্রশাসনের তৎপরতাও কমে গেছে। মাঝি আল মামুন জানান, কয়েকদিন ধরে নৌকায় যাত্রী একটু বেশি হচ্ছে। তবে দূরে দূরে কেউ থাকে না।

 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত