নমুনা সংগ্রহই নেশা ইউনুস খানের
jugantor
সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
নমুনা সংগ্রহই নেশা ইউনুস খানের

  নাসির উদ্দিন রকি, চট্টগ্রাম ব্যুরো  

২৮ জুন ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মো. ইউনুস খান চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) পদে কর্মরত। করোনা মহামারীর শুরু থেকে নমুনা সংগ্রহে ছুটছেন উপজেলার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে।

মনে অদম্য সাহস নিয়ে ছুটে চলা ইউনুসকে ছোঁয়নি করোনার ভয়। তবে চোখে-মুখে ক্লান্তির চাপ থাকলেও দমে যাননি। সরে যাননি নমুনা সংগ্রহ থেকে।

নমুনা সংগ্রহ করাই যেন এখন ইউনুসের নেশা হয়ে উঠেছে। গত ৩ মাসে সীতাকুণ্ডে এক হাজার ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ৮৫০ জনের নমুনা ইউনুস নিজেই সংগ্রহ করেন। বাকি নমুনা সংগ্রহে সহযোগিতা করেন কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি)। এ উপজেলায় বর্তমানে করোনা পজিটিভ রোগী ২৭০ জন। রাঙ্গামাটি জেলার রাজস্থলী উপজেলার বাসিন্দা ইউনুস ২০০৪ সালে খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চাকরিতে যোগদান করেন। পরে ২০০৭ সালে বদলি হন সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।

২০১১ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ৪ বছরের বিএসসি কোর্স সম্পন্ন করেন। ইউনুস জানান, ২৬ মার্চ থেকে সীতাকুণ্ডে নমুনা সংগ্রহ শুরু করেন। এর আগে কীভাবে নমুনা সংগ্রহ করা হবে, সে বিষয়ে অভিজ্ঞতার জন্য অনলাইনে একদিনের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। শনিবার পর্যন্ত এ উপজেলায় সংগৃহীত হয় ১০০০টি নমুনা। এখন পর্যন্ত একটি নমুনাও তার বাতিল হয়নি।

ইউনুস আরও জানান, শুরুতে নমুনা সংগ্রহ যথাযথ হচ্ছে কি না বা নিজে আক্রান্ত হচ্ছেন কি না, তা নিয়ে ভয় কাজ করেছিল। অপরদিকে নমুনা সংগ্রহ, সংরক্ষণ, লেবেলিং যথাযথ হচ্ছে কি না এবং ল্যাব থেকে নমুনা ফিরিয়ে দেয়ার সম্ভাবনা ইত্যাদি বিষয় মাথায় রেখে নমুনা সংগ্রহে কাজ শুরু করেন। এ জন্য প্রশিক্ষণের পাশাপাশি গুগল-ইউটিউব

থেকেও বিশ্বের অন্যান্য দেশে নমুনা সংগ্রহের বিষয়টি আয়ত্ত করেন ইউনুস।

এর মধ্যে গেল মাসে ইউনুসের শারীরিক অসুস্থতা দেখা দেয়। জ্বরের পাশাপাশি শরীরে ব্যথা দেখা দেয়। বাসায় আছে স্ত্রীসহ ছোট দুই মেয়ে সন্তান। পরীক্ষার জন্য তার নমুনা পাঠানো হয় ফৌজদারহাট বিআইটিআইডি ল্যাবে। রিপোর্ট আসার আগ পর্যন্ত তাকে পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে আলাদা থাকতে হয়।

সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রায় ৩০ জন চিকিৎসক কর্মরত আছেন। কিন্তু এর বিপরীতে টেকনোলজিস্ট আছে মাত্র একজন। সম্প্রতি সহযোগী হিসেবে একজনকে ইউনুসের সঙ্গে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নুর উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, ‘একজন ল্যাব টেকনোলজিস্ট দিয়ে নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। একজনের পক্ষে টানা নমুনা সংগ্রহ করা সম্ভব নয়। এরপরও জনবল সংকটের কারণে তাকে কাজ করতে হচ্ছে। ল্যাব টেকনোলজিস্ট মো. ইউনুস কাজে কখনও না করেন না। সব সময় হাসিমুখে কাজ করে যাচ্ছেন।’

সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

নমুনা সংগ্রহই নেশা ইউনুস খানের

 নাসির উদ্দিন রকি, চট্টগ্রাম ব্যুরো 
২৮ জুন ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

মো. ইউনুস খান চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) পদে কর্মরত। করোনা মহামারীর শুরু থেকে নমুনা সংগ্রহে ছুটছেন উপজেলার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে।

মনে অদম্য সাহস নিয়ে ছুটে চলা ইউনুসকে ছোঁয়নি করোনার ভয়। তবে চোখে-মুখে ক্লান্তির চাপ থাকলেও দমে যাননি। সরে যাননি নমুনা সংগ্রহ থেকে।

নমুনা সংগ্রহ করাই যেন এখন ইউনুসের নেশা হয়ে উঠেছে। গত ৩ মাসে সীতাকুণ্ডে এক হাজার ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ৮৫০ জনের নমুনা ইউনুস নিজেই সংগ্রহ করেন। বাকি নমুনা সংগ্রহে সহযোগিতা করেন কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি)। এ উপজেলায় বর্তমানে করোনা পজিটিভ রোগী ২৭০ জন। রাঙ্গামাটি জেলার রাজস্থলী উপজেলার বাসিন্দা ইউনুস ২০০৪ সালে খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চাকরিতে যোগদান করেন। পরে ২০০৭ সালে বদলি হন সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।

২০১১ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ৪ বছরের বিএসসি কোর্স সম্পন্ন করেন। ইউনুস জানান, ২৬ মার্চ থেকে সীতাকুণ্ডে নমুনা সংগ্রহ শুরু করেন। এর আগে কীভাবে নমুনা সংগ্রহ করা হবে, সে বিষয়ে অভিজ্ঞতার জন্য অনলাইনে একদিনের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। শনিবার পর্যন্ত এ উপজেলায় সংগৃহীত হয় ১০০০টি নমুনা। এখন পর্যন্ত একটি নমুনাও তার বাতিল হয়নি।

ইউনুস আরও জানান, শুরুতে নমুনা সংগ্রহ যথাযথ হচ্ছে কি না বা নিজে আক্রান্ত হচ্ছেন কি না, তা নিয়ে ভয় কাজ করেছিল। অপরদিকে নমুনা সংগ্রহ, সংরক্ষণ, লেবেলিং যথাযথ হচ্ছে কি না এবং ল্যাব থেকে নমুনা ফিরিয়ে দেয়ার সম্ভাবনা ইত্যাদি বিষয় মাথায় রেখে নমুনা সংগ্রহে কাজ শুরু করেন। এ জন্য প্রশিক্ষণের পাশাপাশি গুগল-ইউটিউব

থেকেও বিশ্বের অন্যান্য দেশে নমুনা সংগ্রহের বিষয়টি আয়ত্ত করেন ইউনুস।

এর মধ্যে গেল মাসে ইউনুসের শারীরিক অসুস্থতা দেখা দেয়। জ্বরের পাশাপাশি শরীরে ব্যথা দেখা দেয়। বাসায় আছে স্ত্রীসহ ছোট দুই মেয়ে সন্তান। পরীক্ষার জন্য তার নমুনা পাঠানো হয় ফৌজদারহাট বিআইটিআইডি ল্যাবে। রিপোর্ট আসার আগ পর্যন্ত তাকে পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে আলাদা থাকতে হয়।

সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রায় ৩০ জন চিকিৎসক কর্মরত আছেন। কিন্তু এর বিপরীতে টেকনোলজিস্ট আছে মাত্র একজন। সম্প্রতি সহযোগী হিসেবে একজনকে ইউনুসের সঙ্গে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নুর উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, ‘একজন ল্যাব টেকনোলজিস্ট দিয়ে নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। একজনের পক্ষে টানা নমুনা সংগ্রহ করা সম্ভব নয়। এরপরও জনবল সংকটের কারণে তাকে কাজ করতে হচ্ছে। ল্যাব টেকনোলজিস্ট মো. ইউনুস কাজে কখনও না করেন না। সব সময় হাসিমুখে কাজ করে যাচ্ছেন।’