অন্যরকম ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক

  হোসেন চিশতী সিপলু, সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) ২৩ মে ২০২০, ০০:০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রতি ঈদের আগে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে প্রতিদিন দেখা যায় একের পর এক গাড়ির হর্ন, যানবাহনের দীর্ঘ সারি বা দীর্ঘ যানজট। যানজট নিরসনে ট্রাফিক সার্জেন্ট বা ট্রাফিক পুলিশদের আপ্রাণ চেষ্টা চলে। তাদের গলদঘর্ম অবস্থা থাকে। বিশেষ করে ঈদের আগে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাঁচপুর ব্রিজ এবং শিমরাইল মোড়ে এমন দৃশ্য স্বাভাবিক থাকে। কিন্তু এসব স্থানে এবার সেই দৃশ্যের কোনো ছিটেফোঁটাও নেই। বরং এবার পুরোটাই বিপরীত দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। করোনার প্রভাবে লকডাউনে থাকা দেশ ও দূরপাল্লার পরিবহন চলাচলে সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকায় অনেকটা ফাঁকা এ মহাসড়ক। শুধু চলাচল করছে মালবাহী ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, রোগীবাহী পরিবহনসহ গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরিবহন।

পূর্বাঞ্চলের ১৮টি জেলার বাসিন্দাদের কাছে খুবই পরিচিত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাঁচপুর ব্রিজ ও শিমরাইল মোড়। পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোর বাসিন্দাদের ঢাকায় প্রবেশ করতে বা ঢাকা থেকে বের হতে এ দুটি স্পটে তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়েই চলাচল করতে হয়। আর তা হচ্ছে যানজট। বিশেষ করে ঈদে ঘরে ফেরা মানুষদের এ যানজটের কবলে ভোগান্তিতে পড়ার ঘটনা প্রায় প্রতি ঈদেই ঘটে। প্রতি বছর নাড়ির টানে ঈদে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে গ্রামের বাড়িতে ফিরতে গিয়ে অতিরিক্ত যানবাহনের ফলেই এ অবস্থার সৃষ্টি হয়। প্রতিবছর ঈদের তিন দিন বা চার দিন পূর্ব থেকে এ যানজটের মাত্রা ছাড়িয়ে যেত অসহনীয় পর্যায়ে। শিমরাইল মোড়ে আবার যানবাহনের অপেক্ষায় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় সাধারণ যাত্রীদের। পরিবহন কাউন্টারগুলোতে থাকে যাত্রীদের জটলা। কিন্তু এই ঈদে সেরকম কোনো দৃশ্য চোখে পড়ছে না।

ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জের শিরমাইল মোড় ও কাঁচপুর ব্রিজ এলাকায় শুক্রবার সেই যানজটের কোনো চিহ্নই দেখা যায়নি। বরং সাইনবোর্ডসহ এসব এলাকা ছিল অনেকটা ফাঁকা। প্রায় প্রতিটি ঈদের ৩-৪ দিন আগে এ স্পটগুলোতে দাঁড়ানোর জায়গা হতো না। ব্যস্ত থাকতে হতো নারায়ণগঞ্জ ট্রাফিক বিভাগ ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশকে। সেখানে পুরো সড়ক এখন ফাঁকা। অলস সময় পার করতে হচ্ছে নারায়ণগঞ্জ ট্রাফিক বিভাগের দায়িত্বে থাকা সদস্যরা।

এদিকে করোনার কারণে এ মহাসড়ক দিয়ে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। নারায়ণগঞ্জ জেলা ট্রাফিক বিভাগের ইন্সপেক্টর (টিআই প্রশাসন) মোল্লা তাসলিম হোসেন জানান, করোনার কারণে সরকারি নির্দেশনা থাকায় আমরা যাত্রীবাহী পরিবহনগুলো চলতে দিচ্ছি না। এতে মহাসড়কে এবার চাপ কম। যানজট নেই। পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত আমরা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের গাড়ি এবং প্রয়োজনীয় পরিবহন ছাড়া কোনো যানবাহন ঢাকা বা নারায়ণগঞ্জে প্রবেশ বা বের হতে দিচ্ছি না। জেলা পুলিশের পাশাপাশি হাইওয়ে পুলিশের কাঁচপুর এবং মদনপুরে ‘নো এন্ট্রি’ চেকপোস্টেও চলছে কার্যক্রম। তবুও নানা কৌশলে মানুষ ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ত্যাগ করতে চাইছেন। করোনা নিয়ন্ত্রণে রাখতে কোনোভাবেই সেটি হতে দেয়া হচ্ছে না।

 

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত